kalerkantho

সোমবার । ২১ অক্টোবর ২০১৯। ৫ কাতির্ক ১৪২৬। ২১ সফর ১৪৪১       

নান্দাইলে দালালের খপ্পরে পড়ে প্রসূতির মৃত্যু

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২২:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নান্দাইলে দালালের খপ্পরে পড়ে প্রসূতির মৃত্যু

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গেইটে প্রবেশ করতেই দুই নারী দালালের খপ্পরে পড়েন এক প্রসূতি। পরিবারের কাছ থেকে টেনে নিয়ে পাশেই এক সিভিল সার্জনের বাসায় প্রবেশ করিয়ে কথিত আয়াদের হস্তক্ষেপে প্রসবের সময় ওই প্রসূতি মারা যান বলে অভিযোগ ওঠে।

আজ শনিবার সকাল নয়টার পর এ ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলেও অদৃশ্য কারণে কোনো ধরনের আইনি পদক্ষেপ ছাড়াই ঘটনাটি ফয়সালা হয়ে যায়। তবে এলাকার লোকজন এ ঘটনাটির বিচার দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও নিহত প্রসূতির পরিবার জানায়, ওই প্রসূতি হচ্ছেন নান্দাইল উপজেলার দাতারাটিয়া গ্রামের মো. মোস্তুফার স্ত্রী জিনুয়ারা খাতুন। স্বামী ঢাকায় কাজ করার কারণে সন্তান সম্ভবা জিনুয়ারার প্রচণ্ড ব্যাথা হলে তাঁর মা, বোন ও ভাবী তাঁকে (প্রসূতি) নান্দাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।

ভাবী পারভিন বেগম জানান, সকাল সোয়া সাতটার দিকে জিনুয়ারাকে হাসপাতাল গেইটে প্রবেশ করাতেই দুই নারী এসে পথরোধ করে। তারা এ সময় হাসপাতালের আয়া পরিচয় দিয়ে বাচ্চা প্রসবের নিশ্চিয়তা দিয়ে এক রকম টেনে নিয়ে যায় পাশের একটি বাসায়। সেখানে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বাচ্চা প্রসবের চেষ্টা করে ওই দুই নারী। এক পর্যায়ে বাচ্চা প্রসব করা গেলেও মা (প্রসূতি) চিৎকার থাকা অবস্থায় হঠাৎ নিস্তে হয়ে যান। এই অবস্থায় দুই নারীর জিনুয়ারার পরিবারকে আশ্বস্থ করে মা জিনুয়ারা ঘুমিয়ে গেছে। এমন সময় তারা (দুই নারী) সদ্য নবজাতককে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলে একটি ইজিবাইক করে দেন।

ভাবী পারভিন আরো জানান, নবজাতককে মা হেলেনা বেগম ও বোন পারুল ওই বাসা থেকে বের হয়ে নবজাতক নিয়ে বাড়ি চলে যান। এক পর্যায়ে আধ ঘণ্টা পার হলেও প্রসূতির কোনো ধরনের সাড়াশব্দ না পেয়ে দুই নারী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে ফেলে রেখে লাপাত্তা হয়ে যান। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক মহি উদ্দিন আলমগীর প্রসূতিকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, জরুরি বিভাগে আনার আগেই অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। এটাকে বলে ব্রড ডেড আর মৃত্যুর কারনাটে বলে পোস্ট পাটাম হেমোরাইজ। প্রসূতিকে জরুরিভাবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে রিকোভারি করা সম্ভব ছিল। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দালাল দুই নারী হচ্ছে কল্পনা ও শাহানা বেগম। তারা দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের আশপাশে থেকে আগত রোগীদের আটকিয়ে চিকিৎসার নামে প্রতারণা করে যাচ্ছেন। ওই বাসাটি হচ্ছে নান্দাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাজুল ইসলাম খানের। তিনি বর্তমানে নেত্রকোনা জেলার সিভিল সার্জন।

তিনি ওই বাসাটি তার বাসা কাম চেম্বার স্বীকার করে বলেন, এখানে আমি প্রতি শুক্রবার এসে রোগী দেখি। এ ছাড়া একজন শিক্ষার্থী থেকে লেখাপড়া করে। অন্য কেউ তো রোগী দেখার কথা না।

কল্পনা ও শাহানা কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এরা গরীব বলে বাসাটি দেখভাল করতে বলেছিলাম। এখন যে ধরনের ঘটনা খবর পেয়েছি এই অবস্থায় এখন অন্য চিন্তা করতে  হবে।

এ বিষয়ে নান্দাইল থানার ওসি তদন্ত রুহুল কদ্দুস খান বলেন, নিহত প্রসূতির পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আপত্তি না থাকায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া গেল না। তবে ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক ও মর্মান্তিক।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা