kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২২ আগস্ট ২০১৯। ৭ ভাদ্র ১৪২৬। ২০ জিলহজ ১৪৪০

নীলফামারী পাক হানাদার মুক্ত দিবস পালিত

নীলফামারী প্রতিনিধি   

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৮:৪১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নীলফামারী পাক হানাদার মুক্ত দিবস পালিত

নীলফামারী পাক হানাদার মুক্ত দিবস পালিত নীলফামারীতে পালিত হয়েছে পাকহানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে নীলফামারীকে হানাদার মুক্ত করেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। দিবসটি উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে সংস্কৃতিমন্ত্রী  আসাদুজ্জামান নূরের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স মিলনায়তনে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

এ সময় সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, নতুন প্রজম্মের কাছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। এজন্য ঘরবন্দি আলোচনা করলেই হবে না, ঘরের বাইরেও আলোচনা করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যে দেশটা স্বাধীন হয়েছে আজকে সেই দেশে আলবদর, রাজাকার, আল-সামসরা আবারো মাথাচাড়া দিয়েছে। তাদেরকে প্রতিহত করতে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সকল মানুষকে আরো সজাগ হতে হবে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুন ভুইয়ার সভাপতিত্বে ওই সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা দেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমাণ্ডার ফজলুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শাহিনুর আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রুহুল আমীন, মুক্তিযোদ্ধা জিএম আব্দুর রাজ্জাক, শওকত আলী টুলটুল, কান্তিভূষণ কুণ্ডু, আমিনুল হক, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের আহ্বায়ক হাফিজুর রশিদ প্রমুখ। 

এর আগে সকাল ১০টার দিকে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে জাতীয় ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পতাকা উত্তোলন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের যৌথ আয়োজনে মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানসহ সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন এ কর্মসূচিতে।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ফজলুল হক জানান, ১২ ডিসেম্বর রাতে শহরের চারদিক থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল আক্রমণে হানাদার বাহিনী পরাজিত হয়ে নীলফামারী শহর ছেড়ে আশ্রয় নেয় সৈয়দপুর সেনানিবাসে। ১৩ ডিসেম্বর ভোরে জেলা শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে মুক্তিযোদ্ধারা উত্তোলন করেন স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। এ সময় বীর যোদ্ধাদের ‘জয় বাংলা’ শ্লোগানে রাস্তায় নেমে আসেন মুক্তিকামী সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ। বিজয়ের উল্লাস আর শ্লোগানে প্রকম্পিত করে তোলেন সে সময়ের মহকুমা শহর। 

১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে ছাত্র-জনতা ঝাঁপিয়ে পড়েন মুক্তির সংগ্রামে। শুরুতে মিটিং-মিছিল আর সভা সমাবেশের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে দেশমাতৃকা রক্ষার আন্দোলন। নীলফামারী মহকুমা শহরের অস্ত্রাগারে রক্ষিত অস্ত্র ছিনিয়ে এনে নীলফামারী বড়মাঠে শুরু হয় অস্ত্র হাতে নেয়ার প্রশিক্ষণ। এরপর ভারতে প্রশিক্ষণ নিয়ে ছয় নম্বর সেক্টরের অধীনে যোদ্ধারা ঝাঁপিয়ে পড়েন পাক হানাদার বাহিনীর ওপর। নয় মাসের গেরিলা আক্রমণ আর সম্মুখযুদ্ধে জেলার ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ উপজেলা মুক্ত করে তারা এগিয়ে আসেন নীরফামারী শহরের দিকে। ১৩ ডিসেম্বর ভোরে হানাদার মু্ক্ত হয় নীলফামারী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা