kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

'স্বাধীনতা বিরোধীদের জন্য গণহত্যার স্বীকৃতি পেতে দেরি হয়েছে'

ভোলা প্রতিনিধি   

২৬ মার্চ, ২০১৯ ২২:০২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'স্বাধীনতা বিরোধীদের জন্য গণহত্যার স্বীকৃতি পেতে দেরি হয়েছে'

ভোলায় স্বাধীকার অন্দোলনে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ফাতেমা খানম কলেজ মাঠে স্বাধীনতা উৎসবের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলির সদস্য, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে ভোলার বাংলাবাজার ফাতেমা খানম কলেজের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে অলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তোফায়েল আহমেদ তার রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করার পাশপাশি বঙ্গবন্ধুর অবদান তুলে ধরেন। এ সময় তিনি কলেজের শহীদ মিনার ও ছাত্রাবাসের উদ্ধোধন করেন।

এ সময় তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া বিকৃত করেছিলো। স্বাধীনতা যুদ্ধে আমাদের প্রায় ৩০ লক্ষ লোক শহীদ হয়েছিল। আর খালেদা জিয়া বলেন ৩০ লক্ষ লোক শহীদ হয়নি। তাই জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়াসহ স্বাধীনতা বিরোধীদের কারণে বিশ্বের কাছে আমাদের এই গণহত্যা দিবসের স্বীকৃতি পেতে বেগ পেতে হয়েছিল। আমরা মনে করি ২৫ মার্চ ছিলো গণহত্যা দিবস। পালামেন্টে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস পালন করার জন্য আমার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমর্থন জানিয়ে সিদ্বান্ত নেন। এখন গণহত্যা দিবস পালন করা হয়।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে ভোলার বাংলাবাজার ফাতেমা খানম ডিগ্রি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত স্বাধীনতা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। এ ছাড়া সকালে জেলা প্রশাসন আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের কুজকাওয়াজ উদ্বোধন ও জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত শোভাযাত্রা সমাবেশেও প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এমপি।

তোফায়েল আহমেদ আরো বলেন, ২৫শে মার্চ যখন প্রথম গুলিটি হয় তখন প্রথমেই জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠ বেতারে ভেসে আসে। তিনি উচ্চারণ করলেন আজ থেকে আমার বাংলাদেশ স্বাধীন। একজন বাঙালি বেঁচে থাকা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে। এটাই ছিলো বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা।

পাকিস্থানি একজন লেখকের একটি বইয়ের উধৃতি জানিয়ে সাবেক এ মন্ত্রী আরো বলেন, সেখানে ৭১ সালের ২৫ মার্চ মাসের একটি ছবিতে ক্যাপসন দিয়ে বলা হয়েছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এদেশের মানুষকে হত্যা করেছে। তার নাম জোনায়েদ আহমেদ। বেগম খালেদা জিয়া এ পাকিস্তানের পক্ষ অবলম্বন করেছেন।

ফাতেমা খানম কলেজ অনুষ্ঠানে কলেজ গর্ভনিং বাডির সভাপতি মইনুল হোসেন বিপ্লবের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার পাশপাশি উপস্থিত ছিলেন তোফায়েল আহমেদের সহধর্মিণী মিসেস আনোয়ারা আহমেদ, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মমিন টুলু, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, পুলিশ সুপার মো. মোখতার হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. রথীন্দ্র নাথ মজুমদার, উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারেফ হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক জহুরুল ইসলাম নকিব, সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর রুহুল আমিন জাহাঙ্গীর, সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর দুলাল চন্দ্র ঘোষ, সাবেক অধ্যক্ষ এম ফারুকুর রহমান, প্রেস ক্লাব সভাপতি এম হাবিবুর রহমান, প্রেস ক্লাব সাবেক সভাপতি এম এ তাহের, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. ইউনুছ, চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মো. সফিকুল ইসলাম, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সম্পাদক মো. কামাল হোসেন প্রমুখ।

পরে কৃতি শিক্ষর্থী ইখতিয়ার হোসেকে ল্যাপটপ প্রদান করা হয়। এ ছাড়া গুণীজনদের উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া হয়। আমন্ত্রিত সকল অতিথিদের উপহার দেওয়া হয় কলেজের পক্ষ থেকে। পরে কলেজের শিক্ষার্থীদের পাশপাশি স্বাধীনতা দিবসের মঞ্চ কাপান ঢাকার সংগীত শিল্পী টপু ও রেশমি। এ ছাড়া ভোলার স্থানীয় ওরিয়র্স ব্যান্ড শিল্পী আবিদ ও মার্সেল সংগীত পরিবেশন করেন। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা