kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৪ রবিউস সানি     

পঞ্চগড়ে স্কুলে স্কুলে মুক্তিযুদ্ধ কর্নার

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

২৫ মার্চ, ২০১৯ ১৮:২৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পঞ্চগড়ে স্কুলে স্কুলে মুক্তিযুদ্ধ কর্নার

পঞ্চগড়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্থাপন করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ কর্নার। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবনের এক কোণে ছোট পরিসরের এই মুক্তিযুদ্ধ কর্নারে যুদ্ধকালীন ছবি, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বইসহ মুক্তিযুদ্ধের টুকরো টুকরো ইতিহাস জায়গা করে নিয়েছে।

ছোট থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগিয়ে তুলতেই জেলা প্রশাসন এই উদ্যোগ নেয়। মুক্তিযুদ্ধ কর্নারের ছবি ও বই পড়ে উচ্চসিত শিক্ষার্থীরাও। এ ছাড়া পঞ্চগড় ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদেরও মুগ্ধ করে এই কর্নার।

পঞ্চগড়ের জেলা সদর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামের যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঢুকলেই দেখা মিলছে ছোট পরিসরের মুক্তিযুদ্ধ কর্নার। চলতি বছরের শুরুতে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন শিক্ষার্থীদের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগ্রত করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মুক্তিযুদ্ধ কর্নার স্থাপনের উদ্যোগ নেন। প্রথমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এই কার্যক্রম শুরু হলেও বর্তমানে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদরাসা ও কলেজে মিলে পঞ্চগড়ের পাঁচ উপজেলার ১১’শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ কর্নার স্থাপন করা হয়েছে।

এ ছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সার্কিট হাউজসহ জেলা সব পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোতেও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। এসব মুক্তিযুদ্ধ কর্নারে মূলত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধকালীন বিভিন্ন ছবি, বীর শ্রেষ্ঠদের ছবি ও জীবনী, তথ্যসহ জাতীয় চার নেতা ও বঙ্গবন্ধুর ছবি, মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক বই সরবরাহ করা হয়েছে। এই কর্নারের মাধ্যমে কোমলমতি শিশুরা পড়ালেখার পাশাপাশি সুবিধামত সময়ে কর্নারে বসে মুক্তিযুদ্ধের অজানা ইতিহাস জানতে ও অনুভব করতে পারছেন। মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের গল্প কাহিনী পড়ে ও ছবি দেখে আনন্দ পাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। পড়ার ফাঁকে, টিফিনের সময় কিংবা ছুটির পর শিক্ষার্থীরা ছুটে যাচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ কর্নারে। দেখছে ছবি পড়ছে বই। আবার নিজেদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে নানা প্রশ্ন ও উত্তর করছে তারা নিজেরাই।

পঞ্চগড়-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া আক্তার সুমনা বলেন, টিফিনের সময় ও ছুটির পর আমি মুক্তিযুদ্ধ কর্নারে যাই। সেখানে ছবি দেখি বই পড়ি। মুক্তিযুদ্ধের গল্প আমার ভীষণ ভাল লাগে।

ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আকতারুজ্জামান বাঁধন বলেন, আমাদের বইয়ের পড়ার বাইরেও আমরা মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে অনেক তথ্য অনেক অজানা বিষয় জানতে পারছি। পাকিস্তানিদের নির্যাতন কত ভয়ঙ্কর ছিলো ছবিগুলো দেখলেই বোঝা যায়।

পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী আইরিন আক্তার জানান, ক্লাসের পড়ার পাশাপাশি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বই পড়ার সুযোগ করে দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ কর্নার। আমাদের অনেক অজানা বিষয় মুক্তিযুদ্ধের বই পড়ে আমরা জানতে পারছি। আমরা মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ কর্নারে গেলেই মুক্তিযুদ্ধের একটা ছবি আমাদের সামনে ভেসে ওঠে।

ঢাকা থেকে পঞ্চগড় ঘুরতে আসা সিহাব উদ্দিন জানান, বিদ্যালয়গুলোতে মুক্তিযুদ্ধ কর্নার স্থাপনের ধারণা বেশ চমৎকার। এর মাধ্যমে নিঃসন্দেহে শিক্ষার্থীদের ভেতরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবোধ জাগ্রত হবে।

পঞ্চগড়-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহনাজ আক্তার বলেন, ছাত্রছাত্রীরা মুক্তিযুদ্ধ কর্নার স্থাপন করায় খুবই খুশি। তারা নিজেরাই মুক্তিযুদ্ধ কর্নারে বসে বই পড়ে ছবি দেখে। এমনকি কোনো কিছু জানার থাকলে আমাদের কাছে প্রশ্ন করছে। এভাবে ছোট থেকেই তাদের মাথায় মুক্তিযুদ্ধের একটা চিত্র গেঁথে যাচ্ছে।

দেবীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম শিকারপুর-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামছুল হক বলেন, মুক্তিযুদ্ধ কর্নার শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। শিক্ষার্থীরা আগে পাঠ্য বইয়ে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আবছা আবছা করে যা জানতো তা এখন অনেকটাই পরিস্কারভাবে জানতে পারছে এই কর্নারের মাধ্যমে। বইয়ের পড়ার সাথে তারা দৃশ্যমান কিছু দেখছে এবং অনুভব করতে পারছে। এভাবেই তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আগামীর বাংলাদেশ গড়বে বলেও প্রত্যাশা করেন তিনি।

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী একটি প্রজন্ম তৈরি করার উদ্দেশ্যেই আমরা মুক্তিযুদ্ধ কর্নার স্থাপন করার উদ্যোগ নেই। আমরা চাই বিদ্যালয়ে পা রাখা থেকেই শিক্ষার্থীরা মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে কিছু জানুক। শুরুতে সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধ কর্নার স্থাপন করা হয়। পরে মাধ্যমিক, কলেজ ও মাদরাসাতেও স্থাপন করা হয়। এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, সার্কিট হাউজ ও ডিসি অফিস যেখানে মানুষের যাতায়াত আছে সেখানেই এই মুক্তিযুদ্ধ কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। আমরা আশা করি পঞ্চগড়ের মতো দেশের সর্বত্র এমন মুক্তিযুদ্ধ কর্নার গড়ে উঠবে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা