kalerkantho

রবিবার । ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯। ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৭ রবিউস সানি                    

'বাংলাদেশ এখনো রাজাকার মুক্ত হয়নি'

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

২৬ মার্চ, ২০১৯ ০৩:০৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



'বাংলাদেশ এখনো রাজাকার মুক্ত হয়নি'

ছবি: কালের কণ্ঠ

বাংলাদেশ এখনো রাজাকার মুক্ত হয়নি, বাংলাদেশকে রাজাকার মুক্ত করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তুলার দৃঢ় অঙ্গীকার করে জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি বলেন, ১৯৭১ সালের আজকের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অতর্কিতভাবে নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে শত শত বাঙালিকে হত্যা করেছিল। রাজারবাগ পুলিশ লাইন থেকে শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন আবাসিক হল এবং পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা পরিচালনা করে স্বাধীনতাকামী মানুষের কণ্ঠকে রুদ্ধ করার জন্য। তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদ জানাতে স্বাধীনতার মুক্তির মঞ্চে দিক্ষিত বাঙালি জাতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে যে উজ্জীবিত হয়েছিল তাদেরকে হত্যা করার জন্য এই দিনটিকে তারা বেছে নেন এবং অসংখ্য মানুষকে হত্যা করে।

সেদিন যারা শহীদ হয়েছিলেন আমি তাদের এবং হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি আমাদের স্বাধীনতার অবিসংবাদিত নেতা ঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। আমি আরো শ্রদ্ধা জানাই ১৯৭১ এর রনাঙ্গণে যে সমস্ত ভাই-বোন বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে অস্ত্র হাতে নিয়ে যুদ্ধ করে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমাদের এই প্রিয় বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছেন সেই ৩০ লাখ শহীদ এবং ২ লাখ ৬৯ হাজার মা-বোনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।

২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শহীদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্জলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন।

তিনি বলেন, আজকে আমাদেরকে আবার শপথ নিতে হবে ২৫ মার্চে আমাদেরকে হত্যা করে সারা বাংলাদেশের সবুজ শ্যামল চত্বরকে রক্তাক্ত করে আমাদেরকে দাবীয়ে রাখতে পারে নাই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন যে, আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি তোমাদের যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করবে।  বঙ্গবন্ধু ২৫ মার্চ রাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। কিন্তু বাংলার দামাল ছেলেরা অস্ত্র হাতে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে যুদ্ধ করে আমাদের এই দেশটাকে স্বাধীন করেছেন। আজকে আমরা স্বাধীন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। 

আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আজকে তারই কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তির সংগ্রামে বিজয় অর্জন করতে চাই। এই মুক্তি আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তি, এই মুক্তি ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অন্যায়, অবিচার দুঃশাসনের ও গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রার মুক্তি। আজকে আমরা যে স্বপ্ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছি ইনশাআল্লাহ আমরা তার নেতৃত্বেই বঙ্গবন্ধুর সেই সোনার বাংলা, সুখি সমৃদ্ধিশালী আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ হিসাবে বিশ্বের মানচিত্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়াব। আমাদের আজকের দিনের প্রত্যয় হউক সবাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি অসাম্প্রদায়িক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ জন্য শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে এগিয়ে যাব। আজকের এই দিনে প্রত্যয়দৃপ্ত কণ্ঠে আবারো উচ্চারণ করি “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু” ৭১-এর রাজাকার হুঁশিয়ার সাবধান, বীর বাঙালি অস্ত্র ধর বাংলাদেশ স্বাধীন কর যে স্লোগানে আমরা উজ্জীবিত হয়েছিলাম। আজকে বাংলাদেশ এখনো রাজাকার মুক্ত হয়নি, বাংলাদেশকে রাজাকার মুক্ত করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ে তুলব।

জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. জাকিয়া তাবাসসুম জুঁই, পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোকাদ্দেস হোসেন বাবলু। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফরিদুল ইসলাম, নবনির্বাচিত সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ইমদাদ সরকার, কোতয়ালী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ ঘোষ কাঞ্চন, স্বাচিবের সভাপতি ডা. আহাদ আলী, দিনাজপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম নবী দুলাল প্রমুখ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা