kalerkantho

অনিবার্য কারণে আজ শেয়ারবাজার প্রকাশিত হলো না। - সম্পাদক

পরিত্যক্ত ভবনে প্রাথমিক বিদ্যালয়

আকাশ ভালো থাকলে খোলা মাঠ, আর বৃষ্টি হলে বারান্দা

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১২ এপ্রিল, ২০১৯ ১৩:৫৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আকাশ ভালো থাকলে খোলা মাঠ, আর বৃষ্টি হলে বারান্দা

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে উপজেলার মশাখালী টান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনটি ৫ বছর ধরে পরিত্যক্ত রয়েছে। আকাশ ভালো থাকলে খোলা মাঠে আর ঝড়-বৃষ্টি হলে বারান্দায় চলে পাঠ কার্যক্রম। মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অফিস কক্ষে কাজ চলছে।

বৃহস্পতিবার সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, ১৯৬০ সালে মশাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শিশু শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত ২৯৪ জন শিক্ষার্থী ও পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন। ১৯৯৫সালে বিদ্যালয়টিতে তিন কক্ষের একতলা একটি পাকা ভবন নির্মাণ করা হলেও ঠিকাদার অত্যন্ত নিম্নমানের কাজ করায় অল্প দিনের মধ্যেই ভবনটি ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। ক্লাস চলা অবস্থায় ছাদ, ওয়াল ও ভীমের পলেস্তারা খসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। এতে বিদ্যালয়ের উপস্থিতি কমতে থাকে। এ অবস্থায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও স্থানীয় সরকার বিভাগ ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিত্যক্ত ভবনেই পাঠ কার্যক্রম চলে আসছিল। 

গত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অর্থায়নে বিদ্যালয়টিতে দুই কক্ষের একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। বিদ্যালয়টিতে শিশু শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত ছয়টি শ্রেণীকক্ষ ও অফিস-কক্ষসহ সাতটি কক্ষের প্রয়োজন। কিন্তু রয়েছে মাত্র দুইটি শ্রেণীকক্ষ। এ অবস্থায় আকাশ ভালো থাকলে খোলা মাঠে আর ঝড়-বৃষ্টি হলে দুই কক্ষের ভবনের বারান্দায় গাদাগাদি করে একসাথে একাধিক শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ব্যহত হয়। 

পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আলভী, মিলা, চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী তাহমিদ ও স্পর্শ বলে,‘শ্রেণীকক্ষ না থাকায় আমাদের বসতে খুব কষ্ট হয়।’

সহকারি শিক্ষক জহিরুল কবির বলেন, পুরনো ভবনটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। এই ভবনে অফিস-কক্ষ ছাড়াও মাঠে খেলাদোলার সময় শিক্ষার্থীরা দৌড়ে চলে আসে। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

প্রধানশিক্ষক সাজিদা আক্তার বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাথে কথা বলে, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সহযোগীতায় বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে একটি টিনশেভ ঘর করার চেষ্টা করছি।

উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কুশল আহমেদ রনি বলেন, বিদ্যালয়টির অবস্থা খুবই খারাপ। পুরাতন ভবনটি পরিত্যক্ত আর নতুন ভবনে মাত্র দুইটি কক্ষ থাকায় প্রায় তিন শ’ শিক্ষার্থীর পাঠকার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হাফিজুল ইসলাম বলেন, এই বিদ্যালয়সহ উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলোর তালিকা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য