kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

সোনারগাঁয়ে নাতিগ্রুপের হামলায় নিহত ১

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০২:০২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সোনারগাঁয়ে নাতিগ্রুপের হামলায় নিহত ১

অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে নাতি গ্রুপের জমি দখলে বাধা দেওয়ায় লাল মিয়া নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে আটক করেছে সোনারগাঁ থানা পুলিশ।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী এলাকাবাসীরা জানান, উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের ললাটি গ্রামের আব্দুস সামাদের সঙ্গে একই এলাকার খোরশেদ মিয়া ও তার স্বজনদের দীর্ঘদিন ধরে ১৯ শতাংশ জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল।

জানা যায়, ললাটি মৌজার এস এ খতিয়ান ৩ ও দাগ নং-১৩২ এবং আর খতিয়ান-৩৬ ও ৩২১ নং দাগের ১৯ শতাংশ জমি খোরশেদ গংরা ভোগ দখল করে আসছে। কিন্তু সামাদ গং জমিটি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে জমিটি দখল নিতে আব্দুস সামাদ নাতি গ্রুপের প্রধান আনোয়ার হোসেন ওরফে হাজী আনোয়ারের নামে আমমোক্তার নামা দালিল করে দেয়।

আরো জানা যায়, আনোয়ার হোসেন জমি দখলের পরিকল্পনায় আব্দুস সামাদ বাদী হয়ে খোরশেদ গংয়ের নামে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। সামাদের প্রতিপক্ষ খোরশেদ আলম সহ তার পরিবারের নুর আলম, মাজহারুল ইসলাম, মালা আক্তার, নাজমা বেগম ও আসমা বেগমকে আটক করে পুলিশ। বর্তমানে তারা জেল হাজতে রয়েছেন। এ সুযোগে সামাদ ও আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে হাবিবুর রহমান, মিঠু মিয়া, আল আমিন, গোলজার হোসেন সহ ৫০/৬০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জমিটি দখল করতে যায়। জমির মালিক খোরশেদ মিয়ার ফুফা লাল মিয়া তাদের দখল বাজিতে বাধা দেন। এ সময় আনোয়ার হোসেন সহ তার লোকজন তাকে পিটিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করেন। আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে লাল মিয়া মারা যান। নিহত লাল মিয়া ললাটি এলাকার মৃত মহিউদ্দিনের ছেলে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আব্দুস সামাদ ও তার ছেলে মহি উদ্দিনকে আটক করেছে পুলিশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শী একজন জানান, সন্ত্রাসীদের নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করলে লাল মিয়া বাঁধা দিতে আসলে প্রয়োজনে লাশ ফেলে জমি দখলের হুমকি দেন আনোয়ার হোসেন। এ সময় ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা লাল মিয়ার উপর হামলা করে। একসাথে বিশাল সন্ত্রাস বাহনী দেখে আতঙ্কিত গ্রামবাসী গ্রামে ডাকাত পড়েছে বলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেন। পরে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

লাল মিয়ার নিহত হওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পরলে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী আনোয়ার হোসেনের ব্যবহৃত গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

ঘটনার পরপরই আনোয়ার হোসেন উপজেলায় চলে আসে। সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে নিজের মোবাইল এবং ফেসবুক আইডি বন্ধ করে গাঁ ঢাকা দেয়।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, নাজিরপুর গ্রামের হযরত আলীর ছেলে আদম ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছেন। সে এলাকার শত শত মানুষের কাছ থেকে ইউরোপে পাঠানোর কথা বলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এলাকাবাসীর চাপে পরে সে দড়িকান্দি গ্রামে এসে বাড়ি করে। আনোয়ার হোসেন প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বিভিন্ন সময় সেলফি তোলে তার নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করে নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে জাহির করে।

এ ছাড়াও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিদায়, বরণ এবং কিছু সামাজিক কাজকে তার অপকর্মের সাইনবোর্ড হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। দুই বছর আগে সে ৪০-থেকে ৫০ জনের একটি দল নিয়ে নাতিগ্রুপ তৈরি করে মাদক ব্যবসা, জমি দখলসহ নানা অপকর্ম করলেও তার ভয়ে এলাকাবাসী কোনো রকম প্রতিবাদ করতে পারে না। এ বিষয়ে জানতে আনোয়ার হোসেনের মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ দুজনকে আটক করেছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা