kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

যাত্রী ছাউনির সঙ্গেও শুত্রুতা‌!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৯:২১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যাত্রী ছাউনির সঙ্গেও শুত্রুতা‌!

রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া সড়কের জেলার কালুখালী বাস স্ট্যান্ডের যাত্রী ছাউনিটি রাতের আঁধারে গুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার রাতের আঁধারে একতলা পাকা যাত্রী ছাউনিটি গুড়িয়ে দেয়ার এমন দৃশ্য আজ বৃহস্পতিবার সকালে দেখে হতবাক হয়েছেন স্থানীয়রা।

কালুখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী সাইফুল ইসলাম জানান, আজ তিনি এবং কালুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি আরো বলেন, কয়েক লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে ১৯৯৪ সালে বাসসহ অন্যান্য যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করাসহ রোদ, ঝড়, বৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া সড়কের পাশে জেলার কালুখালী উপজেলা সদরের চাঁদপুর বাস স্ট্যান্ডে ওই যাত্রী ছাউনিটি নির্মাণ করে রাজবাড়ী জেলা পরিষদ। আর ওই যাত্রী ছাউনির পেছনে ছিলো স্থানীয় চাঁদপুর গ্রামের আফান সেখের ছেলে আদেল সেখ ও আজাই সেখের জমি। সাম্প্রতিক সময়ে বাসস্ট্যান্ড এলাকাটি জমজমাট হয়ে উঠেছে। আশপাশ এলাকায় গড়ে উঠেছে দোকানপাটসহ নানা ধরণের ব্যবসা কেন্দ্র। যে কারণে গত ৩ মাস আগে তারা জমিটি জনৈক এক প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে। ওই প্রভাবশালীর হাতের ছোয়ায় রাতের আঁধারে যাত্রী ছাউনিটি গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সেই সাথে যাত্রী ছাউনির ইট ও লোহার রড গুলোও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে শুধু পরে আছে ভবনের ফলেস্তারা।

কালুখালী থানার ওসি এসএম আবু ফরহাদ জানান, সড়ক বিভাগ রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া সড়ক সম্প্রসারণের কাজ করছে। গত বুধবার রাত ১২টার পর বেকু দিয়ে (মাটি কাটার যন্ত্র) ওই যাত্রী ছাউনিটি ভেঙ্গে ফেলা হয়। স্থানীয়রা ভেবেছে ওই যাত্রী ছাউনিটি সড়ক বিভাগের নিযুক্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন ভেঙ্গেছে। তিনিও আজ সকালে বিষয়টি জেনেছেন। আজ বিকালে রাজবাড়ী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তাকে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। তিনি তাকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছেন। অভিযোগ পেলে অবশ্যই অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। 

রাজবাড়ী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাদ্দাম হোসেন জানান, যাত্রী ছাউনি ভাঙ্গার কোন নির্দেশনা তারা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দেননি। ফলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওই যাত্রী ছাউনিটি ভাঙ্গেনি। রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা সেটা ভেঙ্গেছে।

রাজবাড়ী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফকির আব্দুল জব্বার জানান, খবর পেয়ে তিনিও আজ বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সেই সাথে কালুখালী থানার ওসিকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে অপরাধীকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দিয়েছেন।

রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মোঃ শওকত আলী জানান, রাতের আঁধারে যাত্রী ছাউনির মত জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়াটা কোন সভ্য মানুষের দ্বারা সম্ভব নয়। ফলে অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা