kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৪ অক্টোবর ২০১৯। ৮ কাতির্ক ১৪২৬। ২৪ সফর ১৪৪১       

কালীগঞ্জের খেজুরের গুড় যাচ্ছে বিভিন্ন স্থানে

নয়ন খন্দকার, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি    

১৮ জানুয়ারি, ২০১৯ ১৯:১৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কালীগঞ্জের খেজুরের গুড় যাচ্ছে বিভিন্ন স্থানে

যশোরের যশ, খেজুরের রস। আর যশোর জেলার পাশে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ অবস্থিত হওয়ায় এখানকার কাঁচা খেজুর রসের ঘ্রাণে উৎপাদিত গুড় প্রসিদ্ধ। এ কারণে কালীগঞ্জে বসে খেজুর রসের বিশাল এক গুড়ের হাট।

প্রতিবছর শীত মৌসুমের সোম ও শুক্রবার প্রচুর খেজুরের গুড় ও পাটালি ওঠে এই হাটে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে গাছিরা (কৃষক) তাদের উৎপাদিত খেজুর গুড় ও পাটালি বাজারে বিক্রির জন্য আনেন। বাইরের মোকামিদের কাছে কালীগঞ্জের গুড়ের হাট ব্যাপক পরিচিত।

কালীগঞ্জের হাটে মোকাম করতে আসা কুষ্টিয়ার শালদহ গ্রামের মহির উদ্দিন, মোতালেব মিয়াসহ একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, কালীগঞ্জের খেজুর রসের গুড় ব্যাপক প্রসিদ্ধ। এখানকার গুড়ে তাজা রসের ঘ্রাণ পাওয়া যায়। বাজারে এ গুড়ের অনেক চাহিদা রয়েছে। তাই আমরা প্রতি সোম ও শুক্রবার কালীগঞ্জে মোকাম করতে আসি।

মোতালেব মিয়া জানান, তিনি ৪৫ বছর ধরে গুড়ের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। প্রতিবছরই তিনি কালীগঞ্জের হাটে গুড় কিনতে আসেন। ৮ থেকে ৯ কেজি ওজনের এক ঠিলে (হাঁড়ি) গুড় ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় ক্রয় করেন। এখান থেকে গুড় কিনে তিনি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা দরে কুষ্টিয়া শহরে পাইকারি ও খুচরামূল্যে তা বিক্রি করেন।

ব্যবসায়ী মহির উদ্দীন জানান, তিনি ৩৫ বছর ধরে গুড়ের ব্যবসা করছেন। বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের মধ্যে সাতমাইল, বারবাজার, ডাকবাংলা ও কালীগঞ্জে খেজুর রসের বড় গুড়ের হাট বসে। এর মধ্যে কালীগঞ্জের খেজুর গুড় ব্যাপক প্রসিদ্ধ। এখন কালীগঞ্জ ছাড়া অন্যান্য স্থানে তেমন খেজুর গুড় ওঠে না। কালীগঞ্জের মোকামটি এখনো বড়। তাই প্রতি শুক্রবার তিনি এখানে গুড় কিনতে আসেন।

যশোরের বাঘারপাড়া থেকে গুড় কিনতে আসা ব্যবসায়ী সঞ্জিব কুমার কুণ্ডু বলেন, কালীগঞ্জের হাটে চট্টগ্রাম, বরিশাল, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, ভাঙ্গাসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শহর থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা গুড় কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি করে থাকেন। তবে দিন দিন খেজুর গুড়ের হাটের ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। এখনকার হাটে আগের মতো গুড় উঠছে না।  এ কারণে দূর-দূরান্তের মোকামিরা এখন আর আগের মতো আসেন না। তিনি শুক্রবার হাটে ১০৮ ঠিলে (হাঁড়ি) কিনেছেন।

কালীগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা তোবারক আলী মণ্ডল জানান, বিভিন্ন স্থান থেকে হাটে আসা মোকামিদের  তিনি গুড় কিনে দেন। বড় বড় মোকামিরা ঠিলে (মাটির হাঁড়ি) থেকে গুড় ঢেলে ড্রামে ভরে নিয়ে যান।  এসব গুড় চলে যাচ্ছে কুষ্টিয়া, বাঘারপাড়া, ভাঙ্গা, ফরিদপুরসহ দেশের অন্যান্য জেলা ও উপজেলা শহরে।

কালীগঞ্জ গুড় হাটা মালিক আতিয়ার রহমান বলেন, কালীগঞ্জের খেজুর রসের গুড় ব্যাপক প্রসিদ্ধ। এ গুড়ে কাঁচা রসের ঘ্রাণ পাওয়া যায়। তাই ব্যবসায়ীদের কাছে আমাদের এলাকার গুড়ের অনেক সুনাম রয়েছে। তাছাড়া শীত মৌসুমে গুড় দিয়ে অনেক পিঠা তৈরি করা হয়। শীতে ক্রয় করা গুড় ব্যবসায়ীরা সারা বছর তা বিক্রি করে থাকেন।

তিনি আরো বলেন, ইটভাটা মালিকরা খেজুর গাছ ক্রয় করে পুড়িয়ে ফেলছেন। আবার অনেক গাছিরা গাছ টাকা বন্ধ করে দিয়েছেন। তাই এখন আর আগের মতো হাটে গুড় আসছে না। তবে বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের মধ্যে কালীগঞ্জের খেজুর গুড়ের হাট এখনো টিকে আছে। এ গুড়ের হাট কালীগঞ্জের একটি ঐতিহ্য বলে জানান তিনি। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা