kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

নড়াইলে স্কুল ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ

নড়াইল প্রতিনিধি    

২১ জুন, ২০১৮ ০২:২০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নড়াইলে স্কুল ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ

নড়াইল সদরের হবখালী ইউনিয়নে ৮ম শ্রেণির এক কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বুধবার দুপুরে তিনজনের নামে নড়াইল সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আসামিরা হলো, হবখালী ইউনিয়নের সুবুদ্ধিডাঙ্গা গ্রামের আজাদ মিনার ছেলে রফিকুল মিনা (৩০), হালিম মিনার ছেলে শাহজালাল মিনা (২৩) এবং আজগর মিনার ছেলে মাসুম মিনা (২৫)। গত মঙ্গলবার রাতে নড়াইল সদরের ডাঙ্গাসিঙ্গীয়া গ্রামের ভূক্তভোগী মেয়েটিকে গণধর্ষণ শেষে পাট ক্ষেতে রেখে ধর্ষকেরা পালিয়ে যায়।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় এক যুবকের সাথে যশোর থেকে নড়াইলে আসছিলো অষ্টম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী। পথিমধ্যে নড়াইলের হবখালী আদর্শ কলেজ এলাকায় অটোবাইক থেকে নেমে যায় তারা। রাত ৯টার দিকে পাজারখালী বাজারের কাছে পৌঁছলে ৮-৯ জন লোক তাদের পথরোধ করে। প্রেমঘটিত ব্যাপারের ভয় দেখিয়ে কয়েকজন যুবক স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে তাদের নেওয়ার কথা বলে জোর করে মাঠের মধ্যে নিয়ে যায়। বাজার সংলগ্ন হবখালী কলেজ এলাকায় সঙ্গী যুবককে গাছে বেঁধে রেখে মেয়েটিকে পাশের পাটক্ষেতে নিয়ে যায়। 

এ সময় অভিযুক্ত রফিকুল মিনা, শাহজালাল মিনা ও মাসুম মিনা মেয়েটিকে উপর্যুপরি ধর্ষণ করে। গণধর্ষণের পর আসামিরা হুমকি দেয়। বিষয়টি কাউকে জানালে তারা ইন্টারনেটে ছেড়ে দেবে বলেও হুমকি দেয়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে পাশবিক নির্যাতনের পর পর মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে ধর্ষকেরা মেয়েটিকে ক্ষেতের মধ্যে ফেলে রেখে বীরদর্পে চলে যায়।

রাত ১২টার দিকে স্থানীয়রা ভূক্তভোগী মেয়েটিকে উদ্ধার করে। পরে পুলিশ এসে মেয়েটিকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। মেয়টির শরীরে নানা জায়গায় ক্ষত বিক্ষত হয়ে গেছে। ঘটনার পর থেকে ধর্ষকেরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে বলে জানা গেছে।

নড়াইল সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান বাবু বলেন, ধর্ষণের শিকার মেয়েটির আলামত সংগ্রহের জন্য সব ধরনের পরীক্ষা করা হয়েছে। দুই তিন দিনের মধ্যেই  রিপোর্ট পাওয়া যাবে আশা করি।

গণধর্ষণের ঘটনায় সচেতনমহলসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠন অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারসহ যথাযথ বিচার দাবি করেছেন। ভূক্তভোগী মেয়েটি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ব্রাহ্মণনগর গ্রামে নানাবাড়িতে থেকে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ালেখা করছে।

এ ব্যাপারে নড়াইল সদর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, বুধবার দুপুরে নড়াইল সদর হাসপাতালে মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এ ধরনের নিকৃষ্টকাজের জন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা