kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

লোহাগড়ার নলেন গুড়ের সন্দেশ যাচ্ছে বিদেশেও

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি    

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২০:০৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লোহাগড়ার নলেন গুড়ের সন্দেশ যাচ্ছে বিদেশেও

কদর বেড়েছে নলেন গুড়ের সন্দেশের। হ্যাঁ যদি হয় নড়াইলের লোহাগড়ার নলেন গুড়ের খাঁটি সন্দেশ তবে তো কথাই নেই। এমনটাই হবার কথা। আজকাল এলাকায় বেশি বেড়েছে নলেন গুড়ের সন্দেশের চাহিদা। এ সন্দেশ এখন এলাকার চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে বিদেশেও।

প্রকৃতির ইতিহাস থেকে জানা যায়, মিষ্টির সৃষ্টি রস থেকে। আর রস থাকলেই আমরা তাকে রসবোধ সম্পন্ন মানুষ বলে থাকি। যিনি কখনো লোহাগড়ার নলেন গুড়ের সন্দেশের স্বাদ গ্রহণ করেননি তিনি তো আর বুঝবেন না কি স্বাদ থেকে বঞ্চিত করেছেন নিজেকে। তাকে রসবোধহীন বললেও হয়তো বা ভুল হবে না। মানুষ স্বভাবতই মিষ্টি পছন্দ করে। আর কাঙ্ক্ষিত সেই মিষ্টি যদি হয় লোহাগড়ার লক্ষীপাশা খেয়াঘাটস্থ সাহা সুইটস এর নলেন গুড়ের সন্দেশ। বিয়ে, সুন্নতে খাৎনা, নববর্ষ ছাড়াও এমন কোনো অনুষ্ঠান নেই যেখানে ওই দোকানের সন্দেশ সরবরাহ করা হয় না। শিশুরা যদি কান্নাকাটি করে তাহলে তার মুখে একটি নলেন গুড়ের সন্দেশ তুলে দিলে কান্না থেমে যায়। এ সন্দেশের গুণ এমনটাই।

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের আনাচে-কানাচে এ সন্দেশের গুণের কথা পৌঁছে যাচ্ছে। শীত মৌসুমে গাছিদের কাছ থেকে দোকানদাররা খেঁজুর গাছের খাঁটি নলেন রস সংগ্রহ করে থাকে। সেই রস থেকেই নলেন গুড় তৈরি হয়। আর এ গুড় থেকেই তৈরি হয় সন্দেশ। প্রতি কেজি সন্দেশ ৩ শ টাকায় বিক্রি হয়। মন্ত্রী, এমপি, সচিবদের তুষ্ট করাসহ চাকরি, পদোন্নতি, প্রেম-বিয়ে এ মিষ্টির বদৌলতে পোক্ত হয়। প্রতি দিন গড়ে ওই দোকানে ৩/৪ মণ মিষ্টি বিক্রি হয়ে থাকে। বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা বিশেষ করে এসএসসি ও এইচএসসি’র পরীক্ষার ফলাফলের দিন ওই দোকানের মিষ্টি কেনার হিড়িক পড়ে যায়। এ সন্দেশ খেতে চলে আসে ঢাকাসহ আশ-পাশের জেলার ভোজন বিলাসী মানুষজন। এ সন্দেশ বিদেশেও সমাদৃত হচ্ছে। প্রবাসীরা তাদের স্বজনদের মাধ্যমে এর স্বাদ গ্রহণ করতে পিছিয়ে নেই।

এ ব্যাপারে কথা হয় সাহা সুইটস এর বর্তমান পরিচালক নলেন গুড়ের সন্দেশের কারিগর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার (বিএসসি) অভিজিত সাহা অভির সাথে। তিনি জানান, ১৯৭১ সালে আমার দাদা সচিন্দ্রনাথ সাহা নলেন গুড়ের সন্দেশ তৈরি করে বিক্রি করতেন। বাজারে প্রচুর চাহিদা ও সুনাম থাকায় দাদার মৃত্যুর পর দাদি নমিতা রাণী সাহা হাল ধরেন। নলেন গুড়ের সন্দেশ তৈরি ও বিক্রি  আমাদের পৈত্রিক ঐতিহ্য হিসেবেই যেন রয়েছে। ভোক্তাদের হাতে ভালোমানের মিষ্টি বা খাঁটি নলেন গুড়ের সন্দেশ তুলে দিতে পারলে নিজেরাও খুব তৃপ্ত হই। সৌদিআরব, দুবাই, আমেরিকা, জাপান কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে এই সন্দেশ লোক মারফত হরহামেশাই যাচ্ছে। তবে ভারতেই বেশি চাহিদা।

লোহাগড়ার বাসিন্দা আকরামুজ্জামান মিলু ও মো. খায়রুল ইসলাম জানান, প্রতি বছরই আমেরিকায় বসবাসরত আমাদের ছেলের জন্য নলেন গুড়ের সন্দেশ পাঠাই।

সহকারী শিক্ষা অফিসার চঞ্চল শেখ বলেন, অন্য জেলা থেকে লোহাগড়ায় কেউ বেড়াতে আসলে তাকে অন্তত নলেন গুড়ের সন্দেশ না খেয়ে যেতে দেই না।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সন্দেশ ছাড়াও রয়েছে নলেন গুড়ের চমচম। কেজি ২শ টাকা। এর চাহিদাও অনেক। বছরের প্রায় ৬ মাস এ সন্দেশ ও চমচম পাওয়া যায়। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা