kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

চট্টগ্রাম বন্দর সচল

সকাল থেকে বহির্নোঙর ও কর্ণফুলী ঘাটে কাজ বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৬ এপ্রিল, ২০১৯ ১৩:৪৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সকাল থেকে বহির্নোঙর ও কর্ণফুলী ঘাটে কাজ বন্ধ

নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকা ধর্মঘটে চট্টগ্রামেও পণ্যবাহী এবং যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে জাহাজ থেকে পণ্য খালাস, কর্ণফুলী নদীর ১১টি ঘাটে পণ্য ওঠানামা বন্ধ এবং বালিবাহী জাহাজ এবং জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ চলাচলও বন্ধ রয়েছে। তবে যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল সচল রয়েছে। 

ধর্মঘট নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। একটি পক্ষ গতকাল ঢাকায় শ্রমমন্ত্রীর সাথে দেখা করে ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে; আরেকটি পক্ষ সকাল থেকেই ধর্মঘট শুরু করে। এর ফলে সকাল থেকে জাহাজ চলাচল নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হলেও পরে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

অবশ্য চট্টগ্রাম বন্দরে বড় জাহাজ থেকে জেটিতে পণ্য ওঠানামা এবং জাহাজ চলাচল সবকিছুই স্বাভাবিক রয়েছে। ধর্মঘটের প্রভাব চট্টগ্রাম বন্দরে এখনও পড়েনি। 

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম কালের কণ্ঠকে বলেন, নৌযান ধর্মঘটের প্রভাব চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য ওঠানামায় পড়ার সুযোগ নেই। তবে যে জাহাজগুলো বহির্নোঙরে পণ্য নামিয়ে ওজন হাল্কা করে বন্দর জেটিতে ভিড়বে শুধুমাত্র সে সব জাহাজের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়বে। কারণ বহির্নোঙরে পণ্য নামাতে না পারলে জাহাজগুলো জেটিতে ভিড়তে দেরি হবে।

জানা গেছে, ১১ দফা দাবিতে নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন গত সোমবার দিবাগত রাত থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন শুরু করে। কিন্তু শ্রমিকদের একটি পক্ষ গত রাত ১২টায় ধর্মঘট শুরুর আগেই গত সোমবার রাতে শ্রমমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। এরপর থেকেই মূলত বিভ্রান্তি শুরু হয়। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সেই পক্ষের নেতা জাহাজি শ্রমিক ফেডারেশনের সাহাদাত হোসেনের সাথে যোগাযোগ করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। 

আন্দোলনকারী পক্ষের নেতা নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক খোরশেদ আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, যে নেতারা গতকাল মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করেছে তারা সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের দালাল। মূলত আন্দোলন নিয়ে তারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তারা দাবি-দাওয়া কিংবা আন্দোলন কোনোটাতেই ছিল না। শ্রমিকদের সাথেও তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। এ জন্যই সকাল থেকেই সর্বাত্নক ধর্মঘট চলছে।

তবে রমজানের পণ্য ওঠানামাকে জিম্মি করে কেন ধর্মঘট ডাকা হলো তার উত্তর এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, একবছর ধরেই আমরা চুক্তি অনুযায়ী পূরণের দাবি জানাচ্ছিলাম। কিন্তু বিভিন্ন কারণে ধর্মঘট ডাকা হয়ে উঠেনি। নির্বাচন, স্বাধীনতার মাস এসব পেরিয়ে এপ্রিলে ধর্মঘট ডাকলাম। 

সকাল থেকে কর্ণফুলী নদীর ঘাটে এবং বহির্নোঙরে পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে জানিয়ে লাইটার জাহাজ ঠিকাদার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হাজি শফিক আহমদ কালের কণ্ঠকে বলেন, রমজানকে ঘিরে প্রচুর পণ্য বহির্নোঙর এবং ১১টি ঘাটে খালাস হচ্ছে। এই অবস্থায় প্রশাসনের উচিত দ্রুত বিষয়টি সমাধান করা; যাতে রমজানের পণ্য পরিবহনে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা