kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

বন্ধুকে খুন করে থানায় আত্মসমর্পণ

আমিই খুনি, আমাকে গ্রেপ্তার করেন

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

২৪ মার্চ, ২০১৯ ০১:৪৫ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



আমিই খুনি, আমাকে গ্রেপ্তার করেন

মো. শাহাব উদ্দিন

বন্ধুকে খুন করে রক্তমাখা শরীর নিয়ে থানায় গিয়ে বলে, আমি খুনি, আমাকে গ্রেপ্তার করেন। শনিবার বিকেলে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহের নান্দাইলে। ওই খুনির নাম মো. শাহাব উদ্দিন (৩২)।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নান্দাইল পৌরসভার ঝাউগড়া মহল্লায় অবস্থিত মো. উসমান উদ্দিনের ছেলে শাহাব উদ্দিন। তার বন্ধু পৌরসভার চারআনিপাড়া মহল্লার আবুল কাশেমের ছেলে সোহেল মিয়া (৩০)।

জানা যায়, গত প্রায় ১০ বছর ধরে এই বন্ধুত্বের সম্পর্ক। এই সুবাধে শাহাব উদ্দিন প্রায়ই সোহেলের বাড়িতে আসা যাওয়া করতো। এক পর্যায়ে বন্ধু সোহেলের বোনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এই অবস্থায় গত দুই মাস আগে সোহেলের বোন মালয়েশিয়ায় চলে যায়। এতে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে শাহাব উদ্দিন। বন্ধুর বোনকে ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন ধরনের কৌশল অবলম্বন করে ব্যর্থ হয়। 

এক পর্যায়ে শাহাব উদ্দিন দাবি করে বন্ধুর বোন তার (শাহাব উদ্দিন) কয়েক লাখ টাকা নিয়ে মালয়েশিয়ায় পাড়ি দেয়। এই টাকা দেওয়ার জন্য বেশ কয়েকদিন ধরে বন্ধু সোহেলকে চাপ দিয়ে আসছিল। পুলিশ হেফাজতে থাকা শাহাব উদ্দিন জানান, ঘটনাটি মিমাংসা করতেই শনিবার বন্ধু সোহেলকে নিজ বাড়িতে ডেকে নেয়।

এ সময় বিছানায় বসেই দুইজনের মধ্যে কথাবার্তা চলছিল। এক সময় তিনি সোহেলের কাছে দাবি করে তার বোনকে মালয়েশিয়া থেকে ফিরিয়ে আনতে অন্যথায় তার পাওনা টাকা ফেরত দিতে। এতে সোহেল রাজী না হলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে দা দিয়ে কুপিয়ে চলে যায়। পরে এলাকার লোকজনের ধাওয়া খেয়ে রক্তমাখা প্যান্ট ও জামা নিয়ে থানায় গিয়ে আশ্রয় নেয়।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় টিনসেড ঘরটির মেঝে ভেসে রয়েছে রক্ত। ঘরের ভেতর হাতের বিচ্ছিন্ন আঙুলসহ মানব দেহের নানা অংশ পড়ে রয়েছে। পুলিশ ওই বাড়ির চারপাশ ঘিরে রেখেছে। মহল্লার লোকজন সূত্রে জানা যায় অভিযুক্ত শাহাব উদ্দিনের জুয়া খেলার অভ্যাস রয়েছে। 

নান্দাইল মডেল থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তার কক্ষে শাহাব উদ্দিনকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম মিয়া। তিনি বলেন, বন্ধুকে হত্যার দায় শাহাব উদ্দিন স্বীকার করেছেন। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা