kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৪ অক্টোবর ২০১৯। ৮ কাতির্ক ১৪২৬। ২৪ সফর ১৪৪১       

৪৭ বছর পর পা থেকে বোমার স্প্লিন্টার

রাজবাড়ীতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জাদুঘরে সংরক্ষণ

জাহাঙ্গীর হোসেন, রাজবাড়ী    

১৮ জানুয়ারি, ২০১৯ ১৫:০৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৪৭ বছর পর পা থেকে বোমার স্প্লিন্টার

খবির উদ্দিন প্রামাণিক; পায়ে স্প্লিন্টারের ক্ষত; স্প্লিন্টারের আঘাতে ছিঁড়ে গেছে বৃদ্ধাঙ্গুল ও বের করা স্প্লিন্টার। ছবি : কালের কণ্ঠ

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর রাজবাড়ীর খবির উদ্দিন প্রামাণিক (৭১) নামে এক বৃদ্ধের পা থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ছোড়া বোমার স্প্লিন্টার বের করা হয়েছে। স্প্লিন্টারটি গতকাল বৃহস্পতিবার রাজবাড়ীর বরাট ইউনিয়নসংলগ্ন গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের কাশিমা গ্রামে ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ জাদুঘরে’ হস্তান্তর করা হয়।

খবির উদ্দিন ছোটভাকলা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং কেউটিল গ্রামের নোছি প্রামাণিকের ছেলে।

খবির উদ্দিন বলেন, ১৯৭১ সালে তিনি খুলনার দৌলতপুরের ইস্টল্যান্ড জুট মিলের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। সেখানে থাকতেন সপরিবারে। এরই মাঝে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। খবির স্ত্রী ফিরোজা বেগম এবং দুই শিশুসন্তান সুফিয়া বেগম ও রুবিয়া বেগমকে নিয়ে পড়েন দুশ্চিন্তায়। আত্মগোপনে থাকলেও ব্যক্তিগত কাজে তাঁকে বের হতে হতো। নভেম্বর মাসের শেষদিকে পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ভয়াবহ তাণ্ডব চালায়। ভোররাতে পরিবেশ কিছুটা শান্ত হলে খবির দৌলতপুরের নদীপারে যান। হঠাৎ আবার শুরু হয় গোলাগুলি ও বোমা হামলা। পাকিস্তানি বাহিনীর একটি বোমা তাঁর অবস্থানের খানিকটা দূরে বিস্ফোরিত হয়। বোমার আঘাতে কয়েকজন নিহত এবং খবিরসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। তাঁর ডান হাতের বুড়ো আঙুল ছিঁড়ে পড়ে এবং বাঁ পায়ের গোড়ালির ওপর একটি স্প্লিন্টার ঢুকে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। পার্শ্ববর্তী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে আহত অবস্থায় স্ত্রী ও সন্তানদের কাছে ফেরেন তিনি। দেশ স্বাধীনের পর তিনি ফেরেন রাজবাড়ীর গ্রামের বাড়িতে। পরে তিনি বুঝতে পারেন, বিস্ফোরিত বোমার ধাতব বস্তু রয়ে গেছে তাঁর পায়ে।

খবির উদ্দিন জানান, তিনি সম্প্রতি রাজবাড়ী শহরের একটি মসজিদে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসেন। মসজিদে হাঁটাচলার সময় তিনি পা মচকে পড়ে যান। প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। পায়ে তখন ইনফেকশনও হয়। এক্স-রে রিপোর্টে দেখা যায়, পায়ে স্প্লিন্টারের ছবি। হাসপাতালের চিকিৎসক আসিফ মাহমুদ অস্ত্রোপচার করে স্প্লিন্টারটি বের করেন। তবে এত দিন শরীরে বহন করা স্প্লিন্টারটি ফেলে দিতে মন চায়নি খবির উদ্দিনের। তাই সেটি বাড়ির একটি বাক্সে তুলে রাখেন। বিষয়টি জানতে পেরে কাশিমা গ্রামের ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ জাদুঘরের’ প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা গিয়াস সেটি জাদুঘরটিতে সংরক্ষণের কথা বলেন।

মোস্তফা গিয়াস বলেন, তাঁর জাদুঘরে মুক্তিযুদ্ধের ছবিসহ নানা সামগ্রী প্রদর্শন করা হচ্ছে। খবির উদ্দিন প্রামাণিকের পা থেকে বের করা স্প্লিন্টারটিও মুক্তিযুদ্ধকালীন স্মৃতি। তাই সেটি জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা