kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১                     

শ্রীবরদীর ৬টি গ্রামে খাবার পানির তীব্র সংকট, দুর্ভোগে কয়েক হাজার মানুষ

শ্রীবরদী (শেরপুর) প্রতিনিধি   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১১:১১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শ্রীবরদীর ৬টি গ্রামে খাবার পানির তীব্র সংকট, দুর্ভোগে কয়েক হাজার মানুষ

শেরপুরের শ্রীবরদীর সীতান্তবর্তী এলাকার রানীশিমুল ইউনিয়নের ৬টি গ্রামে খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিশুদ্ধ খাবার পানি না পেয়ে তারা নির্ভর করছে পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝর্ণা, পুকুর ও মাটির কুয়ার ওপর। এসব দূষিত পানি পান করায় এলাকায় দেখা দিয়েছে পানিবাহিত নানা রোগ। পানি সংকটের কারণে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন কয়েক হাজার মানুষ। 

প্রশাসন জানায়, দ্রুত গভির নলকূপ স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সম্প্রতি সরেজমিন গেলে ভুক্তভোগি, গ্রামবাসী ও প্রশাসনের কর্মকর্তার সাথে কথা বলে ওঠে আসে এমন তথ্য।

গ্রামবাসীরা জানান, শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার রানীশিমুল ইউনিয়নের মালাকোচা, বড়ইকুচি, হালুহাটি, বিলভরট,বালিজুরি, টেংগরপাড়া গ্রামে খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত ডিসেম্বর মাস থেকে ওইসব গ্রামে অনেকের টিউবওয়েলে পানি ওঠে না। এমনকি অনেক বাড়ির আশপাশে নেই কোনো গভীর নলকূপ। এজন্য বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকটে পড়েছেন ওইসব গ্রামের ৫/৬ হাজার মানুষ। গ্রামবাসীরা নিরুপায় হয়ে পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝর্ণা, ডোবা নালা, পুকুর ও মাটির কুয়া থেকে পানি সংগ্রহ করে পান করছে। এতে এলাকায় বাড়ছে ডায়রিয়াসহ নানা রোগের প্রাদুর্ভাব। তবে রোগে আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যাই বেশি। এ ব্যাপারে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অবস্থার আরো অবনতি হতে পারে বলে আশংকা করছেন গ্রামবাসীরা। 

মালাকোচা গ্রামের আলতাফ হোসেন, আব্দুর রহমান, হালুহাটি গ্রামের রাজু মিয়া, কফিল উদ্দিন, সুলতান মিয়া, বাক্কী মিয়া, খোকা মিয়া, ছামিউল ইসলামসহ অনেকে জানান, প্রায় দুই মাস থেকে তারা ঝর্ণা, ডোবা-নালা, মাটির কুয়া ও পুকুরের পানি পান করছে। এতে তাদের মধ্যে পেটের অসুখ লেগেই আছে। তাদের দাবি দ্রুত গভীর নলকূপ স্থাপনের। 

রানীশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ রানা বলেন, বিষয়টি উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় আলোচনা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেঁজুতি ধর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলকে অবহিত করেছেন। 

উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম জুয়েল কালের কণ্ঠকে বলেন, আমি গণসংযোগে এসে বিষয়টি দেখতে পাই। পরে তাদেরকের সহায়তার জন্যে প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছি। এখানে গভীর নলকূপ স্থাপনে যে অর্থ ব্যয় হবে, প্রয়োজনে তিনিও সহায়তা করবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন। 

শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকা উপ সহকারি প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান জানান, ওই গ্রামগুলোতে ভূগর্ভে পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। এ জন্য সাধারণ টিউবওয়েল থেকে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ওই এলাকায় দ্রুত গভির নলকূপ স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে একটি নলকূপ স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পরবর্তী এলাকাতেও গভির নলকূপ স্থাপন করা হবে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা