kalerkantho

সোমবার । ২১ অক্টোবর ২০১৯। ৫ কাতির্ক ১৪২৬। ২১ সফর ১৪৪১                       

গর্তে চাকা পড়তেই উল্টে যায় গাড়ি

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি   

১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ২২:৩৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গর্তে চাকা পড়তেই উল্টে যায় গাড়ি

ছবি: কালের কণ্ঠ

অসংখ্য ছোট-বড় গর্তে ভরা ভাঙ্গুড়া-চাটমোহর সড়ক। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে গর্তে বালি-কাদা জমে ভরাট হয়ে গেছে। দেখে বোঝার উপায় নেই যে সেখানে গর্ত ছিল। তাই মহাবিপাকে পড়েছেন যানবাহন চালকরা। বিশেষ করে বাহির থেকে আসা মাল বোঝাই গাড়িগুলোর জন্য সড়কটি মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই নরম বালি-কাদার গর্তে চাকা পড়ে গাড়ি আটকে পড়ছে। আবার কখনো উল্টে যাচ্ছে। পরে মালমাল আনলোড করে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় গর্ত থেকে গাড়ি তুলতে হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত টানা বর্ষণের পর সড়টিতে এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙ্গুড়া হতে চাটমোহর পর্যন্ত সওজের আওতাধীন ১০ কিলোমিটার সড়ক দিয়ে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করে। ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে বর্তমানে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ভাঙ্গুড়া পৌর সদরের কালিবাড়ি বাজার হতে চকমৈষাট স্কুল পর্যন্ত দুই কিলোমিটার এবং রামচন্দ্রপুর হতে চাটমোহরের জার্দিস মোড় পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা বেশি খারাপ। প্রতিদিনই এসব স্থানে ঘটছে দুর্ঘটনা।

এদিন দুপুরে দেখা যায় সারুটিয়া জামিউল উলুম মাদরাসার কাছে ঈশ্বরদী থেকে ভাঙ্গুড়াগামী ধানের কুড়া বোঝাই একটি লছিমন গাড়ির চাকা গর্তে পড়ে উল্টে পড়ে আছে। পথচারী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ছয় বছর আগে সড়কটি সর্বশেষ মেরামত করা হয়। এর তিন বছর পর সড়কটি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। তখন থেকে প্রায়ই ঘটতে থাকে দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনা এড়াতে সওজ ও ভাঙ্গুড়া পৌরসভা বছর বছর জোড়াতালি দেয়। তবুও কমেনি দুর্ঘটনা। গত দু’বছরে গর্তে পড়ে দুটি ট্রাকসহ চারটি যানবাহন উল্টে যায়। এ ছাড়া প্রায়ই প্রতিদিনই ঘটছে ছোট ছোট দুর্ঘটনা। এদিকে গত এক বছর ধরে সওজ ও ভাঙ্গুড়া পৌরসভা সড়কটি মেরামতের আশ্বাস দিলেও কাজের কাজ হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে উপজেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোতালেব হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ’দীর্ঘদিন ধরে টেকসই মেরামত না করার কারণে উপজেলার সবচেয়ে পুরাতন এ সড়কটি একবারেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অথচ এ সড়ক দিয়ে ভাঙ্গুড়ায় পণ্যবাহী পরিবহন যাতায়াত করে। ভাঙাচোরার কারণে সড়কটি দিয়ে খুব ধীরে যান চলাচল করলেও দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। অবিলম্বে সড়কটি নতুনভাবে মেরামতের দাবি জানাচ্ছি।’

পৌর মেয়র গোলাম হাসনাইন রাসেল জানান, ‘একাধিকবার রাস্তাটি পৌরসভা থেকে আংশিক সংস্কার করা হয়েছে। সম্প্রতি নগর অবকাঠামোর আওতায় পূর্ণ সংস্কারের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে। খুব দ্রুত সংস্কারের কাজ শুরু হবে।’

পাবনা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী সমিরণ রায় কালের কণ্ঠকে জানান, ’পৌরসভার মেয়রের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের আওতাধীন জায়গা তারা সংস্কার করবে। আর বাকি জায়গা সওজ সংস্কার করবে। কিছু অংশের টেন্ডার হয়ে গেছে। বাকিটুকু দ্রুত হয়ে যাবে।’ 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা