kalerkantho

রবিবার। ১৮ আগস্ট ২০১৯। ৩ ভাদ্র ১৪২৬। ১৬ জিলহজ ১৪৪০

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

ঈশ্বরদীতে নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ নেতা!

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২২:১৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঈশ্বরদীতে নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ নেতা!

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বী স্থানীয় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতার মনোনয়ন ফরম জমাদানসহ মনোনয়ন ফরম জমা দিলেন ৫ চেয়ারম্যান আর পুরুষ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৬ জন প্রার্থী।

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ঈশ্বরদীতে এবার দুই ভাগে আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েছে। তাদের মধ্যে চলছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা। আর স্থানীয় নেতাদের পক্ষ থেকে চালানো হচ্ছে সমঝোতার প্রচেষ্টা। এই সমঝোতা সম্ভব নয় বলে ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের স্থানীয় শীর্ষ নেতারা হালও ছেড়ে দিয়েছেন। এখন পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন কেন্দ্রীক এমনটাই চিত্র।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র মতে, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ থেকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বর্তমান চেয়ারম্যান ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মকলেছুর রহমান মিন্টুকে মনোনয়ন না দিয়ে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান বিশ্বাসকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যান হিসেবে নিজের জনপ্রিয়তা থাকা শর্তেও দলীয় নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন না পেয়ে অভিমান, ক্ষোভ ও দুঃখে চেয়ারম্যান মিন্টু বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম উত্তোলন ও জমা দিয়েছেন। তাই স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম উত্তোলন ও জমা দিয়েছেন।

সূত্রগুলো আরো জানান, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছেন। উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের শীর্ষ কিছু নেতারা নৌকা প্রতীক পাওয়া নুরুজ্জামান বিশ্বাসের পক্ষে রয়েছেন। আর উপজেলা, পৌর আওয়ামী লীগের কিছু মাঝারি কাতারেরসহ ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারা বিদ্রোহী প্রার্থী মিন্টুর পক্ষে রয়েছেন। তবে নৌকার সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মকলেছুর রহমান মিন্টু বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে কাজ করবেন এটা নিয়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ও কর্মীরা বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন বলেও সূত্রগুলো দাবি করেছেন।

এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইসাহক মালিথার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ চরম বিব্রতবোধ করছেন। অস্বস্তির মধ্যে রয়েছেন। কেন্দ্র থেকে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা যোগ্য প্রার্থী হিসেবে নুরুজ্জামান বিশ্বাসকে নৌকা প্রতীক দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে যাওয়া মানেই সভানেত্রীকে অসম্মান করা। আমরা আশা করছি, যথা সময়ে বর্তমান চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান মিন্টু তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে জননেত্রীর আদেশের প্রতি সম্মান দেখাবেন।

তিনি আরো বলেন, আর যদি মিন্টু তার মনোনয়ন প্রত্যাহার না করেন তাহলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তার পক্ষে থাকবে না। সবাই নৌকাপ্রতীকের পক্ষে কাজ করবেন বলে আশা ব্যক্ত করে এই নেতা। 

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্র মতে, দ্বিতীয় ধাপে ১৮ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এবার চেয়ারম্যান পদে ৫ জন, ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) পদে ৮ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৮ জন মনোনয়ন উত্তোলন ও জমা দিয়েছেন।

চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীরা হলেন আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় নৌকা প্রতীকে নুরুজ্জামান বিশ্বাস, বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান মিন্টু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও ছলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চারবারের সাবেক চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান, স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে সাইফুল আজাম বিপ্লব মল্লিক ও মোস্তাফিজুর রহমান।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। এরা হলেন বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন বিশ্বাস, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম খান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান মিলন, ছলিমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নায়েক (অব.) এম এ কাদের, পৌর আওয়ামী লীগের সহ- প্রচার সম্পাদক মইনুল ইসলাম লাহেড়ী মিন্টু, লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুল হক মোল্লার ছোটভাই মেহেদী হাসান লিখন, পৌর আওয়ামী লীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান চঞ্চল ও ইমরুল কায়েস দারা।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদেও ৮ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এরা হলেন বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদা বেগম, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এমপি কন্যা মাহজেবিন শিরিন পিয়া, আওয়ামী লীগ নেত্রী আতিয়া ফেরদৌস কাকলী, সাবিনা ইয়াসমিন, জান্নাতুন ফেরদৌস রুনু, রুনা খাতুন, সুমাইয়া সুলতানা হ্যাপী ও ফেরদৌস আরা বেবী মনোনয়ন ফরম জমা দেন।

উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা জিন্নাহ আরা জলি এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ২০ ফেব্রুয়ারি মনোনয়ন যাচাই বাচাই হবে। ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ। আর আগামী ১৮ মার্চ ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা