kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১            

মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে একাট্টা জেলার সকল মানুষ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৯ মার্চ, ২০১৯ ১৯:৫০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে একাট্টা জেলার সকল মানুষ

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সেলিনা হায়াৎ আইভীর সাম্প্রতিকালে দেওয়া কিছু বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ ও ব্যাখা চেয়ে বিষয়টি প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করতে স্মারকলিপি দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সকল শ্রেণি পেশার মানুষ।

সচেতন নাগরিক সমাজ, নারায়ণগঞ্জের ব্যানারে সকল শ্রেণি পেশার মানুষ একাট্টা হয়ে আজ মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে ওই স্মারকলিপিটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট প্রেরণ করা হয়।

সম্প্রতি সিটি মেয়র আইভী এক সভায় বক্তব্য বলেন, সাগর-রুনীর হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে আমরা অনেক কিছুই জানি, অনেক কিছু জড়িত, তনু হত্যার বিচার কেন হচ্ছে না, সেটাও জানি কারা জড়িত। নারায়ণগঞ্জে আজ পর্যন্ত যত খুন হয়েছে সেসবই ওসমান পরিবারের দ্বারা হয়েছে।

এ ছাড়াও সাম্প্রতিকালে আইভীর সঙ্গে জামাতের কানেকশনের অডিও ফাঁসসহ এরকম নানা বক্তব্যে ও ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। এ সংক্রান্ত নানা প্রশ্ন সরকারি দলসহ নানা শ্রেণি পেশার নেতৃবৃন্দকেও বিব্রত করছে। বিব্রতকর এ পরিস্থিতি জানাতেই ওই স্মারকলিপি প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান জেলা সচেতন নাগরিক সমাজ। দেশব্যাপী বহুল আলোচিত সাগর-রুনি ও তনু হত্যাকাণ্ড নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদেরও দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের এইসকল নেতৃবৃন্দ।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার ও নেতৃবৃন্দ, জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, জেলা আইনজীবী সমিতি কার্যকরী কমিটির সদস্যগণ, জাতীয়ভিত্তিক ব্যবসীয় সংগঠন নেতৃবৃন্দ, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরগণ, শিক্ষক নেতৃবৃন্দ, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স নেতৃবৃন্দ, বিকেএমই-এ নেতৃবৃন্দ, হোসিয়ারি এসোসিয়েশন নেতৃবৃন্দ, ক্লথ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ পাট আড়তদার সমিতি নেতৃবৃন্দ, নিউজ পেপারস অনার্স এসোসিয়েশন নেতৃবৃন্দ, জেলার বিভিন্ন প্রেস ক্লাব, পেশাজীবী স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ নেতৃবৃন্দ, নারায়ণগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন কমিটি ও ৫টি উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটি, নারাযণগঞ্জ-৪ ও ৫ সংসদীয় আসনের ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ, নারায়ণগঞ্জ জেলা আইন কর্মকর্তা, জেলা ক্রীড়া সংস্থার নেতৃবৃন্দ, সোনারগাঁ পৌরসভা মেয়র ও কাউন্সিলর এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিমিটেড কার্যকরী পরিষদ সদস্যগণ, ব্যাংক এমপ্লয়িজ এসোসিয়েশন নেতৃবৃন্দ, জেলা পরিষদের সদস্যগণ ও বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দগণ, জেলা মসজদি ইমাম কমিটি ও বিভিন্ন মসজিদের ইমামগণ, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি নেতৃবৃন্দ, নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাব কার্যকরী কমিটি নেতৃবৃন্দ স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর প্রদান করেন।

নারায়ণগঞ্জের সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে জেলা প্রশাসকের নিটক জমা দেওয়া ওই স্মারকলিপিটির অনুলিপি মূখ্য সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সচিব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঢাকা বরাবর প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া মেয়র আইভী দেওয়া বক্তব্যের অডিও ভিডিও ফুটেজ সম্বলিত পেইন ড্রাইভ প্রমাণ হিসেবে সরবরাহ করা হয়েছে।

