kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

আজ বাদে কাল ভোট, সিঙ্গাইরে আগ্রহ নেই অধিকাংশ ভোটারদের

মোবারক হোসেন, সিঙ্গাইর (মানিকগঞ্জ)   

২৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আজ বাদে কাল ভোট, সিঙ্গাইরে আগ্রহ নেই অধিকাংশ ভোটারদের

ভোট হচ্ছে আওয়ামী লীগ আর আওয়ামী লীগের মধ্যে। ভোট দিলেই কি, আর না দিলেই কি? কেন্দ্রে কেউ না গেলেও তারাই জিতবো। এভাবেই আগামী ২৪ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানান দুইজন সচেতন ভোটার। বেশ কয়েকদিন আগে কথা হয় উপজেলার জামশা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল বাতেন ও ইউসুফ আলীর সঙ্গে। ভোটের দিন ভোট দিতে যাবেন কি না, জানতে চাইলে তাদের সরাসরি উত্তর ছিল এটি। তবে একই এলাকার জাকির হোসেন নামের এক ভোটার কেন্দ্রে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেন, ‘ভোট দেওয়া আমার নাগরিক অধিকার। নির্বাচনে কোন দল আসলো আর না আসলো আমি ভোট দিতে যাব। 

আর একদিন পর আগামী ২৪ মার্চ তৃতীয় ধাপে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করেছেন প্রার্থী ও সমর্থকরা। ভোট গ্রহণে প্রস্তুত প্রশাসন। তফসিল ঘোষণার পর থেকে প্রচারণার শেষ দিন শুক্রবার পর্যন্ত প্রার্থীরা সকাল থেকে রাত অবধি ভোটের মাঠ চষে বেড়িয়েছেন। ব্যক্তি পরিচয় আর নিজেদের উন্নয়ন ভাবনা তুলে ধরে করেছেন ভোট প্রার্থনা। বসে ছিলনা প্রার্থীর সমর্থক ও আত্মীয়-স্বজনরা। তারাও নিজ নিজ প্রার্থীর পক্ষে ভোট চেয়ে ব্যস্ত সময় পার করেছেন।

প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করলেও ভোট নিয়ে আগ্রহ নেই উপজেলার অধিকাংশ ভোটারের। পৌর শহর ও প্রার্থীদের নিজ নিজ গ্রাম ছাড়া উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় নেই নর্বাচনী আমেজ। ভোটকেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছেন সাধারণ ভোটাররা। উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা ঘুরে ও নানা পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে এমনই চিত্র পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ভোটার বলেন, এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ছাড়া বিএনপিসহ অন্য রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ না করায় ভোট নিয়ে সাধারণ মানুষের কোন মাথাব্যথা নেই। জমেনি ভোটের মাঠ।

সিঙ্গাইর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৩ জন, মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে ৩ জন ও পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীরা হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শহিদুর রহমান (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুশফিকুর রহমান খান হান্নান (আনারস), জাকের পার্টির একে,এম ছায়েদুর রহমান (গোলাপ ফুল)।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার রবিউল আলম উজ্জল (বৈদ্যুতিক বাল্ব), যুবলীগ সভাপতি তমিজ উদ্দিন (তালা), মাওলানা ওসমান গণি (চশমা, মাসুদুর রহমান রানা (মাইক), জসিমুদ্দিন পাখি (উড়োজাহাজ ও মো. ফরশেদ আলম (টিবওয়েল)।

অপরদিকে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আনোয়ারা খাতুন (হাঁস), মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সালমা নজরুল (কলস) ও মহিলা লীগ আহবায়ক শারমিন আক্তার (ফুটবল) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীদের মধ্যে দুজন ছাড়া সবাই আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতা ও সমর্থক।

উপজেলার চান্দহর ইউনিয়নের মানিকনগর গ্রামের বাসিন্দা মো সেলিম মিয়া বলেন, ভোট দিলেও তারা জিতব, না দিলেও জিতব। তাইলে ভোট দিয়া কী অইব। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেন্দ্রে গিয়া দেহি আমার ভোট হইয়া গেছে। তাই এবার ভোট দিতে যামু না। সব দল নির্বাচনে না থাকায় ভোট দিতে অনাগ্রহের কথা জানান পার্শ্ববর্তী জামির্তা গ্রামের ফরহাদ হোসেন। তাঁর বক্তব্য, এবার তো সব দল নির্বাচনে নেই। ভোট দিয়া কী অইবো।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচনী অফিসার ইস্তাফিজুল হক আকন্দ জানান, ইতিমধ্যে ভোটগ্রহণের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ভোটারেরা যেন নির্বিগ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারে সেজন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করছি, উৎসব মুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটাররা স্বতঃস্ফুর্তভাবে ভোট দিতে কেন্দ্রে যাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা