kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

জামালপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদে আলোচনা সভা

‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ বলায় তোপের মুখে বিএনপি নেতা

জামালপুর প্রতিনিধি   

২৭ মার্চ, ২০১৯ ০২:৪১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ বলায় তোপের মুখে বিএনপি নেতা

জামালপুরে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের আলোচনা সভায় ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ বলায় তোপের মুখে পড়েন বিএনপি নেতা ও সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী মো. সিরাজুল হক। বিক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধারা তার ওপর চড়াও হতে গেলে পরিস্থিতি শামাল দেন জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে জামালপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদে এ ঘটনা ঘটে। মুক্তিযোদ্ধারা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। 

জানা গেছে, জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে জামালপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদে স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভা চলছিল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর। 

অনুষ্ঠানে সাবেক সংসদ সদস্য প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা মো. রেজাউল করিম হীরা, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সৈয়দ আতিকুর রহমান ছানাসহ জেলার মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বেশ কয়েকজন বক্তার পর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা ও সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী মো. সিরাজুল হক। সিরাজুল হক তার বক্তব্যে বাংলাদেশ জিন্দাবাদের যৌক্তিকতা, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকা তৈরিসহ জিয়াউর রহমানের প্রসংশা করে বক্তব্য রাখছিলেন। সিরাজুল হকের বক্তব্য শুনে উপস্থিত আওয়ামী লীগ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছিল।

তিনি ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ বলে বক্তব্য শেষ করা মাত্রই মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতারা তুমুল হট্টগোল শুরু করেন। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধারা উচ্চস্বরে জয়বাংলা স্লোগান ধরে সিরাজুল হকের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর মুক্তিযোদ্ধাদের শান্ত করতে সক্ষম হন। পরে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম ফের শুরু হয়।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা সুজাত আলী ফকির এ প্রসঙ্গে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সিরাজুল হকরা জয়বাংলা বলেই মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। আজকে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুষ্ঠানে জয়বাংলা না বলে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলা মোটেই সমীচীন হয়নি তার। তার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ক্ষুব্ধ মুক্তিযোদ্ধারা একযোগে জয়বাংলা বলে স্লোগান ধরে তীব্র নিন্দার ঝড় তুলে সিরাজুল হকের ওপর চড়াও হতে গেলে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সংহতি জানিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন জেলা প্রশাসক। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমানের শাসনামল পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশে জয়বাংলা স্লোগান ধরতে পারেনি। আজকে জিয়াউর রহমানের অনুসারীরাই বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নস্যাৎ করতে চায়। আমরা সিরাজুল হকের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’

এ প্রসঙ্গে বিএনপির প্রবীণ নেতা ও সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা মো. সিরাজুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলেছি। আমি কেন ‘জয়বাংলা’ না বলে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বললাম এ নিয়ে আওয়ামীপন্থী মুক্তিযোদ্ধারা আমার ওপর ক্ষীপ্ত হয়ে হট্টগোল করে। আসলে তারা জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে স্বীকার করতে চান না বলেই হয়তো তাদের আঁতে ঘা লাগে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মেজর জিয়াউর রহমানের বীরত্ব গাঁথার কথা সবারই জানা আছে।’

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক আহমেদ কবীর এ প্রসঙ্গে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সাবেক উপমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক তার বক্তৃতার শেষের দিকে ‘জয়বাংলা’ না বলে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ বলায় মুক্তিযোদ্ধারা তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। এ নিয়ে হট্টগোল বেঁধে গেলে আমি উভয়পক্ষকে নিভৃত করি। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে ফের অনুষ্ঠানের কার্যক্রম চালিয়ে যাই।’ স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে উনার (সিরাজুল হকের) এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি করা ঠিক হয়নি বলেও জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা