kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১              

ভাঙ্গুড়ায় জনতার বিক্ষোভে যুবককে ছেড়ে দিল পুলিশ

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৪:৫০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভাঙ্গুড়ায় জনতার বিক্ষোভে যুবককে ছেড়ে দিল পুলিশ

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় প্রতিপক্ষের পক্ষ নিয়ে এক যুবকের সেলুনে (চুল কাটার দোকান) ফেনসিডিল রেখে তাকে আটক করে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কর্মকর্তা ও তার সোর্সের বিরুদ্ধে। উপজেলার অষ্টমণিষা ইউনিয়নের ছোট বিষাকোল গ্রামে শনিবার রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে এলাকাবাসীর বিক্ষোভে আটকের চার ঘণ্টা পর ওই যুবককে ভাঙ্গুড়া থানা থেকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

হয়রানির শিকার যুবক উপজেলার অষ্টমণিষা ইউনিয়নের ছোট বিষাকোল গ্রামের আকমল আলীর ছেলে সবুজ আলী (১৮)। আর অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার নাম সাজেদুর রহমান। তিনি ভাঙ্গুড়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলার ছোট বিশাকোল বাজারে পাউবোর ৫ কাঠা জায়গা নিয়ে ওই গ্রামের জসিম উদ্দিন ও আকমল আলী গ্রুপের মধ্যে গত এক বছর ধরে দ্বন্দ্ব চলছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। আদালতে উভয় পক্ষের একাধিক মামলাও চলমান রয়েছে। বর্তমানে প্রতিপক্ষের মামলায় সবুজের পিতা আকমল আলী পাবনা কারাগারে আছেন। এ ঘটনায় পুলিশ ও তাদের সোর্স জসিম উদ্দিনের পক্ষ নিয়ে আকমলের ছেলে সবুজকে ফাঁসিয়েছে।   

কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, শনিবার রাত ৮টার দিকে সবুজ ছোট বিশাকোল বাজারে তার সেলুনে (চুল কাটার দোকান) বসে এক ব্যক্তির চুল কাটছিলেন। এমন সময় পুলিশের এএসআই সাজেদুর রহমান সহ চার/পাঁচজন পুলিশ সদস্য ও ওই গ্রামের বাসিন্দা পুলিশের সোর্স রফিকুল ইসলাম সেলুনে প্রবেশ করে সবুজকে থানায় নিয়ে যেতে চায়। সবুজ যেতে না চাইলে পুলিশের সোর্স রফিকুল ইসলাম সবুজের সেলুনের ড্রয়ারে ফেনসিডিলের বোতল রেখে দেয়। পরে পুলিশ তাকে ফেনসিডিল রাখার দায়ে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এদিকে আটকের কিছুক্ষণ পরেই ওই গ্রামের শতাধিক মানুষ পুলিশ ও রফিকুলের বিরুদ্ধে মিছিল করতে করতে থানায় এসে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ কর্মকর্তারা সবুজকে ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা শান্ত হয়। পরে রাত ১২টার দিকে পুলিশ সবুজকে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করে।
 
অভিযোগের বিষয়ে এএসআই সাজেদুর রহমান বলেন, প্রতিপক্ষের পক্ষ নিয়ে রফিকুল নামে তার এক সোর্স সবুজকে ফেনসিডিলের বোতল দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছিল। এতে সাময়িক ভুলবোঝাবুঝির কারণে তাকে আটক করা হয়েছিল। পরে সত্য উদ্‌ঘাটন হলে সবুজকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং রফিকুলকে আটক করা হয়।

ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানা জানান, জমিজমা দখলসংক্রান্ত ব্যাপারে পুর্বশত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের দেওয়া ভূল তথ্যে সবুজ নামে এক যুবককে থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা