kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

‘পাষণ্ড স্বামীর ঘরে আমি আর ফিরে যাবো না’

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি   

২০ মার্চ, ২০১৯ ২১:১৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘পাষণ্ড স্বামীর ঘরে আমি আর ফিরে যাবো না’

যৌতুকের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করার পাশাপাশি বসতঘরে আসর বসিয়ে মদ্যপান নিষেধ করার অপরাধে হাসনা বেগম নামে এক নববধূকে গামছা দিয়ে মুখ বেধে, জ্বলন্ত সিগারেটের আগুন দিয়ে দুই হাতসহ পেটের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাকা দিয়ে পুড়িয়েছে স্বামী শাহিন শেখ। গতকাল মঙ্গলবার রাতে অভিযুক্ত শাহিন শেখকে গ্রেপ্তার করে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ। স্বামীর অত্যাচারে আহত নববধূ আসমা বেগমকে চিকিৎসার জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ, ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাউলজানি গ্রামের মৃত পাষান সরদারের মেয়ে হাসনা বেগম (১৮)। এদিকে রাজবাড়ী সদর থানার খানখানাপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত মনছের আলী শেখের ছেলে মো. শাহিন শেখ (৩০)। এক মাস আগে পারিবারিকভাবে ওই শাহিন শেখের সঙ্গে হাসনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর নববধূ হয়ে শ্বশুর বাড়িতে যায় হাসনা। সেখানে স্বামীর সংসারে তার সুখে দিন কাটছিল। এ অবস্থায় কয়েক দিন থাকার পর নববধূ হাসনার দাম্পত্য জীবনে নেমে আসে অমানিশা। তখন থেকে যৌতুকের দাবিতে শাহিন শেখ তার নববধূ স্ত্রীকে শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন চালাতে শুরু করে। 

একদিন সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে - এমন আশায় স্বামীর সকল অত্যাচার মুখবুজে সহ্যকরে হাসনা তার শ্বশুর বাড়িতে পড়ে থাকে। এ অবস্থায় গত রবিবার (১৭ মার্চ) দিনগত রাতে অজ্ঞাত কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে নিজ বসতঘরের ভিতরে নববধূ স্ত্রীর সামনে মদের আসর বসায় শাহিন। এসময় মদ খাওয়া বারণ করায় শাহিন শেখ তার স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক বাবাদ ১৫ হাজার টাকা এনে দিতে বলে। এতে অপারগতা প্রকাশ করায় শাহিন তার স্ত্রীর উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। সঙ্গে সঙ্গে মদের আসরে থাকা বন্ধুদের সহায়তায় গামছা দিয়ে হাসনার মুখ বেঁধে ফেলে। পরে শাহিন নিজ হাতে জ‌্বলন্ত সিগারেটের আগুন দিয়ে তার নববিবাহিতা স্ত্রীর দুই হাতসহ পেটের বিভিন্ন স্থানে আগুনের ছ্যাকা দিয়ে পোড়ায়। এতে মারাত্মক ভাবে আহত হয়ে ঘরের ভিতরে বিছানায় সারারাত পড়ে থাকে হাসনা। 

পরদিন গত সোমবার (১৮ মার্চ) অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করে স্বামীর অত্যাচারের কথা কাউকে না জানিয়ে বড় ভাই দেলু সরদারের সঙ্গে শ্বশুর বাড়ি থেকে গোয়ালন্দে তার বাবার বাড়িতে চলে আসেন হাসনা। পরে স্বামীর অত্যাচারের বিষয়টি বাবার বাড়ির লোকজনসহ প্রতিবেশিদের জানান। এ অবস্থায় স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গত মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যায় শাহিন শেখ তার শ‌্বশুর বাড়িতে আসেন। এসময় খবর পেয়ে পরিবারের লোকজনসহ এলাকাবাসী দ্রুত এগিয়ে এসে হাসনার স্বামী শাহিন শেখকে আটক করে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশে খবর পাঠায়। খবর পেয়ে ওই রাতেই গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাউলজানি গ্রামে গিয়ে হাসনার স্বামী শাহিন শেখকে আটক করে পুলিশ। 
পরদিন আজ বুধবার আটক শাহিন শেখকে রাজবাড়ী সদর থানাপুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় উপযুক্ত বিচার চেয়ে আজ বুধবার আহত হাসনার বড় ভাই মো. দেলু সরদার বাদী হয়ে তার বোনজামাই শাহিন শেখের বিরুদ্ধে রাজবাড়ী সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পাশাপাশি আহত আসমাকে চিকিৎসা করাতে রাজবাড়ী সদর হাপাতালে পাঠানো হয়। 

স্বামীর অত্যাচারে আহত নববধূ হাসনা বেগম কালের কণ্ঠকে বলেন, মাত্র এক মাস আগে শাহিনের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়েছে। কিন্তু যৌতুকের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করার পাশাপাশি বসত ঘরে আসর বসিয়ে মদ খেতে নিষেধ করার অপরাধে ও আমাকে গামছা দিয়ে মুখ বেধে সিগারেটের আগুন দিয়ে এভাবে পুড়িয়েছে। তাই পাষণ্ড স্বামীর ঘরে আমি আর ফিরে যাবো না।

গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এজাজ শফী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালের কণ্ঠকে বলেন, এ ঘটনায় উপযুক্ত বিচার চেয়ে আহত হাসনার বড় ভাই মো. দেলু সরদার বাদী হয়ে বুধবার দুপুরে তার বোনজামাই শাহিন শেখের বিরুদ্ধে রাজবাড়ী সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা