kalerkantho

ঠাকুরগাঁওয়ে ভুল অপারেশনে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি   

২৪ মার্চ, ২০১৯ ২১:২৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঠাকুরগাঁওয়ে ভুল অপারেশনে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ

ঠাকুরগাঁওয়ে ভুল অপারেশনে আতিকা ইসলাম নামে তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রাতে ঠাকুরগাঁও শহরের এলিজা নার্সিং হোম অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অপারেশন থিয়েটারে এ ঘটনা ঘটে।

আতিকা ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ি ইউনিয়নের গোয়ালকারী গ্রামের আতিকুর রহমানের মেয়ে। সে ডাঙ্গীবাজারে বিল্পব মেমোরিয়াল স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। 

আতিকা ইসলামের বাবা আতিকুর রহমান অভিযোগ করেন, কিছুদিন আগে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ইজিবাইকের ধাক্কায় আতিকার পা ভেঙে যায়। ঠাকুরগঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ১৩ দিন চিকিৎসা করার পরে তাকে বাসায় নিয়ে আসা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে পায়ের অপারেশন করার জন্য গত বৃহস্পতিবার তাকে শহরের এলিজা নার্সিং হোম অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করানো হয়। শনিবার রাতে পায়ের অপারেশন করতে অপারেশন থিয়েটারে নেন ওই কিনিকের ডাক্তার আবু বক্কর সিদ্দিক দিপু ও এনেসথেসিয়া (অজ্ঞান) ডাক্তার মনির। প্রায় তিনঘণ্টা অপারেশন থিয়েটারে অস্ত্রোপচারের পর তাদের কিছু না জানিয়েই ডাক্তার আবু বক্কর সিদ্দিক দিপু ও ডাক্তার মনির ক্লিনিক থেকে পালিয়ে যায়। পরে ক্লিনিক কতৃপক্ষ আতিকাকে মৃত অবস্থায় তাদের হস্তান্তর করে।

তিনি আরো বলেন, অপারেশনের সময় আতিকাকে অতিরিক্ত এনেসথেসিয়ার (অজ্ঞান) ঔষধ প্রয়োগ করার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। কারণ অপারেশনের জন্য মেয়েকে অজ্ঞান করলে তার আর জ্ঞান ফেরাতে পারেনি ওই কিনিকের ডা. আবু বক্কর সিদ্দিক দিপু ও এনেসথেসিয়া (অজ্ঞান) ডাক্তার মনির।

এ ব্যাপারে এলিজা নার্সিং হোম অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দারাজ আলীকে তার অফিসে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ডাক্তার আবু বক্কর সিদ্দিক দিপু ও এনেসথেসিয়া (অজ্ঞান) ডাক্তার মনির পলাতক থাকায় তাদের মুঠো ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। 

তবে ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন ডা. আবু মো. খায়রুল কবীর জানান, শহরের গোয়াল পাড়ায় অবস্থিত এলিজা নার্সিং হোম অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে যে ক্লিনিকটি রয়েছে তার কোনো বৈধ কাগজ পত্র নেই। কিছুদিন পূর্বেও সেই ক্লিনিকে তিনিসহ জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত গিয়ে ক্লিনিকটিকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনো অদৃশ্য শক্তির কারণে ক্লিনিক কতৃপক্ষ আবারো নিজের ক্ষমতায় ক্লিনিকটি চালু করে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে। আর শিশু মৃত্যুর ঘটনায় ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ক্লিনিক কতৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট ডাক্তারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি আশিকুর রহমান জানান, শিশুটির পরিবারের লোকজন থানায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য