kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১                     

দাদনের জালে গফরগাঁওয়ের চা বিক্রেতা মানিক

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১১:০৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দাদনের জালে গফরগাঁওয়ের চা বিক্রেতা মানিক

ময়মনসিংহের গফরগাঁও পৌর শহরের কলেজ রোডের প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি মার্কেটে মানিক মিয়ার একটি চমৎকার মনিহারী দোকান ছিল। কিন্তু দাদন খোরদের ঋণের জালে জড়িয়ে তিনি আজ সর্বশান্ত। এখন চা বিক্রি করে তার সংসার চলে।

মানিক মিয়া বলেন, এক দাদন খোরের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা এনেছিলাম। তাকে সুদ-আসলে ৬-৭ লাখ টাকা দেওয়ার পরও আড়াই লাখ টাকা দাবি করছেন। টাকা না দিলে মামলা করার হুমকি দিচ্ছেন। আরেক জমিতিতে আমাকে ক্যাশিয়ার বানিয়ে তারা ঋণ বিতরণ করে। পরে ঋণ আদায় না হওয়ায় জমি বিক্রি করে সমিতিতে আমার ১২ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে।

একই এলাকার ব্যবসায়ী কাদির মিয়া (ছদ্ম নাম। আসল নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, আমার ২৫ বছরের ব্যবসা জীবনে দাদন খোরদের প্রায় কোটি টাকা দিয়েছি। এখনো মাকড়সার জালের মতো দাদনের ফাঁদে জড়িয়ে আছি। মাসান্তে যা বিক্রি করি দাদন সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দিতে হয়। না দিলেই অপমান অপদস্ত। ভাইরে ব্যবসা না করে যদি ঢাকায় গিয়ে ইট-সুরকিও ভাংতাম তাহলেও মাসে ১৫ হাজার টাকা পরিবারকে দিতে পারতাম। কিন্তু পরিবারকে টাকা দেওয়া তো দূরের কথা পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করেও দাদনের ফাঁদ থেকে বের হতে পারিনি।

শুধু মানিক মিয়া আর কাদির মিয়া নয়। পৌর শহরের আধুনিক বিপনী বিতানগুলোতে দাদন সিন্ডিকেটের ঋণের ফাঁদে জড়িয়ে বহু ব্যবসায়ী দেউলিয়া ও সর্বশান্ত হয়ে এলাকা ছাড়া হয়েছেন। দাদনদারদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে কয়েকগুন টাকা পরিশোধ করেও ঋণমুক্ত হওয়া যায় না। সুদখোররা মাকড়সার জালের মতো আস্তে আস্তে ব্যবসাটি গ্রাস করে নেয়। সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত পৌর শহরের বিভিন্ন বিপনীবিতানে ঋণগ্রস্ত হয়ে বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে। 

ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গফরগাঁও পৌর শহরের সর্বত্র অনুমোদনহীন অর্থলগ্নিকারী সমিতি, ব্যক্তিগত সুদখোর ও দাদন সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। দাদনদাররা বিপনী বিতানগুলোতে ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে সম্পর্ক তৈরি করে, আড্ডা জমায়। পরে ঋণ নিতে প্রলুব্ধ করে। এ ভাবে আস্তে আস্তে ব্যবসায়ীরা দাদনদারদের উচ্চ সুদের ঋণের ফাঁদে পড়ে দেউলিয়া ও সর্বশান্ত হয়। এক সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়।

গফরগাঁও থানার উপপরিদর্শক (সেকেন্ড অফিসার) খাইরুল ইসলাম বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে সুদের টাকার আদান-প্রদান চলে অতি গোপনে। এ ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ থাকে না।

উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল বাশার বলেন, সুদ দেওয়া নেওয়া পাপ। এটি সামাজিক ভাবেও অপরাধ। সুদখোর বা দাদনদাররা হলো মাকড়সার মতো। মাকড়সা যেমন জাল বিস্তার করে ফাঁদ পেতে শিকার ধরে, সুদখোর বা দাদনদাররাও তেমনি ব্যবসায়ীদের প্রলুব্ধ করে ঋনের ফাঁদে ফেলে ব্যবসায়ীদের গ্রাস করে। অনেক ব্যবসায়ী লোভের বশবর্তী হয়ে বেশি লাভের আশায় ঋণ নিয়ে ধ্বংস হয়। তবে ব্যাংকগুলো ব্যবসায়ীদের স্বল্প সুদে সহজ কিস্তিতে ঋণ দিলে অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা