kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কাঁকনের বুক জুড়ে কৃষি বিপ্লব

খরস্রোতা নদী এখন সরু খাল

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৮:১২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



খরস্রোতা নদী এখন সরু খাল

কাঁকন নদীকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশ আমলে গড়ে ওঠে রায়পুরা উপজেলার রায়পুরা বাজার ও শ্রীরামপুর হাট। দীর্ঘ দিন ধরে খনন না হওয়ায় ও ক্রমাগত পলি মাটি জমে নদী হারিয়েছে তার নাব্যতা। এখন পরিণত হয়েছে সরু খালে। নদীর বুক জুড়ে ঘটেছে কৃষি বিপ্লব। পুরো নদী এখন কৃষকদের ধানী জমির দখলে। নদীর ৪.৭৫ কি. মি. অংশে কোথাও হাঁটু পানি আবার কোথাও এর চেয়েও কম পানি। অথচ কিছু বছর আগেও নদীতে শুষ্ক মৌসুমে থাকত গলা পানি।

বর্তমানে একটি সরু খাল ছাড়া কাঁকনের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া মুশকিল। ঐতিহ্যবাহী শ্রীরামপুর পুলের ঘাট এখন রূপকথার গল্প। নদীর পাড়ে দালান ওঠায় ঘাটের অস্তিত্ব প্রায় বিলীন। শ্রীরামপুর হাটকে কেন্দ্র করে শুক্র ও সোমবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নৌকা যোগে আসতো ক্রেতা ও বিক্রেতারা। কালের বিবর্তনে নদী হারিয়েছে তার পুরনো রূপ। কাঁকনের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে প্রযোজন সঠিক তদারকি ও নদী খননের ব্যবস্থা করা। এমটাই মনে করে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো।

কথা হয় গোপাল চন্দ্র বর্মন এর সাথে। তিনি জানান, হতভাগা কাঁকন নদীর পাশেই তার বাড়ি শ্রীরামপুর জেলে পাড়ায়। এ নদীর পাড়ে তাঁর জন্ম। শৈশবে নদীর বুকে সাঁতার কেটেছেন। ওই সময় শুষ্ক মৌসুমে নদীতে থাকত গলা পানি। নদীর পাড় ঘেঁষে কালিবাড়ি বটতলায় বসতো মেলা। নদীর বুক জুড়ে ছিলো অসংখ্য দেশীয় প্রজাতির মাছ। আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, সুরু খালটাও হয়তো কিছু দিন পর আর থাকবে না।

রায়পুরা উপজেলা সহকারী কমিশনা (ভূমি) সাদিকুল ইসলাম সবুজ জানান, উপজেলার দুটি নদী খননের জন্য তিনি পানি সম্পাদ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। এরমধ্যে কাঁকন নদীর পাঁচ কি. মি. খনন ও উপজেলার চরআড়ালিয়ার মরা নদী নামও রয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা