kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

অভয়নগরে স্কুলমাঠ ভরাটের নামে বালু ব্যবসার পাঁয়তারা

খেলাধুলা বন্ধ, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী-অভিভাবক-এলাকাবাসী

মাসুদ তাজ, অভয়নগর (যশোর)    

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১২:৪৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অভয়নগরে স্কুলমাঠ ভরাটের নামে বালু ব্যবসার পাঁয়তারা

যশোরের অভয়নগর উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নে অভয়নগর পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের নামে বালু ব্যবসা করার পাঁয়তারা করছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। মাঠের চারপাশে বাঁধ দিয়ে বালু রাখার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। নোটিশ দিয়ে বন্ধ করা হয়েছে খেলাধুলা। প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বক্তব্যে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী এমনটাই বলছেন। এ ঘটনা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, স্কুল মাঠের চারপাশে প্রায় দুই ফুট পরিমাণ গর্ত করা হয়েছে। গর্তের মাটি দিয়ে ৩/৪ ফুট উঁচু বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। দেখে মনে হবে বালু স্তূপ করার জন্যই এমনটি করা হয়েছে। এছাড়া 'বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ বালু দ্বারা ভরাটের কারণে সাময়িকভাবে সব ধরনের খেলাধুলা স্থগিত করা হলো' মর্মে স্কুল কর্তৃপক্ষ মাঠের চারিপাশের গাছে বিজ্ঞপ্তি ঝুলিয়ে দিয়েছে।  

শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয় চলাকালীন শিক্ষার্থীরা এবং বিকালে এলাকার ছেলে-মেয়েরা এ মাঠে খেলাধুলা করে। একমাত্র খেলার মাঠটি বালু দিয়ে ভরাটের নামে বালুর ডিপো তৈরির চেষ্টা করছে ম্যানিজং কমিটি ও কয়েক শিক্ষক। নোটিশ দিয়ে খেলাধুলা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বালু দিয়ে মাঠ ভরাট বন্ধে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইউনিয়নের শিবনগর থেকে অভয়নগর পাইলট স্কুল পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণের কাজ শুরু হয়েছে। রাস্তার ঠিকাদারকে বালু দেয়া ও দীর্ঘ মেয়াদে বালুর ব্যবসা করতে ম্যানিজং কমিটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যা দুঃখজনক ঘটনা। তাছাড়া একবার বালু ফেলা হলে ৫/৭ বছরের মধ্যে মাঠে কোনো প্রকার খেলাধুলা করা সম্ভব হবে না। বালুর কারণে ঠিকমত ক্লাসও করতে পারবে না শিক্ষার্থীরা। বালু না ফেলে মাটি দিয়ে মাঠ ভরাট করার দাবি জানান তাঁরা। 

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সবুর উদ্দিন বালু ব্যবসা বা রাস্তার ঠিকাদারকে বালু দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, স্কুল মাঠ ভরাটের জন্য বালু দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে, অন্য উদ্দেশ্যে নয়। প্রায় একমাস আগে ম্যানেজিং কমিটির মিটিংয়ে রেজুলেশন করে বালু ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী কাজ শুরু করা হয়েছে। মাঠের চারপাশে গর্ত করে বাঁধ দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর দেননি।  

এ ব্যাপারে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক মনেশ কান্তি মন্ডল জানান, ২০১৮ সালের জুলাই মাসে ম্যানেজিং কমিটির মিটিং এর মাধ্যমে রেজুলেশন করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল যে স্কুল মাঠের পূর্ব পাশে একটি গর্ত, দক্ষিণ-পূর্ব কোণে একটি পুকুর ও খেলার মাঠের নীচু স্থান বালু দিয়ে ভরাট করা হবে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ শুরু হওয়ার কথা। এ ছাড়া অন্য কোনো বিষয় আছে কিনা তা তিনি জানেন না বলে জানান। 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশীষ কুমার বিশ্বাস বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়ে বলেন, খেলাধুলা বন্ধ করে স্কুল মাঠ বালু দিয়ে ভরাট করাটা সমীচীন হবে না। শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে খেলাধুলার বিকল্প অন্য নিছু নয়। এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা চাইলে বাধা সৃষ্টি করে এ কাজ বন্ধ করে দিতে পারে।  

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা