kalerkantho

বুধবার । ২১ আগস্ট ২০১৯। ৬ ভাদ্র ১৪২৬। ১৯ জিলহজ ১৪৪০

চৌগাছায় গৃহবধূরা ব্যস্ত ডালের বড়ি তৈরিতে

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি   

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৪:০৩ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



চৌগাছায় গৃহবধূরা ব্যস্ত ডালের বড়ি তৈরিতে

যশোরের চৌগাছায় গৃহবধূরা ডালের বড়ি তৈরিতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। শীতের মৌসুমে প্রতিটি ঘরে কলাই আর চাল কুমড়া দিয়ে বড়ি বানানোর ধুম পড়ে যায়। হাতে তৈরি বড়ি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও যাচ্ছে বলে গৃহবধূরা জানান। গ্রামবাংলার খাদ্যের প্রাচীনতম ঐতিহ্যটি আজও টিকে আছে এই অঞ্চলে।

জানা গেছে, গ্রামবাংলায় ঐতিহ্যবাহী খাবারের মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে ডাল ও কুমড়ার তৈরি বড়ি। শীত মৌসুম মানেই গ্রামবাংলার মানুষের কাছে নতুন নতুন খাবার তৈরির মৌসুম। শীতের পিঠা-মিঠাই-খির-পায়েশের পাশাপাশি ডালের তৈরি বড়িও একটি সুস্বাদু খাবার বলে সর্বজন পরিচিত। 

জগন্নাথপুর গ্রামের গৃহবধূ সুফিয়া খাতুন বলেন, বড়ি তৈরির উপকরণ হিসাবে ব্যবহৃত হয় কালো কলাই (ঠিকরি কলাই) ও চাল কুমড়া। অনেকে কুমড়া ছাড়াও মুলা অথবা পেঁপেকে ব্যবহার করে থাকে। কলাই পাথরের জাঁতায় মাড়াই করে সূক্ষ্মভাবে পরিষ্কার করে পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। এর সাথে যোগ হয় পাকা চালকুমড়া, মুলা কিংবা পেঁপে। চালকুমড়ার ভেতর থেকে তার মূল উপাদান বের করা হয়। এরপর উভয় উপাদান এক করে ঢেঁকি বা জাঁতায় পিষে পেস্টের মতো তৈরি করা হয়। এই উপাদান তৈরিতে তাদের বেশ পরিশ্রম করতে হয়। 
শীতের সময় গ্রামাঞ্চলে সন্ধার পর ঢেঁকির ধপধপ শব্দ শোনা যায়। কিন্তু ঢেঁকি ব্যবহার কমে যাওয়ায় অনেকে মিল বা ইঞ্জিনচালিত মেশিনে বড়ি কোটে। ঢেঁকিতে পাড় দেওয়া বড়ি মানসম্পন্ন।

পৌর সদরের নূর জাহান খাতুন বলেন, সন্ধ্যা বা রাতে ঢেঁকিতে কুটা (ঢেঁকির সাহায্যে তৈরি) কলাই-কুমড়ার মণ্ড পাত্র করে সারারাত শীতের শিশিরে রাখা হয়। পরের দিন ভোরে গৃহিণীরা একত্রিত হয়ে বসে যান বড়ি দেওয়ার কাজে। কাঠ বা বাঁশের মাচার ওপর পরিষ্কার কাপড় বিছিয়ে তার ওপর ধীরেধীরে ডান হাতে মুঠোয় বসানো হয় বড়ি। হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় তারা বিশেষ কৌশলে বড়ি তৈরি করেন। এরপর কাঁচা বড়ি শীতের রোদে শুকানো হয়। বড়িগুলো যেন দেখা যায় তারার মতো ফুটে আছে। পরিষ্কার আবহাওয়া এবং তীব্র শীতে বড়ি বানালে সেই বড়ি স্বাদযুক্ত হয় বেশি। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা