kalerkantho

সোমবার । ২১ অক্টোবর ২০১৯। ৫ কাতির্ক ১৪২৬। ২১ সফর ১৪৪১                       

অগ্নিসংযোগ, সড়ক অবরোধ

নাভারনে পিকআপচাপায় ছাত্রীর পা বিচ্ছিন্ন

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি   

২০ মার্চ, ২০১৯ ১৪:৪০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নাভারনে পিকআপচাপায় ছাত্রীর পা বিচ্ছিন্ন

যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের নাভারনে স্কুল যাওয়ার পথে পল্লী বিদ্যুতের একটি পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় ভ্যান-আরোহী মোফতাহুল জান্নাত নিপা নামে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীর পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্নের ঘটনায় পিকআপ ভ্যানে অগ্নিসংযোগ ও মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় ভ্যানে থাকা অপর দুই শিক্ষার্থী একই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী রিপা ও সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী স্মৃতি আহত হয়। 

বুধবার (২০ মার্চ) সকাল ৯টায় যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের নাভারন স্কুলের সামনেই এ ঘটনা ঘটে। নিপা শার্শার নাভারন বুরুজ বাগান গ্রামের রফিকুলের মেয়ে ও বুরুজ বাগান পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী।  

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানান, একটি ভ্যানে চড়ে তিন ছাত্রী স্কুলে আসছিল। এ সময় যশোরের দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা পল্লী বিদ্যুতের একটি পিকআপ ভ্যান ছাত্রীদের বহনকারী ভ্যানে ধাক্কা দেয়। এতে তিনজন ছাত্রী ভ্যান থেকে ছিটকে পড়ে মারাত্মক আহত হয়। এ সময় স্থানীয়রা এসে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে নাভারন পরে নিপার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নিপার ডান পা কেটে বাদ দেওয়া হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। 

এদিকে এ খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে নাভারন অঞ্চলের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী নাভারন-সাতক্ষীরা মোড়ে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করে। এ সময় যশোর-বেনাপোল ও যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের সকল যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীরা পল্লী বিদ্যুতের সেই পিকআপটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ দেখায়। মহাসড়ক অবরোধ করায় যশোরের সাথে বেনাপোল ও সাতক্ষীরা সড়কে প্রায় এক ঘণ্টা সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।  

স্থানীয় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মঞ্জু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলক কুমার মন্ডল, শার্শা থানার ভা্রপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম মশিউর রহমান ও জেলা পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ এস এম ইব্রাহিম খলিল শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাস দিলে সকাল ১০টার সময় সড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেয় প্রতিবাদী শিক্ষার্থীরা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পুলক কুমার মন্ডল জানান, এমন ঘটনা দুঃখজনক। আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোমিনুর রহমান জানান, চালকের অসতর্কতায় এই দুর্ঘটনা। সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র-ছাত্রীরা রাস্তায় নেমেছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা