kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

সাপাহারে ৯৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই শহীদ মিনার

সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৯:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাপাহারে ৯৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই শহীদ মিনার

আর একদিন পর ভাষা শহীদদের স্মরণে সারা দেশে তথা বিশ্বে পালিত হবে আর্ন্তজাতিক মতৃভাষা দিবস। যে দিবসটি না ঘটলে আমরা হয়তো মায়ের ভাষায় কথা বলতে পারতাম না। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এ দিবসটি পালনে নওগাঁর সাপাহার উপজেলার ৯৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৯৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো শহীদ মিনার নেই।

অথচ সরকারিভাবে প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করার নির্দেশনা রয়েছে। তবে উপজেলার প্রায় সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার না থাকায় ভাষা শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারছে না অসংখ্য শিক্ষার্থীরা।

বহুকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতি বছর নিজস্ব উদ্যোগে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করে কিংবা দূরের কোনো শহীদ মিনারে আন্তর্জাতিক শহীদ দিবস পালন করার জন্য কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে মাইলের পর মাইল পথ প্রভাত ফেরির মধ্য দিয়ে নগ্ন পায়ে হেঁটে নিয়ে যাওয়া হয় শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসটি জাতীয় দিবস তাই উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কলাগাছের তৈরি শহীদ মিনার আবার কোথাও বিদ্যালয়ের হাইবেঞ্জ দিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করে শহীদদের স্মরণে দিবসটি পালন, আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল করা হয়।

মায়ের ভাষায় কথা বলার তৎপর্য তুলে ধরে কোমলমতি শিশুদের বোঝার জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ে একটি করে শহীদ মিনার নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি বলে এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা মনে করছেন তাই অবিলম্বে প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার স্থাপনের দাবি তাদের।

উপজেলার রামরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যলয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমাদের বিদ্যালয় থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে ইউনিয়ন পর্যায়ে একটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার রয়েছে। প্রতি বছর দিবসটি এলে সেখানে আমরা ২ জন শিক্ষক গিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলী প্রদান করে থাকি। ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের খুব সকালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না তাই আমরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কলা গাছ দিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করে আলোচনা ও মিলাদ মাহফিলের মধ্যে দিয়ে এ দিবসটি পালন করে থাকি। তাই আমরা আমাদের বিদ্যালয়ে স্থায়ীভাবে শহীদ মিনার তৈরি করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শহিদুল আলমের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমরা প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ে চিঠি দিয়েছি দিবসটি উদযাপন করার জন্য এবং উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে আবেদন করব যাতে উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি করে শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কল্যাণ চৌধুরীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, ৯৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তবে আমি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে কর্মপরিকল্পনা করে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ ও স্কুল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছোট পরিসরে হলেও শহীদ মিনার স্থাপনের চেষ্টা করব। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা