kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২২ আগস্ট ২০১৯। ৭ ভাদ্র ১৪২৬। ২০ জিলহজ ১৪৪০

ডিভোর্স দেওয়ায় জামাতার বসতবাড়ি ও দোকান ঘর দখল

বরগুনা প্রতিনিধি   

১০ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১৫:৩০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ডিভোর্স দেওয়ায় জামাতার বসতবাড়ি ও দোকান ঘর দখল

ডিভোর্স দেওয়ায় জামাতার বসতবাড়ি ও দোকান ঘর দখলের অভিযোগ উঠেছেন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার নাচনাপাড়া ইউনিয়নের মানিকখালী গ্রামের এক প্রভাবশালী সাবেক ইউপি সদস্য তার মেয়ে এবং তাদের স্বজদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী একই গ্রামের রেনু বেগম বাদী হয়ে পাথরঘাটার সিনিয়র জুডিসিয়্যাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করলে আদালত অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য মহিউদ্দিন পান্না তার মেয়ে লায়লা আক্তার পপিসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে সমন জারি করে।

অন্যদিকে সাবেক এই ইউপি সদস্য ও তার স্বজনদের অনবরত হুমকির কারণে নিজ এলাকাও আসতে পারছেন না ভুক্তভোগীরা। এদিকে সরেজমিনে এ ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে ভুক্তভোগী রেনু বেগমের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি তাদের পক্ষে অবস্থান নেয়া স্থানীয় অধিবাসী এবং যারা এই প্রতিবেদককে এ ঘটনার তথ্য জানিয়েছেন, তাদেরকে মারধর ও মামলায় আসামি করার হুমকি দেন সাবেক ইউপি সদস্য মহিউদ্দিন পান্না। 

মামলা সূত্রে জানা যায়, মানিকখালী গ্রামের আবদুল খালেক-রেনু বেগম দম্পত্তির সৌদি আরব প্রবাসী ছেলে আব্দুল্লা আল নোমানের সাথে একই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মহিউদ্দিন পান্নার মেয়ে লায়লা আক্তার পপির সাথে দু’বছর আগে বিবাহ হয়। বিয়ের দু’বছরের মধ্যে নোমান-পপি দম্পত্তির দু’টি পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। কিন্তু বিয়ের পর পপির বাড়ির খুব নিকটে তার শ্বশুর বাড়ি হওয়া সত্যেও তিনি মাসের পর মাস তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করেন। দফায় দফায় পপির শাশুড়ি রেনু বেগমসহ তার স্বজনরা পপি ও তার স্বজদেন নানা ভাবে বুঝিয়েও পপিকে তার শ্বশুর বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়ে গত ২৫ সেপ্টেম্বর পপিকে তার শাশুড়ি বাড়ি ফিরিয়ে দেয়াসহ পপির স্বমী আব্দুল্লা আল নোমানের কাছ থেকে পপির বাবা ও মায়ের নির্বাচন খরচ বাবদ বিভিন্ন সময়ে নেয়া ১১ লাখ টাকা ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে পপির বাবা মহিউদ্দিন পান্নকে আইনি নোটিস পাঠান নোমানের মা রেনু বেগম।

মামলা সূত্রে আরো জানা যায়, আইনি নোটিস পাঠানোর সাত দিন পরও পপি তার স্বামীর বাড়িতে না গেলে গত দুই অক্টোবর পপির স্বামী নোমান তাকে নোটারির মাধ্যমে ডিভোর্স দেন। এরপর গত ২৬ অক্টোবর নোমানের পক্ষাঘাতগ্রস্ত বাবা আবদুল খালেককে চিকিৎসার জন্য মানিকখালীর গ্রামের বাড়ি তালাবদ্ধ করে ঢাকায় যান নোমানের মা রেনু বেগম। ঢাকায় যাওয়ার একদিন পর গত ২৭ অক্টোবর দুপুরের দিকে তাদের বসতবাড়ির তালা ভেঙ্গে বাড়ি দখল করে নেয় অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য মহিউদ্দিন পান্না তার মেয়ে লায়লা আক্তার পপিসহ তার স্বজনরা। এসময় ঘরের বালিশের মধ্যে লুকানো সাড়ে তিন লাখটাকাসহ মূল্যবান কাগজপত্রও নিয়ে যায় তারা। একই সঙ্গে পাথরঘাটার নাচনাপাড়া ওমানিকখালি বাজারের তিনটি দোকান ঘরের দখলও নেয় তারা।

এ বিষয়ে নোমানের মা রেনু বেগম বলেন, নিরুপায় হয়ে আমার ছেলে পপিকে ডিভোর্স দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ডিভোর্স দেয়ার ২৫ দিন পর আমাদের তালাবদ্ধ ফাঁকা বাসার তালা ভেঙ্গে ঘর দখল কওে বসাবাস করছে পপি ও তার স্বজনরা। সেই সাথে নাচনাপাড়া ও বাঁশতলা বাজারে থাকা তিনটি দোকান ঘরের ভাড়ার টাকাও পান্না নিয়ে নিচ্ছে। 

রেনু বেগমের নিকট প্রতিবেশি জাহানার বেগম বলেন, রেনু ও তার স্বামী ঢাকায় যাওয়ার পরের দিন দুপুরের দিকে রেনুর খালি বাসায় পান্না তার কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে তার মেয়ে পপিকে ঘরে উঠিয়ে দিয়ে যায়। এরপর থেকে এই ঘরে পপি তার দুই ছেলে ও স্বজনদের নিয়ে বসবাস করছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ হারুন বলেন, তালা ভেঙ্গে লোকজন নিয়ে পপি ও তার স্বজনদের ঘরে ওঠার খবর রেনু বেগম ফোনে আমাকে জানালে আমি রেনুর বাড়ি যাই। এসময় রেনু ও তার স্বামী ঢাকায় থাকলেও ঘরের মধ্যে আমি পান্না, তার মেয়ে পপি ও তাদরে অন্য স্বজনদের দেখতে পাই। পরে রেনুর তথ্য অনুযাই আমি বালিশের মধ্যে সাড়ে তিন লাখ টাকা খুজতে গেলে, সেই বালিশটি ঘরের মেঝেতে ছিড়া অবস্থায় পাই। তবে বালিশের মধ্যে আমি কোন টাকা পাইনি। আর ঘরে একটি স্যুটকেসের অল্পকিছু কাগজ পাই, যেগুলো আমি তার বোনের কাছে পৌঁছে দেই। 

এ বিষয়ে রেনু বেগমের সাবেক পুত্রবধূ পপির সাথে কথা বলতে চাইলে তাকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে দেয়নি তার বাবা মহিউদ্দিন পান্না। তবে ডিভোর্স হওয়ার পর তালা ভেঙ্গে রেনু বেগমের ঘরে ঢোকার কথা অস্বীকার করে পান্না বলেন, রেনুর ছেলে নোমান আমার মেয়েকে এককভাবে ডিভোর্স দিয়েছে। এই ডিভোর্স আমরা মানি না। তাই পপির কাছে থাকা চাবি দিয়ে এই ঘরের তালা খুলে আমরা ঘরে প্রবেশ করেছি। আর দোকান ঘর দখলের বিষয়ে তিনি বলেন, দোকঘর থেকে যে ভাড়া আসে তা নোমান-পপির দুই ছেলের পেছেনে ব্যয় করি।

এ বিষয়ে বরগুনার পাথরঘাটা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিএম আশরাফ উল্লাহ বলেন, বাড়ি দখলের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পপি তার দুই ছেলে ও তার অন্য স্বজনদের ঘরে দেখেতে পেয়েছে। তবে পপিকে যে ডিভোর্স দেয়া হয়েছে এ বিষয়ে পুলিশ তখন অবগত ছিলো না। তিনি আরো বলেন, যেহেতু ঘটনাটি মামলায় গড়িয়েছে, তাই আদালতের মাধ্যমেই এঘটনার সমাধান হবে। রেনু বেগমের পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেয়ার বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পরামর্শ দেন তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা