kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

সড়ক দুর্ঘটনায় পিতার মৃত্যুতে দুই শিশুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

২৪ মার্চ, ২০১৯ ২০:৪৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সড়ক দুর্ঘটনায় পিতার মৃত্যুতে দুই শিশুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম পিতার মৃত্যু হওয়ায় রিয়াদ ও রিফাত নামে দুই অবোধ শিশুর শিক্ষা জীবনের যবনিকাপাত ঘটেছে। বই-খাতা রেখে এ বয়সেই তাদের এখন ৬ জনের সংসারের ঘানি টানতে হচ্ছে। দুটি শিশুর কোমল হৃদয়ে সমাজ সংসারের কঠিন বাস্তবতার পাথর চেপে বসেছে। শৈশবের চঞ্চলতা, চপলতা ও স্বপ্নময় দুটি জীবনে হঠাৎ নেমে এসেছে নিকস কালো অন্ধকার।

জানা যায়, উপজেলার নামা লক্ষ্মণপুর নয়াপাড়া গ্রামের নির্মাণ শ্রমিক মজনু মিয়ার স্ত্রী, তিন ছেলে, দুই মেয়ে নিয়ে সাত জনের সংসার। সংসারে অভাব অনটন থাকলেও মজনু মিয়ার একার উপার্জনে কষ্টে দিন চলে যেত। মজনু মিয়ার বড় ছেলে রিয়াদ স্থানীয় রসুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আর দ্বিতীয় ছেলে রিফাত স্থানীয় একটি মাদরাসায় আমপাড়া পড়তো। অপর দুই মেয়ে ও এক ছেলে খুবই ছোট। দারিদ্রের কষাঘাতেও মজনু মিয়া ছেলে মেয়েদের মানুষ করার স্বপ্ন দেখতেন।

কিন্তু বাস্তব খুবই নিষ্ঠুর-নির্মম। গত ১৭ মার্চ মজনু মিয়া কাজের উদ্দেশ্যে পৌর শহরে আসার সময় গফরগাঁও-রসুলপুর সড়কের মিষ্টির মোড়ে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। পরদিন ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মজনু মিয়া মারা যান। মজনু মিয়ার মৃত্যু যেন তার দারিদ্র ক্লিষ্ট সংসারে সারা জীবনের কান্না নিয়ে এসেছে। স্বামীকে হারিয়ে মজনু মিয়ার স্ত্রী ফাতেমা বেগম দিশেহারা হয়ে পড়েন। ৫টি ছেলে মেয়ে নিয়ে তিনি যেন অকূল পাথারে হারিয়ে যাচ্ছেন।

বাবাকে হারিয়ে মায়ের এ করুণ অবস্থায় বড় দুই ছেলে রিয়াদ ও রিফাত এগিয়ে আসে। মায়ের গলা জড়িয়ে শান্তনা দিয়ে জানায় লেখাপড়া ছেড়ে তারা আয় উপার্জন করে সংসার চালাবে। ছোট ভাই বোনদের লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করবে। দুই ছেলের কথায় ফাতেমা বেগম যেন প্রাণ ফিরে পান। প্রথমে না করলেও পরে ভাবেন এ ছাড়াতো বাঁচার কোনো উপায় নাই। এ যেন বাংলা ছায়াছবির বাস্তব গল্প। বড় ছেলে রিয়াদ এখন টয়লেটের চাক তৈরির কারখানায় কাজ করে আর ছোট ছেলে রিফাত রসুলপুর মোড়ে একটি দোকানে কাজ করে। দুই ছেলের সামান্য উপার্জনে ফাতেমা বেগমের ৬ জনের সংসার চলছে।

ফাতেমা বেগম বলেন, ছোডু দুই মায়া আর কোলের ছেড়াডা থইয়া কোন হানে গিয়া কাম-কাজ করার উপায় নাই। জানি না আল্লায় আমার পোলা-মাইয়াগুলাইনের জীবনে কি রাখছে।

রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা কলেজ শিক্ষার্থী আবুল হোসেন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় মজনু মিয়া মারা যাওয়ায় সংসারটি ভেসে যাওয়ার অবস্থা হয়েছে। বড় দুই ছেলে লেখাপড়া ছেড়ে সংসারের হাল ধরেছে।

গফরগাঁও থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনাগুলো বহু লোকের জীবন সংসার ধ্বংস করে দেয়। এ জন্য সবারই সাবধান হয়ে চলা উচিত।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা