kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

মেঘনা নদীর তলদেশ লুট, নদীগর্ভে বসতভিটা

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২৪ মার্চ, ২০১৯ ১১:০৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মেঘনা নদীর তলদেশ লুট, নদীগর্ভে বসতভিটা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার আনন্দবাজার এলাকায় প্রতিদিনই ড্রেজারের সাহায্যে লুট হচ্ছে মেঘনা নদীর তলদেশের মাটি। ছবিটি আজ শনিবার সকালে তোলা।

মেঘনা নদীর তলদেশের মাটি ড্রেজারের সাহায্যে লুট করে নিচ্ছে স্থানীয় একটি বালু সন্ত্রাসী চক্র। প্রকাশ্যে নদীর বালু কেটে লুটপাট করলেও স্থানীয় প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। সোনারগাঁ উপজেলার আনন্দবাজার এলাকায় প্রকাশ্যে চলছে বালু লুট।

সরেজমিন ঘটরাস্থলে গেলে এলাকাবাসী কালের কণ্ঠকে জানান, উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের আনন্দবাজার এলাকায় সরকারের কোনো ইজারা ছাড়াই ৩০ থেকে ৪০টি ড্রেজার দিয়ে প্রতিদিন ও রাতের বেলা মেঘনা নদীর বালু কেটে বড় বড় বাল্কহেড দিয়ে এসব বালু বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছে সংঘবদ্ধ একটি বালু সন্ত্রাসী চক্র। স্থানীয়রা যাতে বাধা দিতে না পারে এ জন্য নদীতে লাঠি নিয়ে একদল যুবক পাহারা দিচ্ছে।

নদীর তীরবর্তী এলাকায় বালু কাটার ফলে নদীগর্ভে বিলীন হতে যাওয়া গ্রামের বাসিন্দারা বালু সন্ত্রাসীদের বাধা দেওয়ার কারণে বালু সন্ত্রাসীরা গ্রামবাসীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেছে। বালু সন্ত্রাসীদের নির্যাতনে নুরু মিয়া, আমজাদ হোসেন, আলমগীর মিয়া, নুর হোসেনসহ ১০-১৫ জনকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করাসহ তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে হয়রানি করছে বলেও এলাকাবাসী অভিযোগ করেন। বালু সন্ত্রাসীরা প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তার সাথে গোপনে আঁতাত করে প্রকাশ্যে বালু লুট করে নিয়ে যাচ্ছে বলেও তারা জানান।

আনন্দবাজার এলাকার বাসিন্দারা জানান, স্থানীয় বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্যানেল চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেনের নেতৃত্বে তার ছেলে রকি মিয়া ও সহযোগী মামুন, রুবায়েত হোসেনসহ ২০/২৫ জনের একটি চক্র স্থানীয় সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের সঙ্গে নিয়ে নদীর বালু অবৈধভাবে লুট করছে।

অবৈধভাবে বালু কেটে নেওয়ার কারণে বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী গ্রাম আনন্দবাজার, মামরকপুর, হারিয়া, সোনাময়ী, সাতভাইয়াপাড়াসহ সাতটি গ্রামের বাসিন্দাদের বাড়িঘর ও ফসলি জমি ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, যারা আমাদের নিরাপত্তা দেবে সেই জনপ্রতিনিধিরাই অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে আমাদের বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন করে দিচ্ছে। আমাদের বসতভিটা রক্ষার দাবিতে একাধিকবার ইউএনওকে স্মারকলিপি, বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছি। আন্দোলন করার পর প্রশাসন অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। অভিযোগের পর প্রশাসনের লোকজন মোবাইল কোর্ট বসিয়ে ড্রেজার শ্রমিকদের সামান্য জরিমানা করেই দায়িত্ব শেষ করছেন। ড্রেজার জব্দ না করায় তারা ওই স্থান ত্যাগ করার সাথে সাথেই আবার বালু কাটা শুরু করে বলে জানান তারা। 

এ ব্যাপারে প্যানেল চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন জানান, আমি আনন্দবাজার নয় বৈদ্যেরবাজারে বালু কাটছি। 

উপজেলায় সদ্য যোগদান করা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার জানান, বালু সন্ত্রাসীরা যতই প্রভাবশালী হোক অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করলে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা