kalerkantho

শনিবার । ১০ আশ্বিন ১৪২৮। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৭ সফর ১৪৪৩

চিকিৎসার অভাবে পায়ে পচন ধরেছে যুবলীগ নেতা রমজানের

মোশাররফ হোসেন, সাতক্ষীরা   

২১ জুলাই, ২০১৬ ১৯:০৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চিকিৎসার অভাবে পায়ে পচন ধরেছে যুবলীগ নেতা রমজানের

‘আমার স্বামী মাছের ঘের করতো। মাছের খাবার কিনতে গিয়ে ৩০ হাজার টাকা দেনা হয়ে গিয়েছিল সে। ওই টাকা শোধ করা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই মধ্যে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে কলারোয়া থানার এসআই পিন্টু লাল দাস তার পায়ে গুলি করে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়েছে। তার ঠিকমত চিকিৎসাও হচ্ছে না। আমার শিশু সন্তানদের বাপের পায়ে পচন ধরেছে। আমারতো আর কেউ নেই। কোলের শিশু ছেলে মেয়ে নিয়ে পথে বসা ছাড়া কোন উপায় নেই আমার।

কথাগুলো বলতে বলতেই কেঁদে ফেলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বল্লী ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সম্পাদক ও ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্য রমজান আলী মোল্যার স্ত্রী বুলবুলি খাতুন।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টায় সন্তানদের সাথে নিয়ে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বুলবুলি খাতুন তার স্বামীর পায়ে গুলির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানান।

এ সময় লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, মাছের খাদ্য কিনতে গিয়ে সদর উপজেলার রায়পুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের কাছে ৩০ হাজার টাকা দেনা হয়েছিল স্বামী রমজান আলী মোল্যা। ওই টাকা আদায় করতে তাকে নানাভাবে হুমকি-ধামকি দেওয়া হতো। গত ২৪ মার্চ বেসরকারি সংস্থা সুশীলন থেকে ১২ হাজার পাঁচশ টাকা ঋণ নিয়ে বাড়ি আসার সময় রায়পুর গ্রামের শফিকুল ও তার সঙ্গী শাহেদ হোসেন রাশেদ, তাজউদ্দিন ও একড়া গ্রামের শহীদুল তার কাছ থেকে ওই টাকা কেড়ে নেয় এবং আরও ১৭ হাজার পাঁচশ টাকা আদায় করার জন্য তাকে ঘরের মধ্যে আটকে রাখে।

পরে আমাদের গ্রামের মেম্বর সাজ্জাত হোসেন ও এলাকার লোকজন গিয়ে টাকা পরিশোধ করা হবে মর্মে মুচলেকা দিয়ে আমার স্বামীকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসে। ওই টাকা কেড়ে নেওয়ায় স্বামী রমজান মোল্যা নিঃস্ব হয়ে পড়ে। পরে সে সরকারের একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প থেকে ২৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে একটি নছিমন ক্রয় করে। সেই থেকে নছিমন চালিয়েই সে আমাদের ভারন পোষনসসহ সংসার জীবন নির্বাহ করতো।

গত ১৩ জুলাই কলারোয়া থানা পুলিশ রায়পুর গ্রামের শফিকুল ও শাহিদ হোসেন রাশেদকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে। একই সময়ে ঘরচালা গ্রামের কবির হোসেন ও শাহিন হোসেনকেও গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের মোবাইল থেকে ফোন করে স্বামী রমজান মোল্যাকে ডেকে নেওয়া হয়। রমজান বাড়ি থেকে সেখানে যাওয়া মাত্রই তার হাতে হাতকড়া পরিয়ে চোখে কালো কাপড় বাধা হয়। সেখান থেকে তাকে কলারোয়া উপজেলার একড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে নিয়ে পায়ের সাথে কাচ রেখে পর পর তিনটি গুলি করা হয়। ওই আটক ঘরচালা গ্রামের কবির হোসেন ও শাহীন হোসেনকে সাক্ষী করে পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, মাছের খাদ্য ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম, শাহিদ হোসেন রাশেদ, কবির হোসেন ও শাহিন হোসেনই প্রকৃত অস্ত্র ব্যবসায়ী। তাদের গ্রামের সকলেই এটা জানে। তাদের নামে ধর্ষণ, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলাও রয়েছে। ওইসব মামলায় তারা জেলও খেটেছেন। অন্যদিকে আমার ভ্যান চালক নিরিহ স্বামী রমজান মোল্যার নামে থানায় একটি জিডিও নেই। সে নছিমন চালিয়ে সংসার চালায়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, এসআই পিন্টু লাল দাস শফিকুলের বাড়িতে নিয়মিত খাওয়া-দাওয়া করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বুলবুলি খাতুন তার স্বামীর চিকিৎসা হচ্ছে না উল্লেখ করে বলেন, তাকে খুলনা ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে বিনা চিকিৎসায় তার পায়ে পচন ধরেছে। দশ হাজার টাকা না দিলে তার অপারেশন হবে না। যথাযথ চিকিৎসা করা না হলে তার পা’ কেটে ফেলতে হতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার স্বামীর পায়ে গুলির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানিয়ে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।



সাতদিনের সেরা