kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

নীলফামারীর চিলাহাটি সীমান্তে দুই বাংলার মিলন মেলা

তারকাটার বেড়া ছুইতে দিলনা আপনজনকে

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি :   

২৬ নভেম্বর, ২০১৫ ২১:৫৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নীলফামারীর চিলাহাটি সীমান্তে দুই বাংলার মিলন মেলা

৩০ বছর পর দেখা হলো, সামান্য কথা হলো। কিন্তু তার কাটার ব্যবধানে নানা-নানী নাতিকে ছুয়ে আদর করতে পারলো না। একইভাবে নাতি স্কুল শিক্ষক তসকিনুল সরকার (৪৫) পারলেন নানা-নানীর হাত ধরতে।

নীলফামারীর চিলাহাটি সীমান্তে বৃহস্পতিবার চতুর্থ দফায় পঞ্চগড়ের বিলুপ্ত ছিটমহলের ভারতীয় নাগরিকদের ভারতে পাঠানোর সময় ভারত-বাংলাদেশের চিলাহাটি-হলদিবাড়ি সীমান্তে ঘটে গেল হাজারো মানুষের মিলন মেলা। এসময় তার কাটার এপারে দাঁড়িয়ে  ওপারে স্বজনদের দেখা আর কথা বলার সুযোগ পেলেও কেউ পানেরনি কাউকে ছুইতে।

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার জোড়াবাড়ি ইউনিয়নের মিরজাগঞ্জ গ্রামের স্কুল শিক্ষ তাসকিনুল সরকার জানান, নানা আমিনার রহমানের (৭৫) বাড়ি ভারতের হলদিবাড়ি থানার হেমকুমারী  গ্রামে। তাদের (নানা নাতির) বাড়ির দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার মাত্র। কিন্তু সীমান্তের একটি তার কাটার বেড়া তাদের দূরত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ।

তাসকিনুল বলেন,‘৩০ বছর আগে নানা, নানিকে দেখেছিলাম। তাদের দেখার জন্য মনটা বড়ই ছটফট করে। বিলুপ্ত ছিটমহলের নাগরিকদের ভারতে পাঠানোর সময় গত চার দিন ধরে সীমান্তে এসে দাঁড়িয়ে ছিলাম। অবশেষে হঠাৎ দেখা পেলাম বৃহস্পতিবার দুপুরে তারকাটার বেড়ার পাশে। কিন্তু তার কাটার বেড়ার বাধায় ছুইতে পারিনি নানি আর নানাকে।

স্বজনদের সঙ্গে দেখা করে এসে ডোমার উপজেলার মিরজাগঞ্জ গ্রামের রশিদুল ইসলাম বলেন, ‘এক ঘন্টা দেখা করার সুযোগ ছিলো। এসময় দুই দেশের হাজারো মানুষের সেখানে মিলন মেলা ঘটে।’

বুহস্পতিবার ওই সীমান্ত দিয়ে পঞ্চগড় জেলার বিলুপ্ত দহলা খাগড়াবাড়ী ও দইখাতা ছিট মহলের ২১ পরিবারের ১০৫ জন সদস্য স্থায়ীভাবে ভারতে বসবাসের জন্য যান। এ সময় দুই দেশের অভ্যন্তরে থাকা স্বজনরা ক্ষণিকের জন্য তাদের আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান।

দুই দিকে হাজারো মানুষের ভীড় মাঝখানে কাঁটা তাঁরের বেড়া। এরই মাঝে দেখা ও কথা হয় ভারত ও বাংলাদেশের আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে। এ সময় দীর্ঘদিন পর স্বজনের দেখা পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকে। বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষী বিজিবি ও ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বিএসএফ কর্তৃপক্ষ সামান্য ওই সময়ের মিলন মেলার সুযোগ দেন।



সাতদিনের সেরা