kalerkantho

ছোট পদে বিপুল বিত্ত

রাজৈর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি    

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১২:০৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছোট পদে বিপুল বিত্ত

মাদারীপুর শহরের স্টেডিয়ামের পিছনে মিজানুর রহমানের নির্মাণাধীন বহুতল ভবন। ছবি : কালের কণ্ঠ

মিজানুর রহমান মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অফিসের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী। মাদারীপুর শহরে তাঁর রয়েছে চারটি বাড়ি। স্ত্রী ও স্বজনদের নামেও গড়ে তুলেছেন বিপুল সম্পদ। পরিবহন ব্যবসায়ও লগ্নি করেছেন প্রচুর অর্থ। নামে-বেনামে তাঁর এই সম্পদের পরিমাণ অন্তত কয়েক কোটি টাকা।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাঁশকান্দি ইউনিয়নের শম্ভুক গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান ইউএনও অফিসের অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক। এর আগে তিনি মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে অনেকে ক্ষুব্ধ থাকলেও ভয়ে কেউ মুখ খোলে না। এ খবর একটি স্থানীয় পত্রিকায় ছাপা হলে মিজানুর রহমান ওই পত্রিকার সাংবাদিক বেলাল রিজভীকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার হুমকি দেন। এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর থানায় ডায়েরি করেছেন বেলাল রিজভী।

অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চাকরির সময়ই মিজানের ভাগ্যোন্নয়ন শুরু হয়। মাদারীপুর ও শরীয়তপুরে পরিবহন ব্যবসায়ও তিনি যুক্ত রয়েছেন। মাদারীপুরে তাঁর পাঁচটি ট্রাক এবং শরীয়তপুরে একাধিক গাড়ি রয়েছে। মাদারীপুর শহরের পাঠককান্দি এলাকায় তাঁর একটি বাড়ি রয়েছে। এই বাড়িতেই তিনি থাকেন। বাড়ির বড় একটি অংশ ভাড়া দেওয়া। ১৪ শতাংশ জমির ওপর বাড়িটি গড়ে তোলা হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শহরের স্টেডিয়ামের পেছনে ও শতাংশ জমির ওপর বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। এরই মধ্যে বাড়িটির তিনতলা পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে। জমিসহ বাড়িটির বাজারমূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা। শহরের থানতলী এলাকায়ও একটি বাড়ি রয়েছে। ওই বাড়িতে তাঁর ছোট ভাই থাকেন। বাকি ঘরগুলো ভাড়া দেওয়া। মাদারীপুর শহরের ইউআই স্কুল সংলগ্ন এলাকায় ১০ শতাংশ জমিতে তাঁর একটি বাড়ি রয়েছে। ওই বাড়িটি সরকারি জমি লিজ নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় ভাইয়ের নামে ওই জমি লিজ নেন তিনি। ওই বাড়িটিও ভাড়া দেওয়া। এ ছাড়া তাঁর পরিবহন ব্যবসাও রয়েছে।

এই সম্পদের উৎস সম্পর্কে মিজানুর রহমান বলেন, ‘অনেক আগে কম মূল্যে স্টেডিয়ামের পেছনে জমি কিনেছিলাম। সেই জমির দাম এখন বেড়েছে। ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে বাড়ি নির্মাণ করছি। এ ছাড়া থানতলী এলাকার বাড়ির জমিও অল্প টাকায় কেনা। এখন সেই জমির দামও বেড়েছে। আমরা স্বামী-স্ত্রী দুজনই চাকরি করি। এগুলো আমাদের বেতনের টাকায় কেনা। এ ছাড়া পাঠককান্দির জমিটি সরকারি। আমার এক আত্মীয় ভোগদখল করত। তারা ছেড়ে দেওয়ায় ওই জমি আমার নামে লিজ নিয়েছি। ইউআই স্কুল সংলগ্ন জমিটি ছোট ভাইয়ের নামে লিজ নেওয়া। আমার কয়েকটি ট্রাক রয়েছে, যেগুলো ভাইদের সঙ্গে শেয়ারে কেনা। আমার কোনো অবৈধ উপার্জন নেই।’ সম্প্রতি স্থানীয় পত্রিকার প্রতিনিধি বেলাল রিজভীকে হত্যার হুমকি দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মিজানুর রহমান বলেন, ‘ট্রাকচাপা দিতেই পারি। ও তো (রিজভী) মানুষ চিনে নাই। ওকে তা চিনিয়ে দিতে হবে।’

এ ব্যাপারে রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহানা নাসরিন বলেন, ‘মিজানুর রহমানের চারটি বাড়ি থাকার বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনাদের কাছ থেকে শুনলাম। বর্তমানে একটি বাড়ির কাজ চলছে বলে জানি। তাঁর আয়ের সঙ্গে অর্জিত সম্পত্তি সংগতিপূর্ণ কি না তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা