kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

কক্সবাজারে কোচিং সেন্টারে অমানবিকতার শিকার কিশোর

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

২৬ মার্চ, ২০১৯ ০১:১৬ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কক্সবাজারে কোচিং সেন্টারে অমানবিকতার শিকার কিশোর

ছবি: কালের কণ্ঠ

একটি কোচিং সেন্টারের শিক্ষকের কাছে এক প্রতিবন্ধী কিশোর ছাত্র অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। রবিবার রাতে কক্সবাজার শহরের ঘোনারপাড়া এলাকায় মিন্টু দত্ত কোচিং সেন্টারে ঘটেছে এ ঘটনা। কোচিং সেন্টারের শিক্ষকের বেদম মারধরের শিকার কিশোর ছাত্র সৌরভ বিশ্বাস কক্সবাজার পৌর প্রিপ্যারেটরি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র।

শিক্ষকের মারে গুরুতর আহত কিশোরকে সোমবার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। প্রহৃত কিশোর সৌরভের মা আন্না বিশ্বাস জানান, কয়েক মাস আগে তার একমাত্র সন্তানকে প্রতিবেশী কোচিং সেন্টারের মালিক মিন্টু দত্তের নিকট পড়ানোর জন্য নিয়ে যান। শিক্ষক মিন্টু দত্ত সারাদিন শহরের বাসা-বাড়িতে প্রাইভেট পড়ানোর পর রাতে বাসার কোচিং সেন্টারে পড়াতে বসেন।

কোচিং সেন্টারটিতে ২০/২৫ জন শিক্ষার্থীর ব্যাচ করে পড়ানো হয়। রবিবার রাতের ব্যাচে পড়ানোর সময় পড়া শিখতে না পারার অভিযোগ তুলে কিশোরকে রাবারের কলম বেত নিয়ে ওই শিক্ষক অমানবিকভাবে মারধর করে। কিশোরের মা জানান, তার সন্তান এমনিতেই একটু বাক প্রতিবন্ধী। সে লেখাপড়ায় এ কারণে দুর্বল। তাকে দীর্ঘক্ষণ পেটানোর নেপথ্যে লেখাপড়া না পারার চেয়ে আরো অন্য কারণ থাকার কথাও বলেন তিনি।

প্রহৃত কিশোর ছাত্রের মা আন্না বিশ্বাস অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষক মিন্টু দত্তের কোচিং সেন্টারে বেশ ক’জন ছাত্রীও পড়তে যায়। এসব ছাত্রীর মধ্যে পঞ্চম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে নিয়ে নানা ঘটনায় জড়িত রয়েছেন শিক্ষক। ছাত্রী-শিক্ষকের এসব দৃশ্যের স্বাক্ষীও হচ্ছে এসব কিশোর ছাত্রসহ আরো ক’জন। এসব কারণেই মূলত কিশোরটিকে বেদম মারধর করেন ওই শিক্ষক। বলেন মা আন্না বিশ্বাস।

এ বিষয়ে শিক্ষক মিন্টু দত্ত কিশোর ছাত্রকে মারধরের কথা অকপটে স্বীকার করে বলেন- ‘আমি ছেলেটিকে মেরেছি এটা সত্যি। তবে তার মা’র কথায় মেরেছি। মা নিজেই আমার কাছে সন্তানকে দিয়ে শাসন করার জন্য বলেন। তবে আমি বেশি মেরেছি।’ গতকাল হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে প্রহৃত কিশোরকে নিয়ে তার মা কক্সবাজার সদর মডেল থানায় যান অভিযোগ নিয়ে। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুজ্জামান বলেন-‘একজন কিশোরকে অমানবিকভাবে মারধরের বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা