kalerkantho


কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কারসাজি

এমপির ভাইয়ের দাপট স্কুলে!

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম   

১৯ জুন, ২০১৮ ২৩:১৮



এমপির ভাইয়ের দাপট স্কুলে!

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বড় মাদারটিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাজেদা খাতুনকে লাঞ্ছিত ও স্কুল থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টাসহ সন্ত্রাসীমূলক ঘটনার জন্ম দিয়েছে স্থানীয় (কুড়িগ্রাম-৪) এমপির আতাউর রহমান। এ সময় ওই শিক্ষক স্কুলে না আসার হুমকিও দিয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পেয়ে সাজেদা খাতুন ওই স্কুলে যোগদান করেন গত ১১ জুন। সরকারি ছুটি শেষে আজ নতুন কর্মস্থলে উপস্থিত হন সাজেদা খাতুন। কিছুক্ষণ পর এমপির ভাই আতাউর রহমান দলবল নিয়ে ওই স্কুলে হাজির হয়ে জানান এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা। তিনিই এই স্কুলে প্রধান শিক্ষক পদে থাকবেন। এ সময় আগে যোগদান করা প্রধান শিক্ষক সাজেদা খাতুন তার যোগদানপত্র ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশনাপত্র দেখালে আতাউর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। বলেন, ‘ওই কাগজপত্র নিয়ে আপনি পানি খান। এ স্কুলে আপনি আসতে পারবেন না। আর যদি আসেন তাহলে পরিণতি ভয়ানক হবে।’ এমন অভিযোগ করেন প্রধান শিক্ষক সাজেদা খাতুন।

রৌমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন জানান, নিয়ম অনুসারে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক হলেন- সাজেদা খাতুন। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে তিনি গত ১১ জুন যোগদান করেছেন। এরপর পদোন্নতি পাওয়া আয়শা সিদ্দিকা নামের শিক্ষক প্রভাব খাটিয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে দিয়ে একটা সংশোধনী আদেশ আনেন। যা শিক্ষা নীতিমালা বহির্ভূত। আমি আয়শা সিদ্দিকাকে বলেছি আপনার কর্মস্থল হলেন টাঙ্গারপাড়া সরকারি প্রাথধমিক বিদ্যালয়ে। আপনি জোর করে এ স্কুলে আসতে চান কেন। এ কথা বলার পর আমাকেও হুমকি দিয়েছে এমপি’র ভাই আতাউর রহমান।

অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় এমপি রুহুল আমিনের ভাই আতাউর রহমান উপজেলার চুলিয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক। ক্ষমতার প্রভাবে তিনি গত ৩ বছর ধরে স্কুলে উপস্থিত থাকেন না। তবে সরকারি বেতনভাতা ঠিকই উত্তোলন করেন। স্কুল ফাঁকি দেয়ার কারণে উপজেলা শিক্ষা কমিটি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুসারে পদায়নকৃত প্রধান শিক্ষককে নিজস্ব ইউনিয়নের নিকটবর্তী স্কুলে শূন্যপদে যোগদান দিতে হবে। এই শর্ত ভঙ্গ করলে বা প্রাপ্ত অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পদায়নকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সরকারি এই আদেশ না মেনে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওই এমপির ভাইয়ের স্ত্রীকে অন্যায়ভাবে বড় মাদারটিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করেছেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এমপি’র ভাই আতাউর রহমান বলেন, ‘জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আমার স্ত্রীকে বড় মাদারটিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক পদে বদলি করেছে। সেখানে আমি স্ত্রীকে নিয়ে স্কুলে গিয়েছি। আমি কাউকে হুমকি-দামকি দেইনি।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরী বলেন, ‘একটু সমস্যা হয়েছে। এটা আমি ঠিক করে দিচ্ছি। সাজেদা খাতুনই প্রধান শিক্ষক হিসেবে বলবত থাকবে বড় মাদারটিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। আর আয়শা সিদ্দিকাকে দেয়া হবে টাঙ্গারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।’



মন্তব্য