স্মারকলিপি প্রদানের পর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল সাংবাদিকদের জানান, গত ৬ মার্চ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী একটি সমাবেশে বক্তৃতায় বলেন, সাগর-রুনি ও তনু হত্যার বিচার কেন হচ্ছে তা তিনি জানেন। তাই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এই চাঞ্চল্যকর তিনটি হত্যাকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবার ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে মেয়র আইভী অপ্রাসংঙ্গিক বিষয় নিয়ে সমালোচনা করে নারায়ণগঞ্জের শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে অশান্ত করে তুলছেন। এটা বন্ধ হওয়া দরকার। দেশের যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামায়াত-শিবিরের সাথে মেয়র আইভীর সম্পৃক্ত থাকারও অভিযোগ করা হয় স্মারকলিপিতে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি মহান জাতীয় সংসদে আপনার বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ও স্বাধীনতা পদকে ভূষিত (মরণোত্তর) প্রয়াত এ কে এম সামসুজ্জোহা ও ঐতিহ্যবাহী ওসমান পরিবারের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ গ্রহণ এবং ৭৫’ পরবর্তী সময়ের ভূমিকা নিয়ে যেভাবে বর্ণনা দিয়েছিলেন, তাতে নারায়ণগঞ্জবাসী গর্বিত ও সম্মানিত হয়েছে। কিন্তু আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি, নারায়ণগঞ্জে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেই একটি জনবিচ্ছিন্ন শ্রেণি এই পরিবারটিকে টার্গেট করে মাঠে নামে এবং বিভিন্ন আপত্তিকর বক্তব্য প্রদান করা শুরু করে।

সংবিধানের বাহক সেজে যুদ্ধাপরাধী জামায়াত-শিবিরের সাথে আঁতাত করা ক্ষমতার জন্য লালায়িত কিছু বড় বড় ডক্টর সাহেবদের প্রেসক্রিপশনে ঘন ঘন রাজধানী থেকে তথাকিথত কিছু সুশীলরা নারায়ণগঞ্জে আসছেন। তারা একই সাথে আপনার ও বর্তমান সরকারের কুৎসা রটনার পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জকে অশান্ত করার ও নারায়ণগঞ্জের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকেন। পরিতাপ হয়, ক্ষোভ হয় যখন দেখি যার আহ্বান ও সমর্থনে এসব সুশীলরা আসেন, তিনি হলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি সেলিনা হায়াত আইভী।

স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক সময়ে আমরা লক্ষ্য করলাম, গত ৬ই মার্চ মেয়র আইভী জনসম্মুখে বললেন, নারায়ণগঞ্জে আজ পর্যন্ত যত খুন হয়েছে সেসবই ওসমান পরিবারের দ্বারা হয়েছে। আমরা স্তম্ভিত হলাম। আমরা আরো অবাক হলাম যখন শুনলাম মেয়র আইভী বলছেন, সাগর-রুনীর ব্যাপারে আমরা অনেক কিছুই জানি, অনেক কিছু জড়িত, তনু হত্যার বিচার কেন হচ্ছে না, সেটাও জানি কারা জড়িত'। শুধু তাই নয়, মেয়র আইভীর উপস্থিতিতে ভাড়া করে আনা সুশীল ও তার সাথে থাকা জনবিচ্ছিন্ন গুটি কয়েক লোক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে নিয়ে যেসকল মিথ্যাচার ও ঔদ্ধত্বপূর্ণ বক্তব্য দিচ্ছে তাতে আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। কারণ, আমরা যারা সরাসরি রাজনীতির সাথে জড়িত নই, তারাও আপনাকে ভালোবেসে কেবল মাত্র আপনার নির্দেশেই সেলিনা হায়াত আইভীর জন্য নির্বাচনে মাঠে নেমেছিলাম। নারায়ণগঞ্জের সর্বমহলে একটিই প্রশ্ন, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের নেত্রী ও দলীয় মেয়র হয়ে আইভীর এমন বক্তব্য ও সুশীলদের প্রতি তার এতটা নগ্ন সমর্থন কেন? এই প্রশ্নের উত্তর আমরা খুঁজে পেয়েছি এবং আপনার সদয় অবগতির জন্য সে বিষয়টি তুলে ধরছি।

এ বিষয়ে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, যুদ্ধাপরাধী আলবদর প্রধান আলী আহসান মুজাহিদের ঘনিষ্ঠ সহচর, কেন্দ্রীয় মজলিসে সুরার সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জামায়াতে ইসলামের আমীর মাওলানা মঈনুদ্দিন গত ২০ অক্টোবর ২০১৮ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর একটি জবানবন্দি দিয়েছিলেন। পেশাদার ও নির্ভিক সাংবাদিকদের তথ্যানুসন্ধানে সেই জবানবন্দির অডিও টেপ বিভিন্ন জাতীয় স্থানীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পায়। সেখানে জামায়াত আমীর অবলিলায় স্বীকার করেছেন বিলুপ্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা থেকে বর্তমান সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন পর্যন্ত মেয়র আইভীকে কিভাবে কি কৌশলে জামায়াত পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। এর মূল কারণ, পারিবারিকভাবে জামায়াতে ইসলামের সাথে মেয়র আইভীর সৌহার্দ্য পূর্ণ সম্পর্ক।

ঐ জবানবন্দিতে পরিস্কারভাবে জামাতের আমীর বলেছেন, প্রথম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আগে থেকেই আইভীর সঙ্গে বেগম জিয়ার সরাসরি যোগাযোগ ছিল। মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাসের মাধ্যমেই এই সম্পর্কটা হয়। খালেদা জিয়ার সাথে সমঝোতা ছিল নির্বাচনের পর বিএনপিতে যোগ দিবেন আইভী। এই শর্তেই বিএনপির প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকারকে নির্বাচনের শেষ মূহুর্তে গভীর রাতে বসিয়ে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু জামায়াতে ইসলাম চেয়েছিল আইভী যেন আওয়ামী লীগেই থাকুক।

নিজের জবানবন্দিতে জামাত আমীর বলেছেন, বিএনপি-জামাতের পক্ষে শামীম ওসমানকে ঠেকানো সম্ভব নয় তাই আইভীকে আওয়ামী লীগই করতে হবে। ওকে আওয়ামী লীগে রাখতে পারলেই ভালো। এতে বিএনপি-জামায়াত সবার জন্য সুবিধা আছে।

জামায়াতের সঙ্গে আইভীর যোগাযোগ প্রসঙ্গে জামায়াত নেতা মাঈনুদ্দিন বলেন, রিলেশনটা ওপেন হলে সমস্যা। আইভীর মধ্যে কৃতজ্ঞতা বোধ আছে। আমরাও চাই না তাকে (আইভী) বিব্রত করতে। আমাদের যে কোনো কাজে অনুরোধ করলে ডাইরেক্ট, ইনডাইরেক্ট সে বসে সহজে করে দিছে। অনেক কাজ করে দিছে।

ঐ জবানবন্দিতে আরো যে ভয়ঙ্কর তথ্য দেওয়া হয়েছে তা হলো, যে সময় পুরো দেশ যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল, সে সময় মেয়র আইভী যুদ্ধাপরাধী মুজাহিদের পরিবারকে অতি গোপনে জন্মনিবন্ধন করে দিয়েছেন।

জামাতের আমীরের দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছেন, মুজাহিদ সাহেবের ওয়াইফ আর আইভী ক্লাসমেট ছিল। মুজাহিদ সাহেব যখন জেলে, তখন ওনার ছেলেদের জন্মনিবন্ধনও এখানেই হয়েছে। অনেক ঘুরাঘুরি করে যখন পাচ্ছিল না, তখন মুজাহিদের ওয়াইফ আইভীকে বলার পরই আধ ঘণ্টার মধ্যে এই জন্মনিবন্ধন হয়ে গেল। উপরে উল্লেখিত এসব ঘটনা ও আইভীর বক্তব্য প্রমাণ করে দলে জামায়াতের এজেন্ট কে বা কারা। জামায়াতের আমীরের দেওয়া সেই জবানবন্দির প্রতিটি কথাই মিলে যাচ্ছে তার কর্মকাণ্ডে। ফলে আমরা চরম ভাবে শঙ্কিত ও আশঙ্কা করছি যে, নারায়ণগঞ্জে আবারো অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টির পাঁয়তারা করা হচ্ছে। ২০০১ এর ১৬ই জুনের বোমা হামলার মত আবারো কোন পৈশাচিক ঘটনার পরিকল্পনা হচ্ছে কি?

স্বারকলিপির শেষাংশে বলা হয়েছে, আপনার (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) নেতৃত্বাধীন সরকারকে সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করে সাগর-রুনী ও তনু হত্যাকাণ্ড নিয়ে মেয়র আইভীর বক্তব্যে আমাদেরও জিজ্ঞাসা, আসলে তিনি সাগর-রুনী ও তনু হত্যাকাণ্ড নিয়ে এমন কি জানেন? পাশাপাশি ওসমান পরিবারকে খুনী পরিবার আখ্যা দেওয়ার নেপথ্যে যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াত এবং সেই ক্ষমতার জন্য লালায়িত তথাকথিত ডক্টর সাহেবদের প্রেসকিপশন রয়েছে তা অনেকটাই স্পষ্ট। আমরা দলমত নির্বিশেষে আপনাকে শ্রদ্ধা করি ও ভালোবাসি। কারণ আপনি ছাড়া এই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু বিস্মিত হচ্ছি কিছু সংখ্যক লোক যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে ও দলকে সরাসরি আক্রমণ করে বক্তব্য দিচ্ছেন এবং আওয়ামী লীগ দলীয় মেয়র ঐসব বক্তব্য শুনে তাতে সমর্থন দিয়ে আবার বক্তব্য দিচ্ছেন। একই সাথে ঐতিহ্যবাহী এই পরিবারকে আঘাত করে স্বাধীনতার চেতনায় আঘাত করা হচ্ছে, আপনার দলের ক্ষতি সাধন করা হচ্ছে।

আমরা কারো পক্ষে বা বিপক্ষে নই। আমরা সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলতে চাই। কিন্তু উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে আমরা লজ্জিত, দু:খিত ও শঙ্কিত। বিষয়টি আপনাকে অবহিত করা আমাদের দায়িত্ব ও পবিত্র কর্তব্য মনে করছি।

এদিকে জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া সচেতন নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, সেটি তিনি যথাযথ নিয়ম অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেরণ করবেন। তিনি বলেন, স্মারকলিপিটি আমি গ্রহণ করেছি। এটা আমি নিজেও পড়ে দেখব এবং এর সাথে সংযুক্ত গণস্বাক্ষরের কপি ও পেইন ড্রাইভের অডিও ভিডিও বক্তব্য স্মারকলিপির সাথে সামঞ্জস্য আছে কিনা সেটাও পর্যবেক্ষণ করে দেখব। পরে যথাযথ নিয়ম অনুযায়ী সেটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পোঁছানোর ব্যবস্থা করব। 

স্মারকলিপি প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার সামিউল্লাহ মিলন, বর্তমান ডেপুটি কমান্ডার অ্যাডভোকেট মো. নুরুল হুদা, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন ভ’ইয়া সাজনু, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মহসিন মিয়া, জেলা পিপি অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, বাংলাদেশ হোসিয়ারি এসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল আলম সজল, বিকেএমইএর প্রথম সহসভাপতি মুনসুর আহমেদ, বাংলাদেশ পাট আড়ৎদার সমিতির সভাপতি ফয়েজউদ্দিন আহমেদ লাভলু, বাংলাদেশ ক্লথ মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি প্রবীর কুমার সাহা, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ সাহা, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহসভাপতি আলহাজ খবির আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ, সোনারগাঁ পৌরসভার মেয়র মো. সাদেকুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান বাদল, সাধারণ সম্পাদক আবু সাউদ মাসুদ, নিউজ পেপার ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি আরিফ আলম দীপু, নারায়ণগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপক সাহা, সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন, নাসিক কাউন্সিলর শারমিন হাবিব বিন্নি, মতিউর রহমান মতি, আব্দুল করিম বাবু, শফিউদ্দিন আহমেদ প্রধান, নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সভাপতি এস এম সোলায়মান সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার নেতৃবৃন্দ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা