kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১                     

নরসিংদীতে শাহজাহান হত্যা বিচারের দাবিতে স্বজনদের মানববন্ধন

নরসিংদী প্রতিনিধি   

২২ মার্চ, ২০১৯ ১০:০৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নরসিংদীতে শাহজাহান হত্যা বিচারের দাবিতে স্বজনদের মানববন্ধন

নরসিংদীর বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে শাহজাহান মিয়াকে (৬৫) হত্যার প্রতিবাদে ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেছে নিহতের পরিবারের লোকজন ও স্বজনরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে নরসিংদী প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কয়েক শ স্থানীয় বাসিন্দারাও অংশ নেন। পরে তারা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দেন। এ সময় তাঁরা জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই ভাড়াটিয়া কিলার দিয়ে শাহজাহান মিয়াকে হত্যা করা হয়।

মামলার বিবরণ, পুলিশ ও নিহতের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিহত শাহজাহান মিয়া শিবপুর উপজেলার মুন্সেফেরচর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি নরসিংদী শহরের পূর্ব ব্রাহ্মন্দী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিনি পেশাগত জীবনে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। তাঁর সঙ্গে সুন্সেফেরচর এলাকার জলিল মিয়া, হাবিবুল্লা, সোহাগ মিয়া, ফাতেমা বেগমদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও মামলা মোকাদ্দমা চলে আসছিল। গত ১৫ মার্চ (শুক্রবার) সকালে দুইজন লোক এসে শাহজাহান মিয়াকে ফোনে করে নরসিংদী শহরের পূর্ব ব্রাহ্মন্দীর বাসা থেকে ডেকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে শিবপুরের ভুরবুড়িয়া এলাকার দিকে নিয়ে যায়। পরে ভুরবুড়িয়া এলাকায় আবদুল মান্নান ভূঁইয়া কলেজ সংলগ্ন সড়কে বৃদ্ধ শাহজাহানের গলা কাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে নিহতের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে শাহজাহানের লাশ শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আবদুল ওয়াদুদ মিয়া বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৫/৬ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় পুলিশ প্রথমে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সোহাগ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী গত বুধবার শিবপুরের বাঘাব ইউনিয়নের চাঁদপাশা এলাকা থেকে শরীফুল ইসলাম নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী একই ইউনিয়নের লামপুর এলাকার আবদুল হান্নান ভূইয়ার ছেলে আতিকুল ইসলাম ভূইয়ার ঘরের বিছানার নিচ থেকে একটি রক্তমাখা শার্ট ও চাপাতি উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া শরীফুল ও পলাতক আতিকুল নিহত শাহজাহান মিয়াকে ফোন করে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় বলে জানায় পুলিশ। এসব ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রেপ্তার হওয়া শরীফুলকে আদালতের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাসের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয় পুলিশ।

এদিকে শাহজাহান মিয়ার হত্যার প্রতিবাদে ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেছে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় এলাকাবাসী। পরে তাঁরা আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন ও পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহমেদ বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। এ সময় পরিবারের লোকজন মামলার তদন্ত কার্যক্রম শিবপুর মডেল থানা থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশে স্থানান্তর করার ইচ্ছা পোষন করেন।

এ ব্যাপারে শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোমেনুল ইসলাম বলেন, হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি ও আলামত রক্তমাখা শার্ট উদ্ধারসহ প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব বিরোধের জের ধরেই কোনো পক্ষ ভাড়াটিয়া কিলার দিয়ে শাহজাহান মিয়াকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করতেছি। আশা করছি খুব দ্রুত হত্যার মূল বিষয়টি উৎঘাটন হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা