kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সেই 'এমপি তুহিন তুলানাহীন' ফের মনোনয়ন পেলেন

ময়মনসিংহ (আঞ্চলিক) প্রতিনিধি   

২৫ নভেম্বর, ২০১৮ ১৬:৪২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেই 'এমপি তুহিন তুলানাহীন' ফের মনোনয়ন পেলেন

সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনের বর্তমান এমপি আনোয়ারুল আবেদিন খান তুহিন ফের মনোনয়ন পেলেন। আজ রবিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে তিনি চিঠি পেয়েছেন।

এ নিয়ে নান্দাইলের আওয়ামী সমর্থকদের মাঝে আনন্দের জোয়ার বইছে। গত ২২ মার্চ কালের কণ্ঠে ‘এমপি তুহিন তুলনাহীন’ শিরোনামে তাকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হলে আলোচনা হয় সর্বত্র। যা কালের কণ্ঠের শ্লোগান 'আংশিক নয় পরো সত্য'কে আরো সত্য প্রমাণিত করেছিল।

বর্তমানে মোট ২১ জন মনোনয়ন প্রত্যাশীকে পিছনে পেলে তিনি মনোনয়ন পাওয়ায় আবারও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নান্দাইলের আসনটি একটি ঐতিহাসিক সংসদীয় আসন। ১৯৫৪ সালে এই আসনে নির্বাচন করেছেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমীন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মরহুম খালেক নওয়াজ খান (ভাষা সৈনিক)। তিনি (খালেক নওয়াজ খান) যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী ছিলেন। এ ছাড়া সত্তরের নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়। স্বাধীনতার পর এ আসনে আওয়ামী লীগ পাঁচবার (১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৪), বিএনপি চারবার (১৯৭৮, ১৯৯১, ১৯৯৬ এর ১৫ ফেব্রুয়ারি ও ২০০১) ও জাতীয় পার্টি একবার (১৯৮৮) বিজয়ী হয়। দশটি নির্বাচনের মধ্যে ১৯৮৮ ও ২০১৪ সালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিহীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে সাবেক এমপি মেজর জেনারেল আব্দুস সালামকে মনোনয়ন দিলেও ঋণখেলাপির কারণে মনোনয়ন বাতিল হয়। এ অবস্থায় শেষ মুহুর্তে ময়মনসিংহ জেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি জাহানারা খানমের ছেলে আনোয়ারুল আবেদিন খান তুহিনকে মনোনয়ন দেওয়া হলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দশম সংসদে এমপি নির্বাচিত হন। তখন নিজেকে ‘গায়েবি সাংসদ’ পরিচয় দিয়ে কোমর বেঁধে নেমে পড়েন নিজ এলাকায়।

তরুণ এ সাংসদকে কাছে পেয়ে বেজায় খুশি হন এলাকার লোকজন। সেই সাথে প্রতিটি সংসদ অধিবেশনে নিজে উপস্থিত থেকে এলাকার কথা তুলে ধরেন। এলাকায় নিয়ে আসেন কোটি কোটি টাকা উন্নয়ন বরাদ্ধ। যা আগে কখনো হয়নি সেই অসাধ্য কাজও তিনি করে ফেলেন। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়াও উন্নয়নের জোয়ার দৃশ্যমান হয়। এলাকার লোকজনের মুখে মুখে চলে আসে এমপি তুহিনের নাম। ১২ টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার সর্বত্রই ব্রিজ-কালবার্ট ছাড়াও চলাচলের অযোগ্য সড়ককে তৈরি করেন পাকা ও প্রসস্থ। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তৈরি করে বহুতল ভবন।

এ নিয়ে গত ২২ মার্চ কালের কণ্ঠে ‘এমপি তুহিন তুলনাহীন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এই প্রতিবেদনটিও তখন ব্যাপক আলোচনায় আসে। পত্রিকায় প্রকাশিত এই প্রতিবেদন নিয়ে ডিজিটাল পেস্টুন তৈরি করে সাঁটিয়ে দেওয়া হয় এলাকার আনাচে-কানাচে। দৃষ্টি গোচর হয় জনতার। এই অবস্থায় ফের তিনি মনোনয়ন পাওয়ায় স্বস্তি ফিরে এসেছে এলাকার সাধারণ লোকজনের মাঝে। ভোটারদের বক্তব্য, যোগ্যতার মাপকাঠিতে তিনি আবারো একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হতে পারেন।



সাতদিনের সেরা