kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

হাতীবান্ধায় সংঘর্ষের ছবি তোলায় সাংবাদিককে মারধর

হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি   

২৬ মার্চ, ২০১৯ ১৭:৪৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হাতীবান্ধায় সংঘর্ষের ছবি তোলায় সাংবাদিককে মারধর

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষের ছবি তোলায় আসাদুজ্জামান সাজু নামে এক সাংবাদিক ও শরিফ মোল্লা নামে এক পথচারীকে মারধর করেছেন ক্ষমতাশীন দলের নেতা-কর্মীরা।

আহতদের মধ্যে সাংবাদিক সাজুকে হাতীবান্ধা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। আর শরিফ মোল্লা বর্তমানে হাতীবান্ধা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে হাতীবান্ধা উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সাংবাদিক সাজু ও পথচারী শরিফ মোল্লাকে হাতীবান্ধা এস এস উচ্চ বিদ্যালয়ের গেটের সামনে মারধর করা হয়। 
আহত সাংবাদিক আসাদুজ্জামান সাজু দৈনিক মানবকণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি। আর শরিফ মোল্লা হাতীবান্ধা সাব রেজিস্টার অফিসের দলিল লেখক।

জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে হাতীবান্ধা উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আলোচনা ও প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয়। সভায় উপজেলা নির্বাচনের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাদের কর্মীদের ডাকা হয়নি। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেন বাচ্চু ও লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সরওয়ার হায়াত খান গ্রুপের লোকজনের মাঝে সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ায় রুপ নেয়।

পরে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তায় সংসদ সদস্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোতাহার হোসেন দলীয় অফিস ত্যাগ করেন। এর প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে লিয়াকত হোসেন বাচ্চু গ্রুপের নেতাকর্মীরা সেলিম হোসেনের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠি সোটা নিয়ে শহরে মিছিল দেয়। এ সময় অপর দিক থেকে সরওয়ার হায়াত খানের গ্রুপের লোকজন স্থানীয় বাসস্ট্যান্ডে এলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় লিয়াকত হোসেন বাচ্চুর লোকজন সাংবাদিক সাজু ও পথচারী শরীফ মোল্লাকে মারধর করেন। এ সময় হামলাকারীরা সাংবাদিকের ক্যামেরা ভাঙচুর করে।

এ বিষয়ে সাংবাদিক সাজু বলেন, লিয়াকত হোসেন বাচ্চু গ্রুপের নেতাকর্মীরা সেলিম হোসেনের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠি সোটা নিয়ে মিছিল করছিল। পেশাগত কারণে আমি তাদের ছবি তোলার চেষ্টা করলে মাদক মামলার তালিকা ভুক্ত আসামি সিরাজুল ইসলাম, সাবেক শিবির ক্যাডার সদরুল আমিন রিপন তার ছোট ভাই খোকনসহ কয়েকজন আমাকে মারধর করে। আমি আর কিছু বলতে পারি না। অজ্ঞান হয়ে যাই। জ্ঞান ফিরে দেখি আমি হাসপাতালে।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক সাংবাদিকদের বলেন, উপজেলার আমতলা এলাকায় আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা