kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২২ আগস্ট ২০১৯। ৭ ভাদ্র ১৪২৬। ২০ জিলহজ ১৪৪০

অভয়নগরে হৃদয় হত্যাকাণ্ডের রহস্য উম্মোচন

১৬ হাজার টাকার জন্য খুন হয় হৃদয়

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি   

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:৪৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১৬ হাজার টাকার জন্য খুন হয় হৃদয়

আবিদ হাসান হৃদয়

যশোরের অভয়নগরে আবিদ হাসান হৃদয় (২০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উম্মোচিত হয়েছে। কাপড় বিক্রির ১৬ হাজার টাকা দিতে না পারায় চার বন্ধুর হাতে খুন হয় হৃদয়। চার হত্যাকারীর মধ্যে দুইজনকে কারাগরে প্রেরণ করা হয়েছে। অপর দুইজন পলাতক রয়েছে। নিহত আবিদ হাসান হৃদয় (২০) নওয়াপাড়া বাজারের বস্তা ব্যবসায়ী বুইকরা গ্রামের শেখ আব্দুর রশিদ খোকনের ছোট ছেলে ছিল।

উপজেলার বুইকরা গ্রামের ইউসুফ ভূইয়ার ছেলে নিহত হৃদয়ের বন্ধু আটক সাজু ভূইয়া (২৩) ও হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা গুয়াখোলা গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে রাকিব (২১) আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। মঙ্গলবার সাজু ও বুধবার রাকিব যশোরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বুলবুল ইসলামের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেন, হৃদয়ের সঙ্গে রাকিবের (২১) পুরাতন কাপড় বিক্রির লেনদেন ছিল। যারই সূত্র ধরে গত ৫ ডিসেম্বর বুধকার সন্ধ্যার পর রাকিব ও সাজু নওয়াপাড়া কালীবাড়ী মন্দির সংলগ্ন অন্ধকার গলিতে হৃদয়কে ডেকে নিয়ে যায়।

এরপর সেখানে আসে তাদের অপর দুই বন্ধু মোবাইল ফোন মিস্ত্রি শাকিল ও মিলন। এসময় রাকিব তার পুরাতন কাপড় বিক্রি বাবদ হৃদয়ের কাছে পাওনা ১৬ হাজার টাকা দাবি করেন। হৃদয় টাকা দিতে রাজি না হলে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে রাকিব তার হাতে থাকা মাফলারটি হৃদয়ের গলায় পেচিয়ে ধরেলে শাকিল ও মিলন মাফলারের দুই প্রান্ত ধরে হৃদয়কে শ্বাসরোধ করে ঘটনাস্থলে হত্যা করে। পাশেই নদীর ঘাট থাকায় চার বন্ধু হৃদয়ের লাশ গুমের উদ্দেশে নদীতে ফেলে পালিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে অভয়নগর থানার ওসি আলমগীর হোসেন বলেন, উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনের কল লিস্ট ট্রাকিং করে নিহত হৃদয়ের বন্ধু সাজুকে আটক করা হয়। আর সাজুর স্বীকারোক্তি মোতাবেক মঙ্গলবার রাতে আটক করা হয় রাকিবকে। আজ বুধবার দুপুরে রাকিব যশোরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় হৃদয় হত্যাকাণ্ডের জবানবন্দি দিয়েছে। পলাতক দুই হত্যাকারি মিলন ও শাকিলকে আটকের অভিযান অব্যাহত আছে। 

উল্লেখ্য, গত ৮ ডিসেম্বর শনিবার সকালে ভৈরব নদের দেয়াপাড়া ঘাট এলাকা থেকে অভয়নগর থানা পুলিশ এক যুবকের বিকৃত লাশ উদ্ধার করে। অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে হৃদয়ের পরিবারের সদস্যরা থানায় উপস্থিত হয় এবং মরদেহের পকেটে থাকা মোবাইল ফোন ও কাগজপত্র দেখে সনাক্ত করেন লাশটি কয়েকদিন আগে নিখোঁজ হওয়া তাদের হৃদয়ের। ওই দিন নিহত হৃদয়ের মামাতো বোন আবনুর সুলতানা বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় অজ্ঞাত আসামি দেখিয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা