kalerkantho

পাগলায় শ্রমিক নেতাকে মারধর

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৮ জানুয়ারি, ২০১৯ ০১:৩৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাগলায় শ্রমিক নেতাকে মারধর

গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়া জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী শামীম ওসমানকে পাগলা এনে নির্বাচনী সভা করায় ট্রাক মালিক সমিতির নেতাকে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রমিক উন্নয়ন ও কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার আহমেদ পলাশের বিরুদ্ধে। ১৭ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে ট্রাকচালক ইউনিয়নের পাগলা শাখার কার্যালয়ে। তবে পলাশের দাবি, তিনি কাউকে মারধর করেন নাই।

পাগলা বাজার সমবায় সমিতির সভাপতি হাজী মো. শাহ আলম গাজী (টেনু) জানান, ট্রাক চালক ইউনিয়নের পাগলা শাখার সদস্য আবু তাহের ইউনিয়নের মাসিক সভায় যোগ দেন। এ সময় কার্যকরী সভাপতি কাউসার আহমেদ পলাশ তাহেরকে দেখেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। ‘কোন সাহসে পাগলায় শামীম ওসমানকে এনে সভা করেছিস’ বলে তাহেরের দিকে তেড়ে আসে। এই প্রশ্নের জবাব দেওয়ার আগেই পলাশের অনুসারী বশির, আবুল, বাবুল তাহেরকে পেটাতে থাকে। তাহেরকে মারার সময় অন্যদের সঙ্গে পলাশ যুক্ত হয়ে নিজেও তাহেরকে পেটাতে থাকে।

এ সময় তাহেরের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। ১০ লাখ টাকা না দিলে মেরে ফেলারও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন টেনু। টেনু বলেন, এই মারধরের খবর ছড়িয়ে পড়লে তাহেরের অনুসারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে। যেকোনো সময় যেকোনো ঘটনা ঘটতে পারে। তাই থানায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে অভিযোগ করা হয়েছে।

ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মজিবুর রহমান জানান, ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। অভিযোগ দেওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে কাউসার আহমেদ পলাশ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার ইউনিয়নের নির্ধারিত সভা ছিল। আমি সেটার সভাপতি। সভায় সদস্য তাহের সংগঠন বিরোধী কিছু কথা বলেন। একজন সভাপতি হিসেবে আমি তখন তাহেরকে কিছুটা ধমকের সুরে কথা বলি। তার ওপর হাত তোলা কিংবা মারধরের কোনো ঘটনাই ঘটে নাই। থানায় অভিযোগ হলে পুলিশ অবশ্যই তদন্ত করে দেখবে।’

উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ মে ‘এক পলাশেই সর্বনাশ’ শিরোনামে ও  নারায়ণগঞ্জে শ্রমিক লীগের নাম তাণ্ডব, চাঁদার জন্য ৩৬ শিল্প-কারখানা বন্ধ, এলাকা ছাড়ছেন ব্যবসায়ীরা’ বিশেষণে বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয় যা নিয়ে রীতিমত তোলপাড় হয়। ওই সংবাদটিতে বলা হয়েছে, অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছেন ফতুল্লার শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশ। সরকার, প্রশাসন, দল-কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করেন না তিনি।

দেশের বৃহত্তম রপ্তানি খাত নিটশিল্পের প্রধান কেন্দ্র ফতুল্লার বিসিক পল্লীর শত শত গার্মেন্ট মালিক শ্রমিক অসন্তোষের আড়ালে পলাশের চাঁদাবাজির কাছে জিম্মি। শুধু ফতুল্লাতেই পলাশের ৭৪টি শ্রমিক সংগঠন রয়েছে; যার সবকটির শীর্ষপদই তার দখলে। আর ফতুল্লা আঞ্চলিক শ্রমিক লীগের সভাপতির পদটি দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে নিজের কব্জায় ধরে রেখেছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা