kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

দীর্ঘ ৫০ বছর পর হাতিয়াবাসীর প্রাণের দাবি পূরণ হচ্ছে

হাতিয়ায় মেঘনা নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের উদ্বোধন

নোয়াখালী প্রতিনিধি   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২০:৫৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



হাতিয়ায় মেঘনা নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের উদ্বোধন

নোয়াখালীর মেঘনা বেষ্টিত একমাত্র দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার ৩৫ লক্ষ অধিবাসীর দীর্ঘ ৫০ বছরের প্রাণের দাবি হাতিয়া উপজেলায় ভাঙনের কবল থেকে মেঘনা নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়েছে।

আজ শনিবার দুপুরে হাতিয়া ভউত্তর অংশে ভাঙন কবলিত নলচিরা নৌঘাট এলাকায় নদীতে জিও ব্যাগ ফেলে তীর সংরক্ষণ প্রকল্প আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন স্থানীয় সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদৌউস ও সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী জহির উদ্দিন আহমেদ, নির্বাহী প্রকৌশলী নাছির উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক ওয়ালি উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন আহম্মেদ, হাতিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মাহবুব মোরশেদ লিটন, হাতিয়া পৌর মেয়র একেএম ইউছুফ আলীসহ বিপুল সংখ্যক নারী পুরুষ।

এ সময়ে নলচিরা ঘাটে বিশেষ দোয়া মাহফিলসহ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। হাতিয়া নলচিরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাফর উদ্দিন বাবলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে নোয়াখালী- ৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদৌস, সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলী, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী জহির উদ্দিন আহমেদ, হাতিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক ওয়ালী উল্লাহ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চর কিং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন প্রমূখ।

হাতিয়ার সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদৌস বলেন, এই দ্বীপের দীর্ঘদিনের দাবি বর্তমান সরকার পূরণ করতে যাচ্ছে। বিভিন্ন কারণে হাতিয়া দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকলেও এখন আমরা সকলে এক্যবদ্ধ। হাতিয়াদ্বীপের নদী ভাঙন আমাদের সবচাইতে বড় সমস্যা। নদী ভাঙনে বিস্তীর্ণ অঞ্চল মেঘনার করাল গ্রাসে বিলীন হয়ে গেছে। হাতিয়ার বিপুল সংখ্যক মানুষ তাদের ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে অন্য জায়গায় ঘর বাঁধলেও তাও মেঘনা গিলে খেয়েছে। এ অবস্থার অবসান হবে।

তিনি আরো বলেন, হাতিয়ায় পর্যায়ক্রমে ৭০০ কোটি টাকার কাজ হবে। এখন তীর সংরক্ষণমূলক কাজের জন্য ৫০ লক্ষ টাকার কাজ শুরু হয়েছে। গত ২৭ জানুয়ারি সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামিম এসে বলে গেছেন আগামী ২০ দিনের মধ্যে কাজ শুরু হবে, ইনশাল্লাহ তারা কথা রেখেছেন আমাদের নদী ভাঙন রোধ হবে, হাতিয়ায় জাতীয় বিদ্যুত গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে, এখানে নিঝুম দ্বীপ পর্যটনের আওতায় এনে হাতিয়াকে আধুনিক হাতিয়া গড়ে তোলার আশ্বাস দেন।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী জুহির উদ্দিন জানান, বর্ষার আগে মেঘনা নদীর অব্যহত ভাঙনের কবল থেকে নদীর তীর সংরক্ষণের লক্ষে ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের আওতায় মেঘনা নদীর তীরে ২৫০ কেজি ওজনের ৮ হাজার ২শ ৮৮টি জিও ব্যাগ ফেলা হবে। পরবর্তীতে নদীতে ব্লক ফেলে স্থায়ীভাবে ভাঙনের কবল থেকে হাতিয়াকে রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এটি ৭শ কোটি টাকার প্রকল্প। ইতোমধ্যে হাতিয়া ভাঙনরোধে আমরা কাজ শুরু করেছি। হাতিয়া দ্বীপ যেন আর নদী গর্ভে বিলীন না সেজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা পানি উন্নয়ন বোর্ড করবে। আমরা আশাবাদী এখানে ব্লক ফেলে আজ কাজের যাত্রা শুরু হলো।

হাতিয়ার প্রবীণ বাসিন্দা সোনাদিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জানান, হাতিয়াবাসী দুর্ভাগ্যে নদী ভাঙনে অনেক বনেদী পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। বিভিন্ন সময়ে সরকার প্রধানরাসহ অনেকে আশ্বাস দিলেও কেউ ভাঙনরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে আমাদের সমস্যার সমাধান হয়নি। এবার আশার আলো দেখছি এখানে দলের বিরোধ মিটে গেছে, আজকের এ অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি আমাদের নদীভাঙন রোধ হবে বলে আমি মনে করি। সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকলে দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া একটি আধুনকি নদী মাতৃক পর্যটন নগরী হিসাবে গড়ে উঠবে।

পরে সংসদ সদস্যসহ সকলে মিলে নদীতে জিও ব্যাগ ফেলে নদী ভাঙন রোধে কাজের শুভ উদ্ধোধন করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা