kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৪ রবিউস সানি     

মির্জাপুরে বাল্যবিয়ে বন্ধ করলেন কিশোরী ক্লাবের সদস্যরা

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

২৫ মার্চ, ২০১৯ ২০:৩০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মির্জাপুরে বাল্যবিয়ে বন্ধ করলেন কিশোরী ক্লাবের সদস্যরা

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীর বিয়ে বন্ধ করলেন কিশোরী ক্লাবের সদস্যরা। আজ সোমবার দুপুরে উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের বংশাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত কিশোরী ক্লাবের সদস্যরা এ বাল্যবিয়ে বন্ধ করেন।

জানা গেছে, উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের বেলতৈল গ্রামের ফজল হকের মেয়ে বংশাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীর সঙ্গে পাশ্ববর্তী গোড়াই ইউনিয়নের সৈংদপুর গ্রামের রনির সঙ্গে মঙ্গলবার বিয়ের দিন নির্ধারণ করা হয়। সোমবার তাদের গায়ে হলুদ হচ্ছিল। এ খবর জানতে পেয়ে একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত কিশোরী ক্লাবের সদস্যরা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমজাদ হোসেনকে অবহিত করেন। অধ্যক্ষের পরামর্শে কিশোরী ক্লাবের সদস্যরা ওই ছাত্রীর বাড়িতে গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বাল্যবিয়ে বন্ধের জন্য কনের বাবা, মা ও আত্মীয়দের অনুরোধ করেন।

কিন্ত ছাত্রীর অভিভাবকরা তাদের কথা অগ্রাহ্য করে বিয়ের প্রস্তুতি চলমান রাখেন। পরে কিশোরী ক্লাবের সদস্যরা বিষয়টি মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মালেককে অবহিত করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাৎক্ষণিক ওই বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে কনে ও বাবা-মাকে তার অফিসে নিয়ে আসেন। সেখানে নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মালেক কনে, বাবা ও মার উপস্থিতিতে বাল্যবিয়ের কুফল তুলে ধরেন। পরে কনের বাবা ও মা মেয়েকে আঠারো বছরের আগে বিয়ে না দেওয়ার মুচলেকা দিলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

কিশোরী ক্লাবের সদস্য বংশাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্রী খাদিজা আক্তার, মীম আক্তার, নবম শ্রেণির ছাত্রী সিনথিয়া, মমতা আক্তার ও বৃষ্টি আক্তার জানান, মির্জাপুরের প্রাক্তন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত সাদমীন ম্যাডাম বাল্যবিয়ে, নারী অধিকার ও ইভটিজিং প্রতিরোধে তাদের বিদ্যালয়ে কিশোরী ক্লাব গঠন করে দেন। এরপর থেকে তারা বাল্যবিয়ে ও ইভটিজিং প্রতিরোধসহ নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে থাকে বলে জানান।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মালেক ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীর বিয়ে বন্ধের কথা স্বীকার করে বলেন, বরকে আটক করতে সৈয়দপুর গ্রামে পুলিশ পাঠালে বর পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। ওই ছাত্রীর বাবা-মা আঠারো বছরের আগে মেয়েকে বিয়ে না দেওয়ার মুচলেকা দিলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে তিনি জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা