kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় গাছতলায় পাঠদান

হাবিবুর রহমান, দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা)    

১৫ মার্চ, ২০১৯ ১৬:২৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় গাছতলায় পাঠদান

ভবন ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কাদিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান চলছে গাছতলায়। এতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।

শুষ্ক মৌসুমে কোনোমতে পাঠদান চললেও বর্ষা শুরুর আগে নতুন ভবন নির্মাণ অথবা সংস্কার করা না হলে বন্ধ হয়ে যেতে পারে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকায় সংশ্লিষ্ট বিভাগে লিখিত অভিযোগ করেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্কুল কর্তৃপক্ষের। ফলে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে খোলা আকাশের গাছের নিচে মাদুর বিছিয়ে পাঠদান চালানো হচ্ছে। 

বিদ্যালয়ে ২১৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। পাঁচটি ভবনের প্রয়োজন হলেও রয়েছে তিনটি এবং একটি অফিস কক্ষ। একই শ্রেণিকক্ষে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হয়ে থাকে। ১৯৯৪ সালে নির্মিত ভবনের দেয়ালের চারদিকে ফাটল ও ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ে রড বেরিয়ে পড়েছে। বৃষ্টি হলেই ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়তে থাকে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসমা খাতুন বলেন, বিদ্যালয়ে যেখানে ছয়টি শ্রেণিকক্ষ প্রয়োজন সেখানে অফিস কক্ষসহ রয়েছে চারটি কক্ষ। এর মধ্যে তিনটি কক্ষে পর্যায়ক্রমে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া হয়। আবার কখনো গাছের নিচে নেওয়া হয় ক্লাস। এ ছাড়া দীর্ঘদিনের পুরনো ভবন ঝুঁকিপূর্ণ বলা না গেলেও দেয়ালের প্রায় চতুরদিকে ফাটল দেখা দিয়েছে। আবার ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ে রড বেরিয়ে গেছে। যে কোনো সময় প্লাস্টার খসে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এর মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হচ্ছে।

প্রধান শিক্ষক আরো বলেন, দুটি টয়লেট থাকলেও তা জরাজীর্ণ হয়ে একেবারেই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে যা শিক্ষাথীদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বলে মনে করেন অনেকে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিভাগে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

দামুড়হুদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাকি ছালাম বলেন, ভবন ঝুঁকিপূর্ণ নয়, তবে জরাজীর্ণ হয়ে গেছে। আমরা ভবন মেরামতের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট দুই লাখ টাকার চাহিদা পাঠিয়েছি। আশা করছি দ্রুত বিদ্যালয়টি সংস্কার করা হবে।

স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইউনুছ আলী বলেন, ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হলেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। নেই সীমানা প্রাচীর। প্রয়োজনীয় সংখ্যক শ্রেণিকক্ষ নেই। টয়লেট একেবারেই ব্যবহারের অনুপযোগী। প্রতিষ্ঠানটি চার বিঘা জমির ওপর নির্মিত হলেও পাঁচ কাঠা জমি অন্যের দখলে। তিনি বলেন, বিদ্যালয়টি সংস্কার করে টেকসই হবে না। বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় সংখ্যক শ্রেণিকক্ষসহ ভবন ও সীমানা প্রচীর দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানান তিনি। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা