kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

কুমিল্লায় সড়কে ঝরল দুই ছাত্রীর প্রাণ, সড়ক অবরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা   

২৭ মার্চ, ২০১৯ ০১:৫৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কুমিল্লায় সড়কে ঝরল দুই ছাত্রীর প্রাণ, সড়ক অবরোধ

ছবি: কালের কণ্ঠ

মহান স্বাধীনতা দিবসে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ ও চান্দিনায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় দুই স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত আরো ১০ ছাত্রী। দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে এক ঘণ্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে বিক্ষুব্ধ জনতা ও শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের বিক্ষোভ পণ্ড করে দেয়।

দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আনে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর ও পুলিশ পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার মোস্তফাপুর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি লেগুনা খাদে পড়ে রিনা সাহা নামে বিজয়পুর স্কুলের দশম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়। আর সকাল ৯টায় চান্দিনা উপজেলার কুটুম্বপুর এলাকায় ট্রাকচাপায় নিহত হয় মাহমুদা আক্তার ইয়াসমিন নামে নবম শ্রেণীর এক ছাত্রী।

সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সকালে লেগুনাযোগে বাড়ি থেকে উপজেলা পরিষদে যাচ্ছিল যাচ্ছিল রিনা সাহাসহ আরো ১২/১২ জন ছাত্রী। তাদের বহনকৃত লেগুনাটি উপজেলার মোস্তফাপুর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়লে ঘটনাস্থলেই ওই স্কুলছাত্রী নিহত হয়। আহত হয় আরো ১০ শিক্ষার্থী। তাদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

নিহত রিনা সাহা সদর দক্ষিণ উপজেলার বারপাড়া গ্রামের লবু সাহার মেয়ে এবং বিজয়পুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

অপরদিকে কুমিল্লার চান্দিনায় গ্যাসলাইন নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টর চাপায় মাহমুদা আক্তার ইয়াসমিন (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় চান্দিনা উপজেলার কুটুম্বপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ট্রাক্টর চালক মনোয়ার হোসেন (১৮) কে আটক করে স্থানীয়রা।

নিহত স্কুলছাত্রী মাহমুদা আক্তার ইয়াসমিন চান্দিনা উপজেলার বাতাঘাসী ইউনিয়নের নাজিরপুর গ্রামের মনির হোসেনের মেয়ে। সে কুটুম্বপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। 

এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা স্কুলের পাশের মহাসড়ক অবরোধ করে। পরে হাইওয়ে পুলিশ এসে শিক্ষার্থীদের প্রহার করে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। এ সময় পুলিশের লাঠির আঘাতে ইয়াছিন (১৬) নামে এক শিক্ষার্থী আহত হয়। তার মাথায় পেছনের অংশ ফেটে গেলে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

আহত শিক্ষার্থী ইয়াছিন জানায়, চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আমরা মহাসড়কে অবস্থান নেই। এ সময় পুলিশ এসে আমাদের এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে পুলিশের এক সদস্য লাঠি দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করে।

এ ব্যাপারে হাইওয়ে পুলিশ ইলিয়টগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) মনিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনাটি মহাসড়কে হয়নি। আঞ্চলিক সড়কে হয়েছে। আর শিক্ষার্থীরা এসে মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এ সময় শিক্ষার্থীদের সরে যেতে অনেকবার বলা হলেও তারা কথা শোনেনি।

এ ব্যাপারে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দাউদকান্দি সার্কেল) মহিদুল ইসলাম জানান, আমরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছি।

এদিকে, দুপুর সোয়া ১২টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর, জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম, চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম জাকারিয়া। জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর নিহতের পরিবারকে নগদ ২০ (বিশ হাজার) টাকা ও ৬ লক্ষ টাকার চেকসহ আর্থিক অনুদান প্রদান করেন। এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপ করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা