kalerkantho

ঐতিহ্যবাহী বালিকা বিদ্যালয়ে

শরণখোলায় গোপনে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ, অভিভাবকদের ক্ষোভ

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

২০ জানুয়ারি, ২০১৯ ১৯:১৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শরণখোলায় গোপনে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ, অভিভাবকদের ক্ষোভ

বাগেরহাটের শরণখোলার ঐতিহ্যবাহী আর কে ডি এস পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সেলিম হাওলাদারকে গোপনে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি গঠিত ম্যানেজিং কমিটি কেনো অবৈধ ঘোষণা করা হবে না মর্মে গত ১৫ জানুয়ারি চার সপ্তাহের রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এরপরও বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সেলিম হাওলাদার তড়িঘড়ি করে গোপন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শনিবার নিজেই প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ গ্রহণ করেন। উপজেলা সদরের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন গোপন নিয়োগের ঘটনায় অভিভাবক ও সচেতন মহলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সেলিম হাওলাদার নিজে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ নেওয়ার জন্য নির্বাচন বা ঘোষণা ছাড়াই গত ০১/১০/২০১৮ তারিখ এডহক কমিটি থেকে মমতাজ বেগমকে সভাপতি করে একটি নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটি বোর্ড থেকে অনুমোদন করান। পরবর্তীতে জানতে পেরে বিদ্যালয়ের ছাত্রী অভিভাবক ও খোন্তাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন খান মহিউদ্দিন গোপনে গঠিত ওই কমিটি অবৈধ দাবি করে গত ১১ ডিসেম্বর হাইকোর্টে একটি রিট মামলা দায়ের করেন। শুনানি শেষে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের দ্বৈত বেঞ্চ গত ১৫ জানুয়ারি গোপনে গঠিত ওই ম্যানেজিং কমিটি কেনো অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে বিবাদীদেরকে চার সপ্তাহর মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ প্রদান করেন। একই সাথে এডহক ও নিয়মিত উভয় কমিটিতে থাকা আ. হালিম খানের সদস্যপদ স্থগিত ঘোষণা করেছেন আদালত। বাদির পক্ষে রিট মামলা পরিচালনা করেন অ্যাড. সায়েম মোহাম্মদ মুরাদ ও অ্যাড. সৈয়দ ফজলে এলাহী।

রিটে বিবাদীরা হলেন সচিব শিক্ষা মন্ত্রণালয়, চেয়ারম্যান মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বোর্ড যশোর, জেলা প্রশাসক বাগেরহাট, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরণখোলা, স্কুল ইনস্ট্রাক্টর যশোর বোর্ড, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শরণখোলা, সৌমিত্র সরকার প্রিজাইডিং অফিসার ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরণখোলা, মমতাজ বেগম সভাপতি ম্যানেজিং কমিটি, মো. সেলিম হাওলাদার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, সদস্য মাসুম বিল্লাহ, শামসুন্নাহার, সাবেরা সুলতানা, তালুকদার রাজা মাহমুদ, আ. হালিম খান, মো. ইব্রাহিম খান, জাহিদুর রহমান, আফরোজা বেগম ও বাচ্চু হাওলাদার। 

মামলার বাদী মো. জাকির হোসেন খান মহিউদ্দিন বলেন, গোপনে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের খবর জানার পর তা স্থগিত করার জন্য গত ১১/১১/২০১৮ তারিখ পাঁচ হাজার টাকা ফি জমা দিয়ে যশোর বোর্ড চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করা হয়। কিন্তু বোর্ড থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নোটি বা তদন্ত করা হয়নি।

তিনি আরো বলেন, আমি ওই বিদ্যালয়ের একজন ছাত্রী অভিভাবক। আমার মতো অনেক অভিভাবকেরই আশা ছিল উপজেলা সদরের ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যাপীঠে জাকজমকপূর্ণ নির্বাচনের মধ্যদিয়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠন হবে। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সেলিম হাওলাদার প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ নেওয়ার জন্য গোপনে কমিটি গঠন করেন। এমনকি ওই কমিটির ওপর মহামান্য হাইকোর্টের রুল জারি হওয়া সত্বেও তিনি অবৈধভাবে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ নিয়ে বিদ্যালয় ও অভিভাবকদের মর্যাদা ক্ষুন্ন করেছেন।

এ ব্যাপারে নিয়োগ বোর্ডের সদস্য শরণখোলা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নূরুজ্জামান খান বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড গঠন করে আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। নিয়োগ বিধি মোতাবেকই হয়েছে।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিংকন বিশ্বাস বলেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আমার কোনো ভূমিকা নেই।

এ ব্যাপারে জানার জন্য প্রধান শিক্ষক মো. সেলিম হাওলাদারের মোবাইল ফোনে কল করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা