kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

মুকসুদপুরে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ১১

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি   

২০ মার্চ, ২০১৯ ০০:৩০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুকসুদপুরে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত ১১

আগামী ২৪ মার্চ তৃতীয় ধাপে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে আনারস প্রতীকে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. কাবির মিয়ার নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা এবং বিভিন্ন স্থানে কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১১জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। 

গুরুতর আহত আসাদকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং গুরুতর আহত  টুকু কমিশনার (৫৫), তৌকির (১৮), আজগর (৩৮), গোলাম ফরহাদ (৫০), আল আমিন (১৮), কাদের (১৮), রুহুল আমিন (৪১), মাসুদ (২৯), মাহফুজ (২৩), হাফিজুরকে  (৩০) মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে মুকসুদপুর উপজেলা সদরের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ পাহারা জোরদার করেছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকালে মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র অ্যাড. আতিকুর রহমান মিয়া আনারস প্রতীকের প্রচারণায় মুকসুদপুর উপজেলার বহুগ্রাম ইউনিয়নের বলনারায়ন বাজারে গেলে প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়ারম্যান প্রার্থী এম এম মহিউদ্দিন আহম্মেদ (মুক্ত মুন্সী)’র সমর্থক খান্দারপাড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাব্বির খানের ভাই সজল খান ও উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সুমন মুন্সী সমর্থকদের মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে। এসব খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে রাত সাড়ে ৮টার দিকে উভয় গ্রুপের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আনারস প্রতীকের প্রার্থী মো. কাবির মিয়া অভিযোগ করে সাংবাদিকদের বলেন, খান্দারপাড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাব্বির খানের নেতৃত্ব তার লোকজন আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এম এম মহিউদ্দিন আহম্মেদ (মুক্ত মুন্সী)’র পক্ষ নিয়ে মুকসুদপুর ডিগ্রী কলেজ মোড়ের আমার নির্বাচনী প্রচারণার অফিস, আওয়ামী মোটর চালক লীগের অফিস, হোটেল, সেলুন, মুদির দোকান, বন্ধ থাকা কয়েকটি দোকান, মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী মোটর চালক লীগের সভাপতি সামচুল আরেফিন মুক্তার নিজের ব্যবহত প্রাইভেটকার এবং কয়েকটি কাউন্টর ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ চালিয়েছে। 
এ ছাড়াও আনারসের প্রচারণার মাইক, অফিসের টেলিভিশন, কাউন্টারের তিনটি ল্যাপটপসহ গুরুত্বপূর্ণ দ্রব্যাদি লুট করে নিয়েছে।
 
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জে দলীয় মনোনয়ন না দিয়ে উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। আমি নিজে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার আদর্শের একজন সৈনিক। কিন্তু আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এম এম মহিউদ্দিন আহম্মেদ নিজেকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত বলে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ ছাড়া খান্দারপাড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাব্বির খানসহ উপজেলার বেশ কিছু আওয়ামী লীগ নেতা ভোটারদের মুক্ত মুন্সীর মোটরসাইকেল প্রতীকে ভোট দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ ও ভয় ভীতি দিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালাচ্ছে।

এ ছাড়াও ভাবড়াশুর ইউনিয়নের কালিনগর গ্রামের মনোজ বিশ্বাসের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে মহিউদ্দিনের কর্মী-সমর্থকরা। প্রতীক বরাদ্দের আগেও বনগ্রাম বাজারে আমার কর্মীর ওপর হামলা করে আহত করা হয়েছিল। আমি এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। 

মুকসুদপুর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তর মাসুদ করিম জানান আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং গুরুতর আহত একজনকে ফরিদপুর মেডিক্যালে প্রেরণ করা হয়েছে।

মুকসুদপুর ও কাশিয়ানী অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) রায়হান হোসেন বলেন, দুই প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। এখন পরিস্থিতি শান্ত। পরবর্তী অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মুকসুদপুরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা