kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১            

চকবাজার অগ্নিকাণ্ড: শরীয়তপুরের দুই পরিবারে শোকের মাতম

শরীয়তপুর প্রতিনিধি    

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২১:৪৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চকবাজার অগ্নিকাণ্ড: শরীয়তপুরের দুই পরিবারে শোকের মাতম

ঢাকার চকবাজারের চুরিহাট্টা গলিতে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে শরীয়তপুরের দুই ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। একজন ওই এলাকার ওয়াহেদ ম্যানশনের মদিনা ডেকোরেটর দোকানের শ্রমিক বিল্লাল হোসেন চৌকিদার (৪৫)। অপরজন পাশের বড়কাটরা এলাকার একটি মাদরাসার শিক্ষক মুফতি ওমর ফারুক (৩৫)।

বিল্লাল হোসেন চৌকিদারের বাড়ি শরীয়তপুর সদর উপজেলার গ্রামচিকন্দি গ্রামে। আর ওমর ফারুকের বাড়ি নড়িয়া উপজেলার পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চল চরআত্রা মুন্সিকান্দি গ্রামে। তাঁদের এ মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মাতম চলছে পরিবারের সদস্য ও আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, অগ্নিকাণ্ডে নিহত বিল্লাল হোসেন শরীয়তপুর সদর উপজেলার শৌলপাড়া ইউনিয়নের গ্রামচিকন্দি গ্রামের আদাল উদ্দিন চৌকিদারের ছেলে। বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর স্ত্রী ও আট বছর বয়সী মেয়ে নিয়ে ঢাকার লালবাগ এলাকার শহীদবাগে ভাড়ার বাসায় বসবাস করতেন। মেয়ে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। শ্রমিকের কাজ করতেন চুরিহাট্টা গলির ওয়াহেদ ম্যানশনের মদিনা ডেকোরেটরের দোকানে। বুধবার কাজ শেষ করে রাতে বাড়ি ফেরার কথা ছিল বিল্লাল হোসেনের। কিন্তু আগুন ছড়িয়ে পড়লে ভবনের ওই দোকানে আটকা পড়েন তিনি। পরের দিন সেখান থেকে তার পোড়া মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

বিল্লালের চাচা সুলতান হোসেন বলেন, সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন বিল্লাল। তার করুন মৃত্যুতে স্ত্রী-সন্তান পাগলপ্রায়। ঢাকার আজিমপুরে লাশ দাফন করা হয়েছে।

বিল্লালের স্ত্রী রুমা বেগম বলেন, বাসা থেকে রাত সাড়ে ৯টার দিকে কাজের উদ্দেশ্যে চকবাজার মদিনা ডেকেরেটর যান আমার স্বামী। ঘটনার ১৫ মিনিট আগে তাঁর সঙ্গে আমি কথা বলি। যখন আগুন লাগে তখন বার বার ফোন দেই, আমার স্বামীর ফোন বন্ধ পাই। জানতে পারি আগুনে পুড়ে যারা নিহত হয়েছেন তাদের লাশ নাকি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হামপাতালে নেওয়া হয়েছে। দৌঁড়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যাই। সেখানে আমার স্বামীর লাশ পাই।

নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদীর দুর্গম চরআত্রা ইউনিয়ন। ওই ইউনিয়নের চরআত্রা মুন্সিকান্দি গ্রামের করিম মাদবরের ছেলে মুফতি ওমর ফারুক। তিনি  পাশের মুন্সিগঞ্জের একটি মাদ্রাসায় পড়ালেখা করেন। ঢাকার বড়কাটরা এলাকায় অবস্থিত একটি মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন। গত বুধবার রাতে কাজ শেষে মাদরাসায় ফেরার পথে চকবাজারের চুরিহাট্টা গলিতে আটকা পড়েন তিনি। উদ্ধারকর্মীরা সেখান থেকে তার পুড়ে যাওয়া মৃতদেহ উদ্ধার করেন।

খবর পেয়ে গ্রাম থেকে পরিবারের সদস্যরা তার লাশ শনাক্ত করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতেই তার লাশ মামা বাড়ি মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের দীঘিরপার গ্রামে দাফন করা হয়।

ওমর ফারুকের বাবা করিম মাদবর বলেন, 'আমার বাবার ছুটিতে বাড়ি আসার কথা ছিল। তার মাকে ডাক্তার দেখাতে ঢাকায় নেওয়ার কথা ছিল। বাবাতো আর বাড়ি আসল না, আর আসবেও না। পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে।'

চরআত্রা মুন্সিকান্দি গ্রামের বাসিন্দা চিকিৎসক তৌহিদ মুন্সি বলেন, ছেলেটি অনেক ভালো ছিল। তার দুই বছর বয়সী একটি শিশু কন্যা রয়েছে। তিনি প্রায়ই আমার কাছে আসতেন। এভাবে তিনি মারা যাবেন  কল্পনাও করতে পারিনি। তার মৃত্যু মানতে পারছি না। খবর পেয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকা মেডিক্যালে ছুটে যাই। লাশ এনে দাফন করি।

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের বলেন, 'মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শরীয়তপুরের দুইজনের করুন মৃত্যু হয়েছে। সরকার ঘোষিত সকল অনুদান তাঁদের পরিবার পাবে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসন ওই দুজনের পরিবারকে সব ধরনের সহায়তা দেবে।'  

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা