kalerkantho

বুধবার । ২১ আগস্ট ২০১৯। ৬ ভাদ্র ১৪২৬। ১৯ জিলহজ ১৪৪০

চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনে

দুই চেয়ারে দায়িত্ব পালন করছেন একই ব্যক্তি!

ভেঙে পড়েছে আর্থিক শৃঙ্খলা

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি   

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৯:৪০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুই চেয়ারে দায়িত্ব পালন করছেন একই ব্যক্তি!

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনে একই ব্যক্তি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও অর্থ পরিচালকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দুই চেয়ারে দায়িত্ব পালন করায় দুর্নীতি, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও আর্থিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ, শ্রমিক কর্মচারী ও আখচাষীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। আর এর প্রতিকার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী, দুদক চেয়ারম্যান, শিল্পমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলীপি ও অভিযোগ প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত ৩১ জানুয়ারি বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প কর্পোরেশনের ১৫ টি সুগার মিলের আখচাষী সংগঠন বাংলাদেশ চিনিকল আখচাষী ফেডারেশন ও ৩ ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প কর্পোরেশনের জিএম কৃষিবিদ মিজানুর রহমান এসব অভিযোগ করেন। 

বাংলাদেশ চিনিকল আখচাষী ফেডারেশনের সভাপতি আলহাজ মজাহারুল হক প্রধান, (জাতীয় সংসদ সদস্য) ও সাধারণ সম্পাদক পাবনা সুগার মিলের আখচাষী আলহাজ শাজাহান আলী বাদশা স্বাক্ষরীত স্মারকলিপি সূত্র মতে, কর্পোরেশনের অধীনে ১৫ টি সুগার মিলের আখচাষীদের বকেয়া পাওনা রয়েছে ২২৫ কোটি টাকা। এই টাকা পরিশোধের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। কর্পোরেশনের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের অযোগ্যতা ও অদক্ষতার কারণে আখচাষীদের বকেয়া বিল পরিশোধে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প কর্পোরেশনের জিএম কৃষিবিদ মিজানুর রহমান এর স্বাক্ষরিত দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর করা অভিযোগপত্র সূত্র মতে, কর্পোরেশনের অর্থ পরিচালক এ কে এম দেলোয়ার হোসেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে চরম অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, আর্থিক দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য, কমিশনে বেতন বাণিজ্য, ভুর্তকির টাকা দিয়ে চিনি কিনে গুদামজাত করে রেখেছেন। আর ব্যক্তি মালিকানা সুগার মিল মালিকদের নিকট থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করছেন। ফলে কর্পোরেশনের আর্থিক বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। 

ঈশ্বরদীস্থ পাবনা সুগার মিলের শ্রমিকরা অভিযোগ করে কালের কণ্ঠকে জানান, কর্পোরেশনের অর্থ পরিচালক এ কে এম দেলোয়ার হোসেন ২৯ ডিসেম্ব/১৪ সালে কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকেই পাবনা সুগার মিলের মতো বাংলাদেশের আরো ১৪ টি সুগার মিলের শ্রমিক কর্মচারীদের কমিশনে বেতন নিতে হচ্ছে। বেতন চাইলেই শ্রমিক কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, এক মিল থেকে অন্য মিলে বদলি ও হয়রানি করা হচ্ছে। শ্রমিক কর্মচারীদের কমিশনে বেতন দেওয়ায় মাসিক মূল বেতন থেকে গ্রেড অনুসারে আড়াই থেকে ১০ হাজার টাকা কম নিতে হচ্ছে। অথচ কর্পোরেশন থেকে কমিশনে বেতন দেয়া হয় না।

স্থানীয়ভাবে মিলে মিলে শ্রমিকদের কমিশনে বেতন দিয়ে উদ্বৃত্ত টাকা কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান, স্ব স্ব মিলের এমডি ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কতিপয় নেতা ভাগাভাগি করে নেন বলে অভিযোগ করেন শ্রমিকরা। 

পাবনা সুগার মিলের আখচাষীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠের এই প্রতিনিধির নিকট  অভিযোগ করে বলেন, খুবই কষ্ট করে আখ চাষ করা হয়। সেই আখ মিলে দিয়ে টাকা না পেয়ে আর্থিক সংকটে আখচাষীদের মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। টাকা চাইলেই কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিলে পরিদর্শনে এসে চাষীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। আগামীতে আখ চাষ বাদ দিয়ে সবজি চাষ করা ছাড়া এখন তাদের উপায় নেই বলে না বলেও দাবি করেন।

পাবনা সুগার মিলের শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের (সিবিএ) সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, শ্রমিকদের করা অভিযোগ সত্য নয়। শ্রমিক কর্মচারীদের কমিশনের টাকা সিবিএ কোনো নেতাই ভাগ নেন না। চিনির মূল্য কম হওয়া চিনি বিক্রয় হচ্ছে না। কিন্তু শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন দেয়ার কোনো টাকা না থাকায় বেতনের বিপরীতে চিনি দেওয়া হয়। সেই চিনি বাজার দরে বিক্রয় করে বেতন দেওয়া হয়। আর চিনি বিক্রয় করে বেতন দেওয়ায় মাসিক বেতন কম পাচ্ছেন। এর বেশি কিছু না।

ঈশ্বরদীস্থ পাবনা সুগার মিল ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জাহিদ আনছারী কালের কণ্ঠকে বলেন, কমিশনে বেতন দেওয়া হয় না। সরকার থেকে সুগার মিলে দেওয়া ভর্তুকির ৫শ কোটি টাকা দিয়ে এক লাখ টন চিনি কিনে চেয়ারম্যান স্যার গুদামজাত করে রেখেছেন। চিনির দাম কমিয়ে বিক্রয় করলে দেড় থেকে দুইশ কোটি টাকা লোকসান হবে বলেই চিনিগুলো বিক্রয় করা হয়নি।

তিনি আরো বলেন, চিনিগুলো বিক্রয় করে কিংবা না কিনে ভর্তূকির টাকা দিয়ে সকল মিলের আখচাষীদের বকেয়া পাওনা ও শ্রমিকদের বেতন দেওয়া যেত। তাহলে আজকে সুগার মিলগুলোতে আর্থিক সংকট দেখা দিতো না বলে মন্তব্য করেন এই কর্মকর্তা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা